Historical Speech of Seventh March of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman
একটি ভাষণ বা বক্তৃতা পথহারা জাতিকে নিয়ে যেতে পারে আলোর পথে। পৌঁছে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। যে কোনো আদর্শ ও ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভাষণ বা বক্তৃতার কোনো বিকল্প নেই। ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ সংগঠনসহ প্রতি ক্ষেত্রে সফল নেতাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে অবিস্মরণীয় এক বা একাধিক ভাষণ। কোনো কোনো ভাষণ এতটাই গতিময় যার তাৎপর্য কোনো দিন ফুরায় না, স্থায়ী আসন করে নেয় ইতিহাসের পাতায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭মার্চের ভাষণ তারই একটি। এই ভাষণ গোটা বাঙালি জাতিকে জাগ্রত করেছিল, বাহুতে শক্তি যুগিয়েছিল, স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিযে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল।
পাকিস্তানি সরকারের সীমাহীন বৈষম্য, শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) বাঙালি জাতির উদ্দেশ্যে প্রায় দশ লক্ষ লোকের এক বিশাল জনসভায় সর্বকালের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ প্রদান করেন, যা ইতিহাসে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নামে প্রসিদ্ধ। এ ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসের যেমন এক অনন্য দলিল তেমনি বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে। ২ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারা বাংলায় পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ চলছিল। তৎকালীন পাকিস্তানি জনগণই শুধু নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্ব অধীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে ছিল, বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে কী বলেন? পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য এ ছিল অন্তিম মুহূর্ত। অন্যদিকে স্বাধীনতার চেতনায় প্রদীপ্ত বাঙালি জাতির জন্য এ ভাষণ ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের নাগপাশ ছিন্ন করে জাতীয় মুক্তি বা কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত সংগ্রামের সূচনা।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ
ভাইয়েরা আমার,
আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে ও আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল অ্যাসম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনীতি, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সাথে বলতে হয় ২৩ বছরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারিনি। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খান 'মার্শাল-ল' জারী করে ১০ বছর 'পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে ৭ জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন-গণতন্ত্র দেবেন, আমরা মেনে নিলাম। তারপর অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সাথে দেখা করেছি।
আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমি বললাম, ঠিক আছে আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম, অ্যাসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো-এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজন যদিও সে হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।
ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন যে, আলোচনার দরজা বন্ধ নয়, আরো আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করলাম- আপনারা আসুন, বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসে তাহলে কসাইখানা হবে অ্যাসেমরি। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলা হবে, যদি কেউ অ্যাসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচী পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, অ্যাসেম্বলি চলবে। তারপর হঠাৎ ১ তারিখে অ্যাসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হলো।
ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হিসেবে অ্যাসেম্বলি ডেকেছিলেন। আমি বললাম, আমি যাবো। ভুট্টো বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম থেকে এখানে আসলেন। তারপর হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্ধ করার পর এদেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।
আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করুন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সবকিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপনার ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো, তারা শান্তি-পূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য স্থির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো। কি পেলাম আমরা? আমরা পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরিব-দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে-তার বুকের উপর হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানে সংখ্যাগুরু-আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
টেলিফোনে আমার সাথে তার কথা হয়। তাকে আমি বলেছিলাম, জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কীভাবে আমার গরিবের উপর, আমার মানুষের বুকের উপর গুলি করা হয়েছে। কী করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, কী করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি নাকি স্বীকার করেছি ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স হবে।
আমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছি কীসের রাউন্ড টেবিল, কার সাথে বসবো? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে, তাদের সাথে বসবো? হঠাৎ আমার সাথে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টার গোপন বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন তাতে সমস্ত দোষ তিনি আমার উপর দিয়েছেন, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন।
ভাইয়েরা আমার,
২৫ তারিখে অ্যাসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঐ শহীদের রক্তের উপর পাড়া দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। অ্যাসেম্বলি কল করেছেন, আমার দাবি মানতে হবে। প্রথমে সামরিক আইন 'মার্শাল-ল' Withdraw করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত যেতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা অ্যাসেম্বলিত বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে অ্যাসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না।
আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাছারি, আদালত-ফৌজদারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেজন্য সমস্ত অন্যান্য যে জিনিসগুলো আছে, সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিক্সা, গরুর গাড়ি, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে-শুধু সেক্রেটারীয়েট, সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি-গভর্নমেন্ট দপ্তর, ওয়াপদা, কোনোকিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপর যদি বেতন দেয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়-তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু-আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।
'আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর তাদের পারি সাহায্য করতে চেষ্টা করব। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছে দেবেন। আর এই ৭ দিনের হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে, প্রত্যেক শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছে দেবেন। সরকারী কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হচ্ছে, ততদিন খাজনা ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো-কেউ দেবে না। শুনুন, মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায়- হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি, অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই, তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়।
মনে রাখবেন, রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারীরা যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোন বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশনে আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। ২ ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মাইনেপত্র নিতে পারে। পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বিদেশের সাথে দেয়ানেয়া চলবে না।
কিন্তু যদি এই দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝেসুঝে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
HISTORIC SPEECH OF THE FATHER OF THE NATION, BANGABANDHU SHEIKH MUJIBUR RAHMAN OF THE 7TH MARCH, 1971
My brothers,
I have come before you today with a heart laden with sadness. You are aware of everything and know all. We have tried with our lives. And yet the sadness remains that today, in Dhaka, Chittagong. Khulna. Rajshahi and Rangpur the streets are soaked in the blood of my brothers. Today the people of Bengal desire emancipation, the people of Bengal wish to live, the people of Bengal demand that their rights be acknowledged.
What wrong have we committed? Following the elections, the people of Bangladesh entrusted me and the Awami League with the totality of their electoral support. It was our expectation that the Parliament would meet, there we would frame our Constitution, that we would develop this land, that the people of this country would achieve their economic, political and cultural freedom. But it is a matter of grief that today we are constrained to say in all sadness that the history of the past twenty three years has been the history of a persecution of the people of Bengal, a history of the blood of the people of Bengal. This history of the past twenty three years has been one of the agonising cries of men and women.
The history of Bengal has been a history where the people of this land have made crimson the streets and highways of this land with their blood. We gave blood in 1952; in 1954, we won the elections and yet were not permitted to exercise power. In 1958, Ayub Khan imposed Martial Law and kept the nation in a state of slavery for ten long years. On 7 June 1966, as they rose in support of the Six-Point movement, the sons of my land were mown down in gunfire. When Yahya Khan took over once Ayub Khan fell in the fury of the movement of 1969, he promised that he would give us a Constitution, give us democracy. We put our faith on him. And then history moved a long way, the elections took place. I have met President Yahya Khan. I appealed to him, not just as the majority leader in Bengal but also as the majority leader in Pakistan, to convene the National Assembly on 15 February. He did not pay heed to my appeal. He paid heed to Mr. Bhutto. And he said that the assembly would be convened in the first week of March. I went along with him and said we would sit in the parliament. I said that we would discuss matters in the Assembly. I even went to the extent of suggesting that despite our being in a majority, if anyone proposes anything that is legitimate and right, we would accept his proposal.
Mr. Bhutto came here. He held negotiations with us, and when he left, he said that the door to talk had not closed, that more discussions would take place. After that, I spoke to other political leaders. I told them to join me in deliberations so that we could give shape to a Constitution for the country. But Mr. Bhutto said that if members elected from West Pakistan came here, the Assembly would turn into a slaughter house, an abattoir. He warned that anyone who went to the Assembly would end up losing his life. He issued dire warnings of closing down all the shop from Peshawar to Karachi if the Assembly Session went ahead. I said that the Assembly Session would go ahead. And then, suddenly, on the first of March the Assembly Session was put off. Mr. Yahya Khan, in exercise of his powers as president, had called the National Assembly into Session; and I had said that I would go to the Assembly. Mr. Bhutto said he would not go. Thirty five members came here from West Pakistan. And suddenly the Assembly was put off. The blame was placed squarely on the people of Bengal, the blame was put at my door. Once the Assembly meeting was postponed, the people of this land decided to put up resistance to the act. I enjoined upon them to observe a peaceful general strike. I instructed them to close down all factories and industrial installations. The people responded positively to my directives. Through sheer spontaneity they emerged on to the streets. They were determined to pursue their struggle through peaceful means.
What have we attained? The weapons we have bought with our money to defend the country against foreign aggression are being used against the poor and down-trodden of my country today. It is their hearts the bullets pierce today. We are the majority in Pakistan. Whenever we Bengalis have attempted to ascend to the heights of power, they have swooped upon us.
I have spoken to him over telephone. I told him, "Mr. Yahya Khan, you are the President of Pakistan. Come, be witness to the inhuman manner in which the people of my Bengal are being murdered, to the way in which the mothers of my land are being deprived of their sons." I told him, "come, see and dispense justice". But he construously said that I had agreed to participate in a Round Table Conference to be held on 10 March. I have already said a long time ago, what RTC? With whom do I sit down to talk? Do I fraternise with those who have taken the blood of my people? All of a sudden, without discussing matters with me and after a secret meeting lasting five hours, he has delivered a speech in which he has placed all responsibility for the impasse on me, on the people of Bengal.
My brothers.
They have called the Assembly for the twenty-fifth. The marks of blood have not yet dried up. I said on the tenth that Mujibur Rahman would not walk across that blood to take part in a Round Table Conference. You have called the Assembly. But my demands must be met first. Martial Law must be withdrawn. All military personnel must be taken back to the barracks. An inquiry must be conducted into the manner in which the killings have been caused. And power must be transferred to the elected representatives of the people. And only then shall we consider the question of whether or not to sit in the National Assembly. Prior to the fulfilment of our demands, we cannot take part in the Assembly.
I do not desire the office of Prime Minister. I wish to see the rights of the people of this country established. Let me make it clear, without ambiguity, that beginning today, in Bangladesh, all courts, magistracies, government offices and educational institutions will remain closed for an indefinite period. In order that the poor do not suffer, in order that my people do not go through pain, all other activities will continue, will not come within the ambit of the general strike from tomorrow. Rickshaws, horse carriages, trains and river vessels will ply. The Supreme Court, High Court, Judge's Court, semi-government offices, WAPDA.-nothing will work. Employees will collect their salaries on the twenty-eighth. But if the salaries are not paid, if another bullet is fired, if any more of the people are murdered, it is my directive to all of you: turn every house into a fortress, resist the enemy with everything you have. And for the sake of life, even if I am not around to guide you, direct you, close off all roads and pathways.
We will strive them into submission. We will submerge them in water. You are our brothers. Return to your barracks and no harm will come to you. But do not try to pour bullets into my heart again. You cannot keep seventy five million people in bondage. Now that we have learnt to die, no power on earth can keep us in subjugation.
subjugation.
For those who have embraced martyrdom, and for those who have sustained injuries we in the Awami League will do all we can to relieve their tragedy. Those among you who can please lend a helping hand through contributing to our relief committee. The owners of industries will make certain that the wages of workers who have taken part in the strike for the past week are duly paid to them. I shall tell employees of the government, my word must be heard, and my instructions followed. Until freedom comes to my land, all taxes will be held back from payment. No one will pay them. Bear in mind that the enemy has infiltrated our ranks to cause confusion and sow discord among us. In our Bengal, everyone, be he Hindu or Muslim, Bengali or non-Bengali, is our brother. It is our responsibility to ensure their security. Our good name must not be sullied.
And remember, omployees at radio and television, if radio does not get our message across, no Bengali will go to the radio station. If television does not put forth our point of view, no Bengali will go to television. Banks will remain open for two hours to enable people to engage in transactions. But there will be no transfer of even a single penny from East Bengal to West Pakistan. Telephone and telegram services will continue in East Bengal and news can be despatched overseas.
But if moves are made to exterminate the people of this country, Bengalis must act with caution. In every village, every neighbourhood, set up Sangram Parishad under the leadership of the Awami League. And be prepared with whatever you have. Remember: Having mastered the lesson of sacrifice, we shall give more blood. God willing, we shall free the people of this land. The struggle this time is a struggle for emancipation. The struggle this time is a struggle for independence.
Joi Bangla!
৭ মার্চের ভাষণের প্রভাব ও গুরুত্ব
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দলিল। এটি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণের একটি। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ৭ মার্চের ভাষণের প্রভাব ও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানের ফলে অসহযোগ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ঢাকার চারদিকে স্বাধীনতা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। একটি সার্বভৌম দেশের মধ্যে আর একটি স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। কাজেই ৭মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল একটা মাইলফলক। সেদিন বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা না দিলে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়তবা পারত না। তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হয়তাবা বসে থাকত, আর স্বাধীনতা হতো সুদূরপরাহত। সুতরাং ৭ মার্চের ভাষণ একটি আলোর বিচ্ছুরণ। যে আলোয় পথ দেখেছিল পথ হারা বাঙালি জাতি। নিম্নে ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্লেষণধর্মী কয়েকটি গুরুত্ব তুলে ধরা হলো-
১. স্বাধীনতার ঘোষণা বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে বস্তুত স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। সমগ্র বাঙালি জাতি এই দিনে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু তাঁর ১৯ মিনিটের বক্তৃতায় 'মুক্তি' ও স্বাধীনতা শব্দ দুটি অনেকবার উচ্চারণ করেছেন। ভাষণের ৪র্থ বাক্যে তিনি বলেন, "আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়।" অষ্টম বাক্যে গিয়ে বলেন, "এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। এভাবে মুক্তি ও স্বাধীনতা কথা দুটি বঙ্গবন্ধু আপন করে নিয়েছেন এবং তা বাঙালির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। যা স্বাধীনতা ঘোষণারই নামান্তর। ভাষণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ভেসে ওঠে স্বাধীনতার অমোঘ বাণী "রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দিব, তবু দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" এ ভাষণের প্রতিটি শব্দের মধ্যে স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ফলগুধারার মতো উদ্ভাসিত রয়েছে।
৩. মরণপণ সংগ্রামের প্রত্যয়দীপ্ত আহ্বান: বঙ্গবন্ধু তাঁর এ ভাষণে বাংলার জনগণকে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে
সাবধান থাকার পরামর্শ দেন এবং শত্রু মোকাবেলার যে আহ্বান জানান, তা বাঙালিদের জীবন বাজি রেখে মরণপণ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।
৪. আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের প্রত্যয়দীপ্ত ভাষণ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ভাষণের গুরুত্ব ও লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলকে পূর্ব বাংলার জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন প্রদানে আগ্রহী করে তোলে।
বিশ্বের ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণ একটি স্থান দখল করে আছে। নরওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় পৃথিবীর সাত বিখ্যাত ব্যক্তির সাত বিখ্যাত ভাষণের মধ্যে উক্ত ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর The Memory of the World International Register এ মানব জাতির দালিলিক ঐতিহ্যের অন্যতম ডকুমেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যা গোটা বাঙালি জাতির গৌরবের অহংকার। পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে থাকা নথিগুলো সংরক্ষণের লক্ষ্যে UNESCO ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে Memory of the World International Register কর্মসূচি চালু করে। এর রেজিস্টারে ১৯৯৭ থেকে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ৪২৭টি ঐতিহাসিক দলিলও সংগ্রহ স্থান পেয়েছে। এ রেজিস্টারে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণটি বিশ্বের প্রথম ও সর্বশেষ মুখে উচ্চারিত কালজয়ী মহাকাব্য। এ ভাষণে রয়েছে রাজমাত্রিক বিশেষত্ব। মাত্র ১৮ মিনিট ভাষণে পুরো ক্যানভাস তুলে ধরেন।
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের সাথে তুলনামূলক পৃথিবীর অন্য বিখ্যাত ছয়টি ভাষণ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের সাথে তুলনামূলক পৃথিবীর অন্য বিখ্যাত ছয়টি ভাষণ এখানে তুলে ধরা হলো:
১। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা (১৯১৮-২০১৩) তার অপূর্ব বক্তৃতা দ্বারা উজ্জীবিত করেন পৃথিবীর সব শোষিত মানুষকে। তার অনেক ভাষণের মধ্যে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ২১ সেপ্টেম্বর আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে বক্তৃতা স্মরণীয় হয়ে আছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে। বক্তৃতাটি তিনি শুরু করেন ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর চলমান শ্বেতাঙ্গদের নির্যাতনের কথা দিয়ে। স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন তার অমর বাণী, 'স্বাধীনতা অর্জনের কোন সহজ পথ নেই'।
২। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ বিরোধী আর এক অবিসংবাদিত নেতা মার্টিন লুথার কিং (১৯২৯-১৯৬৮)। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনের স্বাধীনতাকামী জনতার বিশাল সমাবেশে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের মতোই চির অম্লান। এ ভাষণে প্রথমে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করলেন স্বাধীনতার জন্য আয়োজিত মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশে যোগদানের সুযোগ পাওয়ার জন্য। এর পর তার বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হলো, “ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোন প্রাপ্তি নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত নিগ্রোরা পুলিশের বর্ণনাতীত নির্যাতনের শিকার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোন প্রাপ্তি নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের শিশুরা কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য লেখা সাইনবোর্ড দেখবে। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন এই জাতি জাগ্রত হবে এবং মানুষের এই বিশ্বাসের মূল্যায়ন করবে, সব মানুষ জন্মসূত্রে সমান।”
৩। ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ ও ভারতের জাতির জনক মোহনদাস করমচাদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী-১৮৬৯-১৯৪৮)। হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, ত্যাগ আর ভালোবাসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ইতিহাসে ঠাঁই হয়ে আছেন। ব্রিটিশদের ভারতবর্ষ থেকে বিদায় এবং ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ আগস্ট তৎকালীন বোম্বের গাওলিয়া ট্যাক ময়দানে বক্তৃতায় ব্রিটিশদের ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'ব্রিটিশরা ভারত ছাড়'।
৪। ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল (১৮৭৫-১৯৫৫) একজন রাজনীতিবিদ হয়েও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। জীবনে তিনি অসংখ্য বক্তৃতা দিলেও ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ মে-এর ভাষণটি। যুদ্ধে সবার সমর্থন ও সহায়তা কামনা করে তিনি উচ্চারণ করেন, “দেওয়ার মত কিছুই নেই আমার, আছে শুধু রক্ত, কষ্ট, অশ্রু আর ঘাম। আমাদের নীতি হচ্ছে, জল, স্থল ও আকাশ পথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, আমাদের সবটুকু সামর্থ্য আর ঈশ্বর প্রদত্ত শক্তি নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে এক নিষ্ঠুর দানবের বিরুদ্ধে। আর যদি প্রশ্ন কর আমাদের লক্ষ্য কী? উত্তর একটাই 'বিজয়'। পথ যতই দীর্ঘ কিংবা দুর্গম হোক বিজয় ছাড়া আমাদের বাঁচার কোন পথ নেই।”
৫। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শ রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের (১৮০৯-১৮৬৫) ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১-৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পেনসেলভেনিয়ার গেটিসবার্গে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯ নভেম্বর উক্ত মৃত্যুর স্মরণসভায় তিনি মাত্র ৩ মিনিটের বক্তৃতায় ইতিহাস গড়েন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্মরণ করেন তার পূর্ব পুরুষদের, যারা ৪৭ বছর পূর্বে স্বাধীনতা ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকা মহাদেশের গোড়াপত্তন করেছিলেন। মাঝে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে গৃহযুদ্ধে ক্ষয়-ক্ষতির করুণ আর্তনাদ। আর বক্তৃতা শেষ করেন একটি বাক্য দিয়ে, যা গণতন্ত্রের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা হিসেবে আজও বিবেচিত, "জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার পৃথিবী থেকে কখনো হারিয়ে যাবে না" (This Government of the people, by the people and for the people will never perish from the earth)!
৬। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপরাজ্য ভার্জিনিয়ার শাসক প্রেট্রিক হেনরী রিমেন্ডের সেইন্ট চার্চে ১৭৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করেছিলেন, "জীবন কি এতটাই প্রিয়, আর শান্তি কি এতই মধুর যে, শিকল আর দাসত্বের দামে তাকে কিনতে হবে? আমি জানিনা অন্যরা কোন পথ বেছে নেবে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বলব, আমাকে স্বাধীনতা দাও, নয়তো মৃত্যু।"
জাতীয় চার নেতার সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত
সৈয়দ নজরুল ইসলাম (১৯২৫-১৯৭৫) বঙ্গবন্ধুর অন্যতম বিশ্বস্ত সহকর্মী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ
নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯২৫ সালে ময়মনসিংহ জেলার (বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা) যশোদলে। তাঁর মাতা নুরুন্নেসা খাতুন এবং পিতা সৈয়দ আব্দুল রহিম। তিনি ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঐ বছরই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ (১৯৪৮)-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন।
তিনি ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারের আয়কর অফিসার হিসেবে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে ইতিহাসের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে 'ল' পাশ করে ময়মনসিংহ আদালতে আইন ব্যবসায় শুরু করেন। ১৯৫৭সালে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালের ৮ মার্চ কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল থাকেন। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবিতে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন শুরু হলে আইয়ুব সরকার আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। এ সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৭ নির্বাচনি এলাকা থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেন। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে (শপথ গ্রহণ ১৭ই এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হন রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম হন উপ-রাষ্ট্রপতি। শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে (পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীনের পর ২২ শে ডিসেম্বর ১৯৭১ সরকার মুজিবনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৭২ সালের ৯ই এপ্রিল আওয়ামী লীগে পার্লামেন্টারি পার্টির সহকারী নেতা নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একদল বিপথগামী সৈনিকের হাতে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে সামরিক আইন জারি হয়। খোন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হন। এর ফলে মুজিব সরকারের পতন ঘটে এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম মন্ত্রিত্ব হারান। ২৩ শে আগস্ট তিনি গ্রেফতার হন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় অনধিকার প্রবেশকারী সশস্ত্র বাহিনীর কতিপয় ব্যক্তির হাতে ৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। তার নিহতের দিন ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালন করা হয়। তিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম।
তাজউদ্দীন আহমদ (১৯২৫-১৯৭৫): বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সহকর্মী তাজউদ্দীন আহমদ
১৯২৫ সালের ২৩শে জুলাই গাজিপুর জেলার কাপাশিয়ার মধ্যবিত্ত এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলবি মো. ইয়াসিন খান এবং মাতা মেহেরুননেসা খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৬ সালে তিনি অর্থনীতিতে বিএ অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি গঠিত পাকিস্তান ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ এবং ১৯৬৪ সালে কারাগারে থেকে 'ল' পাশ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে অংশ নেন। পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ নেন। তিনি 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' (১৯৪৮) এবং সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ (১৯৫২) উভয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের দায়ে গ্রেফতার ও কারানির্যাতন ভোগ করেন। তিনি পূর্ব-পাকিস্তান যুবলীগ (এপ্রিল ১৯৫১) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ঐ বছরই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪-র সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে কাপাসিয়া অঞ্চল থেকে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। এ সময় তাজউদ্দিন আহমদ গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৯ সালে মুক্তি লাভকরেন। ১৯৬৪ সালের ৮ই মার্চ কাউন্সিল সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে যোগ দেন। এ সম্মেলনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৬৬ সালের ১৯ শে মার্চ কাউন্সিল সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রায় ৬ বছর ধরে এই পদে থেকে বঙ্গবন্ধুর সাথে ৬ দফাসহ অন্যান্য আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৬৬ সালে দেশরক্ষা আইনে গ্রেফতারের পর ১৯৬৯-এ মুক্তি লাভের পর গণঅভ্যুথানে সক্রিয় অংশ নেন। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৫ আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনে অন্যতম পরিচালক ছিলেন তিনি।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে বসে তিনি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুজিবনগর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তিনি তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সাথে বৈঠক করেন। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে (শপথ গ্রহণ ১৭ই এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হন রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম হন উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তিনি হন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক। মুক্তিবাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ, যুদ্ধ পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের ব্যাপারে তাজউদ্দিন আহমদের কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা সর্বজন জ্ঞাত। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩-এর নির্বাচনে তিনি ঢাকা-২২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এসময় ব্যাংক, বিমা, বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ক্ষেত্রে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একদল বিপথগামী সৈনিকের হাতে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে সামরিক আইন জারি হয়। খোন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হন। এর ফলে মুজিব সরকারের পতন ঘটে। সৈয়দ নজরুল ইসলামের সাথে ২৩ শে আগস্ট ১৯৭৫ তিনি গ্রেফতার হন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় অনধিকার প্রবেশকারী সশস্ত্র বাহিনীর কতিপয় ব্যক্তির হাতে ৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। তার নিহতের দিন ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালন করা হয়। তিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম।
ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী (১৯১৯-১৯৭৫): ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ১৯১৯ সালের ১৬ ই জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ
জেলার কাজিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হরফ আলী সরকার এবং মাতার নাম বেগম রওশন আরা। তিনি ১৯৪১ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৪৫ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং 'ল'পাস করে পাবনা আদালতে আইন ব্যবসায় শুরু করেন। তিনি পাবনা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচিত হন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত তিনি পাবনা জেলার মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি এবং একই সাথে লীগের গার্ড বাহিনীর পাবনা জেলা শাখার ক্যাপ্টেন হন। মূলত তখন থেকেই তাঁর নামের সাথে ক্যাপ্টেন কথাটি যুক্ত হয়।
১৯৫১ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করে আমৃত্যু আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে বহাল থাকেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে পাবনা জেলার নেতৃত্ব দেন এবং কারাভোগ করেন। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পূর্ববঙ্গ আইনসভার সদস্য হন। ১৯৫৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ-কংগ্রেস দলীয় পূর্ববঙ্গ কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করলে নিরাপত্তা আইনে তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে মুক্তি লাভ করেন। ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলনের তিনি ছিলেন অন্যতম রূপকার। ১৯৬৭ সালের ১২ই নভেম্বর আওয়ামী লীগের অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ১৭ই ডিসেম্বর নির্বাচনে পাবনা-১ আসন থেকে পূর্ব-পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২৫শে মার্চের গণহত্যা ও বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতারের পর তিনি অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ভারতে গমন করেন এবং যোগাযোগ হয় অন্যান্য নেতাদের সাথে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালে ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে (শপথ গ্রহণ ১৭ই এপ্রিল) তিনি অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের অর্থ, শিল্প, প্রাকৃতিক সম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ পাবনা-১ আসন থেকে তিনি পুনরায় জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে সংসদীয় সরকারের পরিবর্তে একদলীয় রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২৪শে ফেব্রুয়ারি (১৯৭৫) কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একদল বিপথগামী সৈনিকের হাতে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে সামরিক আইন জারি হয়। খোন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হন। এর ফলে মুজিব সরকারের পতন ঘটে। ২৩শে আগস্ট (১৯৭৫) সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দিনের সাথে তিনি গ্রেফতার হন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় অনধিকার প্রবেশকারী সশস্ত্র বাহিনীর কতিপয় ব্যক্তির হাতে ৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনিও নির্মমভাবে নিহত হন। ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালন করা হয়। তিনি জাতীয় চার নেতার একজন। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয়।
এ.এইচ.এম.কামারুজ্জামান (১৯২৬-১৯৭৫) পুরোনাম আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। জন্ম ১৯২৬ সালের ২৬শে জুন নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বনেদি জমিদার পরিবারে। পিতা আবদুল হামিদ ও মাতা বেগম জেবুন্নিসা। ১৯৪৪ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ স্নাতক পাস করেন। ১৯৫৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ল' পাস করেন এবং রাজশাহী জজকোর্টে আইন ব্যবসায় শুরু করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫৫-১৯৬৪ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৬২-১৯৬৯ পর্যন্ত জাতীয় পরিষদে সম্মিলিত বিরোধী দলের সম্পাদক হন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে তাঁর অবদান অপরিসীম। ১৯৬৭-১৯৭০ পর্যন্ত নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও ১৯৭০-১৯৭১ পর্যন্ত নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে রাজশাহী-৬ আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২৫শে মার্চের গণহত্যা ও বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতারের পর তিনি শেখ ফজলুল হক মনি, তোফায়েল আহমদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বগুড়া হয়ে ভারতে গমন করেন এবং যোগাযোগ করেন ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য নেতাদের সাথে। সেখানেই মুজিবনগর সরকার গঠনের পরিকল্পনা হয়। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে (শপথ গ্রহণ ১৭ই এপ্রিল) তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী নিযুক্ত হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২৩শে ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র, সাহায্য ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৭৩-এর নির্বাচনে রাজশাহী-১০ ও রাজশাহী-১১ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪-এর ২০শে জানুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৫-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল থাকেন। ১৯৭৫ সালে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠিত হলে তিনি শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একদল বিপথগামী সৈনিকের হাতে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে সামরিক আইন জারি হয়। খোন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হন। এর ফলে মুজিব সরকারের পতন ঘটে। কামারুজ্জামান মন্ত্রিত্ব হারান এবং গ্রেফতার হন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় অনধিকার প্রবেশকারী সশস্ত্র বাহিনীর কতিপয় ব্যক্তির হাতে ৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আহমদের সাথে তিনিও নির্মমভাবে নিহত হন। এই চার নেতার মৃত্যু দিন '৩রা নভেম্বর' জেলহত্যা দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালন করা হয়। কামারুজ্জামান বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের স্থপতিদের একজন। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। (তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমী রিতাভিধান)
সারসংক্ষেপ
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: পাকিস্তানি শাসনামলে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচন বা যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। পূর্ববাংলার আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী, খেলাফত রাব্বানী এবং গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকচক্রের চক্রান্তের ফলে দুমাসের মধ্যে এ মন্ত্রিসভায় পতন ঘটে।
পাক-ভারত যুদ্ধ: কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৭ দিন স্থায়ী এই যুদ্ধে পূর্ববাংলার সৈন্যরা শৌর্যবীর্যের পরিচয় দেয়। তথাপিও পূর্ববাংলার প্রতি কোনো সহানুভূতি না দেখিয়ে পাকিস্তানি শাসকরা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পুনর্গঠন পূর্ববাংলার প্রতি চাপিয়ে দেয়। যুদ্ধকালীন সময় পূর্ববাংলা সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকে যা পূর্ববাংলার অসহায়ত্বকে সমান করে।
অক্টোবর বিপ্লব: ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা অনেক শখ করে আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক -আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন। এর কিছুদিন পর আইয়ুব খান অপ্রত্যাশিতভাবে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে - প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে আইয়ুব খান নিজেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ ঘটনাটি ছিল ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ অক্টোবর। আইয়ুব খানের অক্টোবর মাসে এই ক্ষমতা গ্রহণই "অক্টোবর বিপ্লব।"
সামরিক শাসন: পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই গণতান্ত্রিক ধারায় স্বৈরশাসন চলতে থাকে। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিরোধী জোট
জয়লাভ করলেও তারা পাকিস্তান রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পান স্বল্প সময়ের জন্য। কারণ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। মাত্র ৪ মাসে ৭ মন্ত্রিসভার পতন হয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৩ বার গভর্নরের শাসন জারি করে। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন। তার শাসনামলে সামরিকবাহিনী রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনা প্রধান আইয়ুব খানকে। মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব পাকিস্তানে (পূর্ববাংলায়) সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সামরিক কায়দায় দেশ পরিচালনা করেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান পদত্যাগ করলে জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা দখল করে সামরিক কায়দায় শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
মৌলিক গণতন্ত্র: আইয়ুব খান কর্তৃক উদ্ভাবিত এক অভিনব পদ্ধতির নাম মৌলিক গণতন্ত্র। আইয়ুব খান সুচতুর
রাজনীতিবিদ ছিলেন। ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানান কৌশল অবলম্বন করেন। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ অক্টোবর "অক্টোবর বিপ্লব" প্রথম বার্ষিকীতে তাঁর বহুদিনের উদ্ভাবিত মৌলিক গণতন্ত্রের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। মৌলিক গণতন্ত্র সম্পর্কে আইয়ুব খান বলেন, এদেশে শিক্ষিতদের হার কম বিধায় এখানে পাশ্চাত্য গণতন্ত্র ফলবতী হবে না। তিনি বলেন, প্রতি ১০০০ থেকে ১৫০০ লোকের মধ্য দিয়ে একজন গণতন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। এভাবে জনসংখ্যার ভিত্তিতে দু'অঞ্চলের জন্য ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী নির্বাচিত হবে। এই নির্বাচিত মৌলিক গণতন্ত্রীরাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন (১৯৫৯)।
ছয় দফা দাবি: ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলের এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির স্বরূপ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই ছয় দফা দাবির মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ লুকায়িত ছিল। ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আগরতলা মামলা: ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়া প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই ছয় দফা দাবি কেন্দ্রিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য আইয়ুব খান দমননীতির আশ্রয় নেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনসহ দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দকে দেশের শত্রু চিহ্নিত করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আগরতলার মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে এ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইয়ুব খানের পতন ত্বরান্বিত হয়।
বৈষম্যমূলক নীতি: বৈষম্যমূলক নীতি হচ্ছে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই - পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশাসন, সামরিক সর্বক্ষেত্রে এ বৈষম্য ছিল পাহাড়সম। এই বৈষম্যে থেকে মুক্ত হতে বাঙালিরা স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।
-উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থান স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ছয় দফা ও এগারো দফা ভিত্তিক বাঙালির ন্যায্য দাবি দমন করার জন্য আইয়ুব সরকার যে মামলা হামলার আশ্রয় নিয়েছিল ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থান তা নস্যাৎ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
সাধারণ নির্বাচন-১৯৭০: পাকিস্তানি সরকারের পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর সার্বজনীন প্রত্যক্ষ
ভোটে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৯টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে পাকিস্তানি শাসকচক্র একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু করে। ইয়াহিয়া খান কর্তৃক জাতীয় পরিষদের তারিখ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অসহযোগ আন্দোলন: ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১ মার্চের এক ঘোষণায় ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থাগিত ঘোষণা করে। কোনো কারণ ছাড়াই এ ঘোষণায় পূর্ববাংলা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩ মার্চ ১৯৭১ পল্টন ময়দানে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
পূর্ব বাংলার স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন-জে. এম. বেলাল হোসেন সরকার স্যার এর লেখা বই
Read more