Battle of Buxer-1764
পলাশীর যুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ক্লাইভের হাত ধরে পুতুল শাসকরূপে বাংলার মসনদে বসেন (১৭৫৭-১৭৬০ খ্রি.)। মীর জাফর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চুক্তি মোতাবেক ক্লাইভকে ২,৩৪,০০০ পাউন্ড, কলকাতার প্রত্যেক সদস্যকে ৫০,০০০ থেকে ৮০,০০০ পাউন্ড, সেনা ও নৌবাহিনীর প্রধানকে ২৫ লক্ষ টাকা উপঢৌকন, কোম্পানিকে দেড় কোটি টাকা, সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের ক্ষতিপূরণ ও ফরাসিদের বাংলা থেকে বিতাড়ন ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০,০০০ পাউন্ড এবং ২৪ পরগনার জমিদারি স্বত্ব প্রদান করেন। এছাড়া কোম্পানির বিভিন্ন চাহিদা ও বাণিজ্য সুবিধা মেটাতে মুর্শিদাবাদের কোষাগার শূন্য হয়ে যায়। প্রতিশ্রুতির বাকি অর্থ আসবাবপত্র, মূল্যবান ধাতুনির্মিত বাসনপত্র ইত্যাদি বিক্রি করেও অর্থের সংকুলান না হলে বাকি অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। ইংরেজরা মীরজাফরের মাধ্যমে বাংলার টাকার গাছে নাড়া দিয়ে টাকা কুড়ানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা "Yet rich quickly and go back home" নীতি গ্রহণ করেন।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

ইংরেজদের চাহিদা মোতাবেক অর্থ প্রদানে ব্যর্থ ও ওলন্দাজ কোম্পানির সাথে গোপন পত্রালাপের অপরাধে ইংরেজরা মীরজাফরকে সিংহাসনচ্যুত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে ইংরেজরা গোপনে মীরজাফরের জামাতা মীর কাশিমের সাথে একটি সন্ধি করে (১৭৬০ খ্রি.)। সন্ধি মোতাবেক রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীরজাফরকে সরিয়ে মীর কাশিমকে বাংলার মসনদে বসালেন (১৭৬০ খ্রি.)। মীর কাশিম ছিলেন গুজরাটের সুবেদার সৈয়দ ইমতিয়াজের পৌত্র। তিনি নবাব আলীবর্দী ও নবাব সিরাজদ্দৌলার সেনাপতি ছিলেন। পরবর্তীকালে মীরজাফরের কন্যা ফাতেমা বেগমকে বিবাহ করে রাজদরবারে প্রভাব বিস্তার করেন। ইংরেজদের সাথে চুক্তি করে ১৭৬০ খ্রিষ্টখ্রিষ্টাব্দে বাংলার নবাব হন। প্রথমেই তিনি চুক্তি মোতাবেক ইংরেজকে প্রাপ্য অর্থের বিনিময়ে বর্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রাম প্রদান করেন। এভাবে মীর কাশিম কোম্পানির যাবতীয় পাওনা মিটিয়ে শাসনকার্যে মনোনিবেশ করেন।
বক্সারের যুদ্ধের কারণ (Causes of Battle of Buxer)
মীর কাশিম ইংরেজদের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতায় আসলেও তিনি স্বাধীনচেতা মনোভাবের ছিলেন। এজন্য তিনি ইংরেজদের প্রভাব মুক্ত থাকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মীর কাশিমের স্বাধীনচেতা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণই ছিল বক্সারের যুদ্ধের অন্যতম কারণ। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
১। মীর কাশিমের স্বাধীনচেতা মনোভাব ও কতিপয় প্রস্তুতি: বক্সারের যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল মীর কাশিমের স্বাধীনচেতা মনোভাব। মীর কাশিম মীরজাফরের ন্যায় পুতুল শাসক হয়ে থাকতে নারাজ ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন আজ হোক আর কাল হোক ইংরেজ কোম্পানির সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। সে কারণে তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকেন। মীর কাশিমের প্রস্তুতির মধ্যে ছিল- (ক) অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিশালী করা। এজন্য তিনি ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেন। রাজস্ব বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে পূর্বের বকেয়া অর্থ আদায় এবং অভিজাতবর্গের অবৈধ ভোগকৃত অর্থ ফেরত নেন এবং আলীবর্দী, মীর জাফর ও শেঠ পরিবার থেকে বলপূর্বক প্রচুর অর্থ আদায় করেন। (খ) নিজ শক্তি বৃদ্ধির জন্য বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা রাজস্ব প্রদানের অঙ্গীকার করে সম্রাট শাহ আলমের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। (গ) মুর্শিদাবাদ থেকে রাজধানী মুঙ্গরে স্থানান্তর করেন এবং সেখানে গোলাবারুদের কারখানা স্থাপন করেন। (ঘ) ইউরোপীয় তিনজন সেনাপতির সাহায্যে দেশীয় সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এভাবে মীর কাশিমের শক্তি বৃদ্ধি ইংরেজরা সন্দেহের চোখে দেখেন।
২। দেশীয় বণিকদের শুল্ক প্রত্যাহার: ইংরেজ কোম্পানি বিনা শুল্কে আন্তঃবাণিজ্য চালাতে থাকলে কেবল নবাবই
বাণিজ্য শুল্ক হতে বঞ্চিত হলেন না, দেশীয় বণিকদেরও ভীষণ ক্ষতি হতে থাকে। দেশীয় বণিকদের ক্ষতির প্রতিকারে অসমর্থ হয়ে নবাব মীর কাশিম ইংরেজ ও দেশীয় নির্বিশেষে সকল ব্যবসায়ীদের উপর হতে বাণিজ্য শুল্ক উঠিয়ে দিলেন। কিন্তু এ ব্যবস্থা ইংরেজদের মনঃপুত হলো না। তারা মীর কাশিমকে পদচ্যুত করে শুধুমাত্র দেশীয় বণিকদের শুল দিতে বাধ্য করার নীতি নেন।
যুদ্ধের ঘটনাবলি
নবাব মীর কাশিমের সাথে বোঝাপড়ার জন্য গভর্নর ভেনসিকার পাটনার সেনাধ্যক্ষ মেজর এলিসকে পাটনা আক্রমণের নির্দেশ দেন। নবাব তাকে প্রতিহত করে এবং দূত এমিয়টকে হত্যা করে। এমিয়ট হত্যার অজুহাতে কোম্পানি নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে (১৭৬৩)। ইংরেজরা মনে করেন যে, মীরজাফরের মতো এরূপ অনুগত নবাব পাওয়া যাবে না। সে কারণে ইংরেজ প্রধানরা সিদ্ধান্ত নিলেন মীর কাশিমকে সরিয়ে পুনরায় মীরজাফরকে মুর্শিদাবাদের মসনদে বসাবেন। সে মতে ১৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুলাই পুনরায় ইংরেজদের সাথে মীরজাফরের সন্ধি হয়। সন্ধি মোতাবেক মীরজাফরকে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত করা হবে, বিনিময়ে মীরজাফর ইংরেজদের সকল বাণিজ্য সুবিধা দেবে। অতঃপর ইংরেজ ও মীরজাফরের মিলিত সৈন্যদল মীর কাশিমকে কাটোয়া, মুর্শিদাবাদ, গিরিয়া, সোতি ও উদয়নালার যুদ্ধে পরাজিত করলে মীর কাশিম বাংলা থেকে পিছু হটে বিহারে চলে যায়। নবাব মীর কাশিম উপায়হীন হয়ে নবাব সুজাউদ্দৌলা ও সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য প্রার্থনা করেন। তাদের যৌথবাহিনী বিহারের দিকে অগ্রসর হয়। ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মনরো ২৩ অক্টোবর ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বক্সারের প্রান্তে যৌথবাহিনীর পথ রোধ করলে উভয়পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে যৌথবাহিনী পরাজিত হয়। মীর কাশিম যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেন এবং বহু বছর অজ্ঞাত থাকার পর ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন। নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং শাহ আলম ইংরেজদের সন্ধি ভিক্ষা করেন। এভাবে বক্সারের প্রান্তে দ্বিতীয় বার এবং চূড়ান্তভাবে বাংলার ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে।
মীর কাশিমের ব্যর্থতার কারণ
১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের বিভিন্ন কারণ ছিল। প্রধান কারণগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-
১. অর্থনৈতিক দুর্বলতা: ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে নবাব মীর কাশিমের পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল তাঁর অর্থনৈতিক দুর্বলতা। পূর্ববর্তী শাসক মীরজাফরের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ঋণের অনেক অর্থ মীর কাশিমকে পরিশোধ করতে হয়। তাছাড়া মসনদ লাভের জন্য তিনি দুই লক্ষ পাউন্ড ইংরেজদের প্রদান করতে বাধ্য হন। যার ফলে তার রাজকোষ শূন্য হয়ে যায়। অর্থের অভাবে তিনি প্রয়োজনীয় সৈন্য, অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করতে পারেননি।
২. জমিদার ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের অসহযোগিতা: দেশীয় জমিদার ও অনেক প্রশাসনিক কর্মচারী মীর কাশিমকে
অসহযোগিতা করে। জমিদাররা ঠিকমতো রাজস্ব দিতেন না। অনেক জমিদার ও কর্মচারীরা গোপনে মীর কাশিমের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্র করতেন। তাঁরা নানাভাবে সংকট সৃষ্টি করেন। ফলে মীর কাশিম তাঁর শক্তি পূর্ণভাবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারেননি। যা তার পরাজয় ডেকে আনে।
৩. সেনাবাহিনীর অদক্ষতা ও বিশ্বাসঘাতকতা: ইংরেজদের তুলনায় মীর কাশিমের সেনাবাহিনী ছিল অদক্ষ। তাছাড়া পলাশীর যুদ্ধের ন্যায় বক্সারের যুদ্ধেও বিশ্বাসঘাতকরা ছিল। মীর কাশিমের গোলন্দাজ বাহিনীর আর্মেনিয়ান সেনাপতি মরকা ও আরাটুন মীর কাশিমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে গোপনে শত্রুপক্ষে যোগ দেয়। বিশেষ করে এটা তারা করেছিল উদয়নালার যুদ্ধে। এ যুদ্ধে মীর কাশিম পরাজিত হয়; যা বক্সারের যুদ্ধে প্রভাব পড়ে এবং পতন ডেকে আনে।
৪. ইংরেজ গোলন্দাজ বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ গোলন্দাজ বাহিনী তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে। এ সময় ইংরেজ বাহিনী বিশেষ করে গোলন্দাজ বাহিনী সেনাপতি হেক্টর মনরোর নেতৃত্বে শক্তিশালী কামান ব্যবহার করে। যে কামানের সামনে মীর কাশিমের বাহিনী ছিল অসহায়। তাছাড়া ইংরেজদের অস্ত্রশস্ত্র ছিল খুবই উন্নত মানের। পলাশীর যুদ্ধ ছিল একটি নাটক, সেখানে প্রকৃত যুদ্ধ হয়নি। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে উভয়ের শক্তি প্রদর্শিত হয়েছে এবং সেখানে ইংরেজরা শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখেছে।
৫. সম্রাট শাহ আলম ও নবাব সুজাউদ্দৌলার যথাযথ সহযোগিতার অভাব: বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবাব মীর কাশিম সম্রাট শাহ আলম, নবাব সুজাউদ্দৌলা, এলাহাবাদের শাসনকর্তা মহারাজা বেণী বাহাদুর এদের যৌথ বাহিনী নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নবাব মীর কাশিম তার মিত্রদের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি। নবাব সুজাউদ্দৌলার উজির, মহারাজা বেণী বাহাদুর বিশ্বাসঘাতকতা করেন। সম্রাট শাহ আলমের দিউয়ান সিতাব রায়ও ইংরেজদের সাহায্য করেন। ফলে যুদ্ধে মীর কাশিম হেরে যান।
৬. মীর কাশিমের উদারতা: ইংরেজদের সাথে মীর কাশিম অত্যধিক উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ইংরেজদের অত্যধিক বিশ্বাস করতেন। যে সুযোগটা ইংরেজরা গ্রহণ করেছে। মীর কাশিম তার উদারতার জন্য রাজকোষ শূন্য করে ইংরেজদের তথাকথিত পাওনা মিটিয়ে দিয়েছিলেন, তাদের 'দস্তক' ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন। ফলে মীর কাশিম যথেষ্ট অর্থকষ্টে পতিত হন। যে কারণে মীর কাশিম যুদ্ধে পরাজিত হন।
পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সুশৃঙ্খল ইংরেজ বাহিনীর মোকাবিলা করার মতো সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করতে মীর কাশিম ব্যর্থ হন। তাছাড়া নিজেদের মধ্যে অসহযোগিতা, বিশ্বাসঘাতকতা ইত্যাদি একাধিক কারণে মীর কাশিম পরাজিত হন।
বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব (Importance of the Battle of Buxer)
বক্সারের যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহের মধ্যে অন্যতম। পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ইংরেজরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে কিন্তু অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম। এ যুদ্ধে মীর কাশিমের সকল আশা-ভরসা ধূলিস্যাৎ হয় এবং ইংরেজদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।স্যার স্টিফেনের মতে, "উপমহাদেশ ব্রিটিশ শক্তির উত্থানে পলাশীর যুদ্ধ অপেক্ষা বক্সারের যুদ্ধ অধিক গুরুত্বপূর্ণ” এই উক্তিটি যথার্থ। এর সপক্ষে যুক্তি হচ্ছে-
প্রথমত, পলাশীর যুদ্ধ ছিল ষড়যন্ত্রমূলক কিন্তু বক্সারের যুদ্ধ ছিল প্রকৃত যুদ্ধ। এই যুদ্ধে উভয়ের শক্তি প্রদর্শিত হয়েছে। এ যুদ্ধ ছিল ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার শেষ যুদ্ধ।
দ্বিতীয়ত, পলাশীর যুদ্ধের ফলে ব্রিটিশ শাসনের যে সূত্রপাত হয় বক্সারের যুদ্ধে তা পূর্ণতা লাভ করে। ঐতিহাসিক ব্রস বলেছেন, "বক্সারের যুদ্ধের ফলাফলের উপর উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ভরশীল ছিল।" বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের সাথে সাথে বাংলার স্বাধীনতার শেষ আলোটুকু নিভে যায়।
তৃতীয়ত, বক্সারের যুদ্ধে জয়ের পরই ইংরেজদের অর্থনৈতিক শোষণ এবং উপমহাদেশে বাণিজ্যের উপর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
চতুর্থত, বক্সারের যুদ্ধের ফলে মীর কাশিম সিংহাসনচ্যুত হন একং মীরজাফর পুনরায় পুতুল শাসক হিসেবে বাংলার মসনদে বসেন।
পঞ্চমত, এ যুদ্ধের ফলে বাংলার নবাব পদে কে বসবেন এবং নবাব পদ কে হারাবেন তা ইংরেজ কর্তৃক নির্ধারিত হয়।
ষষ্ঠত, পলাশীর যুদ্ধে কেবলমাত্র বাংলার নবাব পরাজিত হয় কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, অযোধ্যা এবং মোগল সম্রাট এক যোগে পরাজিত হয়।
সপ্তমত, এ যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ায় সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ইংরেজদের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
সর্বোপরি এ যুদ্ধে জয়ের ফলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বণিক থেকে শাসকে পরিণত হয়। অর্থাৎ বণিকের মানদণ্ড শাসকের রাজদণ্ডে পরিণত করেন।
Read more