৮.৬ বিদেশি বন্ধুদের প্রতি সম্মাননা

ইতিহাস ১ম পত্র - ইতিহাস - এইচএসসি | NCTB BOOK

5

Honour of the Foreign Personalities

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের অসামান্য অবদানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা জানায়। এই সম্মাননা প্রক্রিয়াকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: ১। বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা ২। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা ও ৩। মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা। প্রথমটি দেওয়া হয়েছে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্রবধূ ও ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। আর এ সম্মাননা তুলে দেন বাংলাদেশের পক্ষে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলুর রহমান। অন্য দুটি দেওয়া হয় বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে।

সম্মাননা প্রাপ্ত দেশগুলো হলো- ভারত, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া, ইতালি, জাপান, নেপাল, কিউবা, আর্জেন্টিনা, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া 'ও কানাডা।
সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ভারতের সিদ্ধার্থ শংকর রায়, বিচারপতি স'দাত আবুল মাসুদ, মহারানী বিভা কুমারী দেবী, সমর সেন, পণ্ডিত রবিশংকর, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁন, অভিনেতা সুনীল দত্ত, অন্নদাশংকর রায়, ভুপেন হাজারিকা, লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা প্রমুখ। রাশিয়ার নিকোলাই পদগোর্নি, আন্দে গোমিকো, ইয়াকভ মালিক, অধ্যাপক ভ্লাদিমির স্ট্যানিস, লিওনিদ বেজনেভ প্রমুখ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিচার্ড টেইলর, সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, রবার্ট ডফম্যান প্রমুখ। গ্রেট ব্রিটেনের অ্যাডওয়ার্থ হীথ, হ্যারল্ড উইলসন, পিটর ডেভিড শোর, মাইকেল বার্নস, সায়মন ড্রিংক, গায়ক জর্জ হ্যারিসন প্রমুখ ব্যক্তিবর্গকে উক্ত সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

সারসংক্ষেপ

শরণার্থী: কোনো দেশের জনসাধারণ বিপদ থেকে বাঁচার জন্য যখন অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নেয় তখন তাদের শরণার্থী বলা হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় এক কোটি বাঙালি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। ইতিহাসে এরাই শরণার্থী নামে পরিচিত। ভারত সরকার, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন দেশের সহায়তায় শরণার্থীদের থাকা, খাওয়া ও ঔষধপত্রের সংস্থান হয়।

সোভিয়েত ইউনিয়ন: বর্তমান রাশিয়ার পূর্ব নাম সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী জার শাসকদের পতন ঘটিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একইসাথে সমাজতন্ত্র কায়েম হয়। পরবর্তীতে পুঁজিবাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহিত স্নায়ুযুদ্ধে সমাজতন্ত্রের পতন হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫টি প্রদেশের একটির নাম রাশিয়া।

ব্রিটেন: ব্রিটিশ জাতিগোষ্ঠীর ভূখণ্ডই হচ্ছে ব্রিটেন বা ইংল্যান্ড। এটি একটি যুক্তরাজ্য। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বৃহৎ শক্তির মধ্যে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পরেই ব্রিটেনের অবদান। ব্রিটেন ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় শরণার্থীদের সাহায্য, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতা প্রচার করে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে বাংলাদেশের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

প্রবাসী বাঙালি: যে সকল বাঙালি জীবন ও জীবিকার তাগিদে দেশের মায়া ত্যাগ করে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে তাদের সাধারণত প্রবাসী বলা হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাঙালিরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে বিপুল পরিমাণ সাহায্য-সহযোগিতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্রিটেন প্রবাসীরা। তখন ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালির সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার।...

মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বহু বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান অকৃত্রিমভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য করছে। তাদের সাহায্য ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন অনেকটা সহজ হয়েছে। এ সকল ব্যক্তিবর্গের অবদানের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা জানিয়েছে। এ সম্মাননাকে ৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। যথা:
(১) বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা (২) বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা এবং (৩) মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা।

পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতি-প্রকৃতি-ড. মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...