hsc

৭.৩ মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ব্যবস্থাপনা

ইতিহাস ১ম পত্র - ইতিহাস - এইচএসসি | NCTB BOOK

3

The Sector Management of the Liberation War

(The Sector Command)

১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পর সমস্ত রণাঙ্গনকে মোট ৪টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। চট্টগ্রাম সেক্টরের অধিনায়ক নিযুক্ত হন মেজর জিয়াউর রহমান, কুমিল্লা সেক্টরে মেজর খালেদ মোশাররফ, সিলেট সেক্টরে মেজর শফিউল্লাহ এবং কুষ্টিয়া সেক্টরে মেজর আবু ওসমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিল মেজর নাজমুল হককে দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা এলাকায়, মেজর জলিলকে বরিশাল, পটুয়াখালী এলাকায় এবং ক্যাপ্টেন নওয়াজেশকে রংপুর 'এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে যুদ্ধকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকারী সকল সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে যথোপযুক্ত দায়িত্বে নিযুক্ত করা এবং যুদ্ধ এলাকা নির্ধারণের জন্য সেক্টরগুলোকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করার একান্ত প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের-সভাপতিত্বে রণনীতি ও সেক্টর ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা হয়। কর্নেল রবকে চিফ অব স্টাফ এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকারকে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত করা হয়।

সুষ্ঠু যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে সামরিক এবং বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের লক্ষ্যে প্রধান সেনাপতি কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর অধীনে সমগ্র রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ প্রদান করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে মুজিবনগর সরকারের গেরিলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল অনন্য। সেক্টর নম্বর ও অঞ্চলসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডারগণের পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

সেক্টরআওতাধীন অঞ্চলসমূহদায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার
১নংচট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ফেনী নদী পর্যন্ত।ক. মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন)
খ. মেজর মো: রফিক (জুন-ডিসেম্বর)
২নংচট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ফেনী নদী পর্যন্ত।ক. মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)
খ. মেজর এ.টি.এম. হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
৩নংসিলেট জেলার হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, আখাউড়া, ভৈরব রেল লাইন থেকে উত্তরপূর্ব দিকের কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ।ক. মেজর এ.কে. শফিউল্লাহ (এপ্রিল-ডিসেম্বর)
খ. মেজর নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
৪নংসিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল।মেজর সি.আর দত্ত
৫নংসিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল।মেজর মীর শওকত আলী
৬নংরংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও।উইং কমান্ডার এম. বাশার
৭নংদিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা।

ক. মেজর নাজমুল হক (এপ্রিল-আগস্ট)

খ. মেজর কাজী নুরুজ্জামান (আগস্ট-ডিসেম্বর)

৮নংকুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অধিকাংশ ও খুলনার উত্তরাঞ্চল।

ক. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-আগস্ট)

খ. মেজর এম.এ. মঞ্জুর (আগস্ট-ডিসেম্বর)

৯নংবরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনার দক্ষিণাঞ্চল।মেজর এম.এ. জলিল
১০নংঅভ্যন্তরীণ নৌপথ।নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা পরিচালিত
১১নংসমগ্র ময়মনসিংহ জেলা এবং ব্রহ্মপুত্র নদ (যমুনা) উভয় তীরবর্তী এলাকা।ক. মেজর আবু তাহের (আগস্ট-নভেম্বর)
খ. ফ্লাইট লেফটেনেন্ট এম. হামিদুল্লাহ খান (নভেম্বর-ডিসেম্বর)

৯ নম্বর পটুয়াখালী সেক্টরের সাব-সেক্টর সদর দপ্তর ছিল বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে। এখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনা করত। বর্তমানে বুকাবুনিয়াতে একটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।

(Jonal council)

মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি, সাফল্য, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ এবং পরবর্তী কর্ম পদ্ধতি ইত্যাদি পর্যালোচনা করার জন্য জোনাল কাউন্সিল গঠন করা হয়। জোনাল কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন এম.এ.জি. ওসমানী এবং ১১টি সেক্টরের অধিনায়কবৃন্দ সবাই এ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। কোন পদ্ধতিতে যুদ্ধ করে শত্রুদের আক্রমণ করা হবে তা জোনাল কাউন্সিল নির্ধারণ করত। জোনাল কাউন্সিল মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতেন।
এ সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্তভাবে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি অঞ্চল বা জোনে ভাগ করা হয়। প্রতিটি জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য করে তাদের ভোটে নির্বাচিত একজন করে চেয়ারম্যানকে পরিষদের প্রধান করা হয়। সরকার হতে চেয়ারম্যানের অধীনে একজন করে সচিব নিযুক্ত করা হয়। একই সাথে প্রতিটি জোনে সরকার হতে ৫ জন করে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। এ সকল নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ছিল-১. আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ২. শিক্ষা কর্মকর্তা, ৩. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, ৪. প্রকৌশল কর্মকর্তা, ৫. হিসাব বিভাগীয় কর্মকর্তা। প্রতিটি আঞ্চলিক জোনে আবার ৫টি উপ পরিষদ গঠিত হয়। যথা: ১. অর্থ উপ-পরিষদ ২. ত্রাণ উপ-পরিষদ ৩. স্বাস্থ্য-উপ পরিষদ ৪. প্রচার উপ-পরিষদ এবং ৫. শিক্ষা উপ-পরিষদ। প্রতিটি উপ-পরিষদ গঠনের বিধান ছিল আঞ্চলিক পরিষদ থেকে সর্বনিম্ন ৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৭ জন সদস্য নিয়ে। প্রতিটি জোনে সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়।.

পূর্ব বাংলার স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন-জে. এম. বেলাল হোসেন সরকার স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...