লর্ড অকল্যান্ড (১৮৩৬-১৮৪২ খ্রি.) (২.১১)

ইতিহাস ১ম পত্র - ইতিহাস - এইচএসসি | NCTB BOOK

8

Lord Auckland (1836-1842 AD)

স্যার চার্লস মেটফাকের পর ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে লর্ড অকল্যান্ড ভারতের গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি কৃষি ও শিক্ষার সংস্কার করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করেন। পূর্বে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিদানের প্রচলন ছিল। অকল্যান্ড এ ব্যবস্থার বিলোপসাধন করে আরবি, ফারসি সকল ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিদানের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি বাধ্যবাধকতার বিলোপসাধন করে সকলের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন।

লর্ড অকল্যান্ডের শাসনামলে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো তাঁর "ব্যর্থ আফগান নীতি" ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ার প্ররোচনায় পারস্য আফগানিস্তানের মধ্যবর্তী হিরাত আক্রমণ করলে অকল্যান্ড সীমান্ত সম্পর্কে ভীত ও সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েন। তিনি ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আফগানিস্তানের সাথে সম্ভাব বজায় রাখার জন্য ক্যাপ্টেন বার্নেসের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে বাণিজ্য মিশন প্রেরণ করেন। এ মিশন প্রেরণে অকল্যান্ডের উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানকে রাশিয়ার প্রভাব মুক্ত রাখা। কিন্তু এ মিশন ব্যর্থ হলে অকল্যান্ড শাহ সুজা এবং রণজিৎ সিংহের সাথে ত্রিশক্তি চুক্তি সম্পাদিত করে সম্মিলিত বাহিনী নিয়ে আফগানিস্তানের দিকে অগ্রসর হন। আফগানিস্তানের আমির দোস্ত মুহম্মদকে পরাজিত ও সিংহাসনচ্যুত করে কান্দাহার, গজনী এবং কাবুল অধিকার করেন। তিনি শাহ সুজাকে কাবুলের সিংহাসনে বসান। অকল্যান্ড কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া সরকার স্বাধীনতা প্রিয় আফগান জাতি সহজে মেনে নিতে পারল না। তারা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করল এবং অতর্কিত আক্রমণ করে ইংরেজ বাহিনীর অধিনায়ক বার্নেসকে হত্যা করে। ব্রিটিশ বাহিনী পরাজয়ের মুখে অপমানজনক সন্ধিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। আফগান যুদ্ধে অকল্যান্ডের ভ্রান্ত নীতির ফলেই ইংরেজ বাহিনী বিধ্বস্ত হয় এবং এ কারণে তিনি পদত্যাগ করেন।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...