ফরাসি সমাজতান্ত্রিক লেখক অগাস্ট ব্ল্যাঙ্কি সর্বপ্রথম শিল্পরিপুর কথাটি ব্যবহার করেন। পরে ইংরেজ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে তার অক্সফোর্ড বক্তৃতামালায় এ প্রত্যয়টি ব্যবহার করলে শিল্পবিপ্লব শব্দটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বিজ্ঞানের প্রভাবে ইংল্যান্ডে কৃষি, শিল্প ও পণ্যদ্রব্য উৎপাদনপ্রণালির বিশেষ উন্নতি সাধিত হয় এবং নানা প্রকার যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে দেশের শিল্প-বাণিজ্যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। ক্রমে ইউরোপের অন্যান্য দেশে শিল্পদ্রব্য উৎপাদনে বিপুল পরিবর্তন ঘটে। হাতের বদলে যান্ত্রিক শক্তির সাহায্যে মানুষের কর্মপদ্ধতি, দৈনিক জীবনযাত্রার প্রণালি, কুটির শিল্পের পরিবর্তে বৃহৎ শিল্পের মাধ্যমে শিল্প ও ভোগ্য সামগ্রীর উৎপাদন ও যানবাহনব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটে, তাকে বলে শিল্পবিপ্লব। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংরক্ষণনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, মূলধন প্রভৃতি শিল্পবিপ্লবের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পূর্বশর্ত। কতিপয় আবিষ্কার; যেমন- ফ্লাইং শাটল, স্পিনিং জেনি, পাওয়ার লুম, স্টিম ইঞ্জিন প্রভৃতির প্রভাবে শিল্পবিপ্লব সম্ভব হয়েছিল। কয়লা ও লৌহখনি থাকায় কলকারখানার উৎপাদন সহজ হয়েছিল। বস্ত্রশিল্পের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়। এ সমস্ত যন্ত্রপাতির সহায়তায় শ্রমিকরা কলকারখানায় বসে অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণ কাপড় উৎপাদন করতে শুরু করে। শিল্পবিপ্লবের প্রথম তরঙ্গেই বস্ত্রশিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কার এবং পরিবহনব্যবস্থায় এ পদ্ধতির প্রয়োগ এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। শিল্পবিপ্লবের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী এবং বর্তমানকাল পর্যন্ত এর প্রভাব বিদ্যমান ও গতি অক্ষুণ্ণ। শিল্পবিপ্লবের প্রভাব শুধুte ইংল্যান্ডেই নয় বরং সমগ্র ইউরোপের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।
শিল্পবিপ্লবের অর্থ ও প্রকৃতি
সাধারণ অর্থে 'বিপ্লব' বলতে আমল আমরা কোনো দেশের সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টাকেই বুঝে থাকি। । এরূপ বিপ্লবকে রাজনৈতিক বিপ্লব বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে বিপ্লব কেবল রাজনৈতিকই হয় না বরং অনেক রকমের হতে পারে। বিপ্লব (Revolution) শব্দটি দ্বারা কোনো মৌলিক পরিবর্তনকে বোঝায়। কৃষির সংগঠন ও কলাকৌশলের মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হলে তাকে কৃষিবিপ্লব বলা হয়। শিল্পের সংগঠন কাঠামো ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হলে একে শিল্পবিপ্লব বলা হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে গ্রেট ব্রিটেনের শিল্পে যে বিরাট পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল তাকে শিল্পবিপ্লব বলা হয়। উৎপাদনব্যবস্থার ব্যাপক রূপান্তর প্রক্রিয়াই "শিল্পবিপ্লব"। মূলত ব্রিটেনের শিল্প ও কৃষিজীবনে যে প্রক্রিয়া বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে তাকে শিল্পবিপ্লব নামে অভিহিত করা হয়। এক অর্থে সে প্রক্রিয়া এখনো প্রবহমান, তবে যে বিশেষ অর্থে শিল্পবিপ্লব প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয় তার আশু ঘটনা ও প্রত্যক্ষ . ফলাফল ১৭৩০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পরবর্তী এক শতাব্দীর অন্তর্ভুক্ত।
ঐতিহাসিক, অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে তাঁদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে সে রকম সংজ্ঞাই প্রদান করেছেন। যেমন- নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন উৎপাদনের যে ব্যবস্থায় ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে উঠেছিল তাকেই শিল্পবিপ্লব বলেছেন। অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট পরিবর্তনেই বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। আবার ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানীরা শুধু অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট পরিবর্তন নয় বরং আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের উপর বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। একটি ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন, সবাই বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যে পরিবর্তনের সূচনা ইংল্যান্ডে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে ঐকমত্য পোষণ করেন। কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহার অর্থাৎ 'হস্তচালিত যন্ত্রের পরিবর্তে পুরোপুরিভাবে যন্ত্রের সাহায্যে উৎপাদনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনই শিল্পবিপ্লব', এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করেন না।
এ পরিবর্তন যাদের দ্বারা সূচিত হলো তারা তাদের সৃজনীশক্তি ও মেধার সঠিক ব্যবহার না করলে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনগুলোর আবিষ্কার ত্বরান্বিত হতো কি না সন্দেহ। পঞ্চদশ শতকের ইউরোপীয় রেনেসাঁর প্রভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে যে বিজ্ঞানমনস্কতার জন্ম হয়, তারই প্রয়োগ হয় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে। সে আবিষ্কারগুলোই শিল্পবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে। কাজেই মানুষের স্থবির মেধা ও মননের পরিবর্তে প্রগতিশীল মেধা ও মননের বহিঃপ্রকাশ সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে পরিস্ফুটিত হয়।
সুতরাং শিল্পবিপ্লব বলতে সাধারণত উৎপাদনক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমূল, আকস্মিক ও দ্রুত পরিবর্তনসাধনকে বোঝায়। বলা যায়, শিল্পায়নে পদার্পণই শিল্পবিপ্লবের মূলভিত্তি।
শিল্পবিপ্লব-পূর্ববর্তী ইংল্যান্ডের অবস্থা ব্যাখ্যার পূর্বে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব সূচনাকালকে ধর্তব্যে নিতে হবে। ইংল্যান্ডের কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যখন কারখানাভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে শিল্পবিপ্লবের সূচনাকাল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। অধিকাংশ ঐতিহাসিক সূচনাকাল হিসেবে ১৭৩০ বা ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দের কথা উল্লেখ করেছেন। কাজেই ষোড়শ, সপ্তা সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধই হবে ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের পূর্ববর্তী অবস্থার আলোচ্য বিষয়।
টিউডর যুগের পূর্ববর্তী অবস্থা
সপ্তম হেনরির রাজত্ব লাভের (১৪৮৫-১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দ) পূর্বক্ষণে ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক অবস্থা দুর্দশার চরমে পৌছেছিল। এ সময় রাজশক্তি বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মধ্যযুগে কৃষিতে ম্যানর পদ্ধতি চালু ছিল। এক বা একাধিক গ্রাম নিয়ে একটি ম্যান্ন গঠিত হতো। জীবজন্তুর হাত থেকে রক্ষার জন্য ম্যানরের চতুর্দিকে বেড়া দেওয়া হতো। বেড়াই ছিল ম্যানরের সীমানা নির্ণয়ের মাপকাঠি। একজন জমিদার বা লর্ড কর্তৃক ম্যানরের প্রশাসন পরিচালিত হতো। ম্যানরের চাষিরা ছিল ভূমিদাস। তাদের ইচ্ছার স্বাধীনতা ছিল না। মূলত ম্যানর পদ্ধতি ছিল ফিউডাল, সামন্ততন্ত্রের মূলভিত্তি। ফিউডাল সামন্ততন্ত্রের অত্যাচারে জনসাধারণের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। সামস্তবর্গ পছন্দমতো রাজা নির্বাচিত করত। স্কটল্যান্ড বা আয়ারল্যান্ডে রাজার প্রভুত্ব অল্পই ছিল। ইংল্যান্ডের জনপ্রতিনিধি সভা পার্লামেন্টের অস্তিত্ব নামে মাত্র ছিল। রাজনৈতিক অরাজকতা অর্থনৈতিক সংকটকে প্রকট করে তুলেছিল। কিন্তু টিউডর স্বেচ্ছাতন্ত্র দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ইংল্যান্ডকে একটি দলীয় নিয়মতান্ত্রিক রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আনতে সক্ষম হয়। ফলে দেশের অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। টিউডর বংশের প্রারম্ভ ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে।
টিউডর যুগের (১৪৮৫-১৬০৩) অবস্থা
ফিউডাল সামন্তগণের পরস্পর আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধের (গোলাপের যুদ্ধ) ফলে সামন্ত শক্তির পতন হয়। শক্তিশালী রাজশক্তির অভ্যুদয়ের পথ সুগম হয়। রেনেসাঁর প্রভাবে স্বাধীন মানসিকতার জনতা সামন্তশক্তিকে উপেক্ষা করে রাজশক্তিকে শক্তিশালী করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা নেয়। রেনেসাঁ মানুষকে মধ্যযুগীয় সংকীর্ণতা থেকে মুক্তির সন্ধান দেয়। টিউডর যুগের প্রথম দিকেই মানুষের জীবনবোধে পরিবর্তন আসে। রাজশক্তির দৈব ক্ষমতার স্থলে জনমতের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে বাণিজ্য ও উপনিবেশ বিস্তারের পথ সুগম হয়। ইংল্যান্ডের নৌশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব টিউডর যুগেই রচিত হয়। জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠিত হওয়ায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হতে থাকে।
সামাজিক ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব। বিগত ফিউডাল প্রভাবিত সমাজ সামন্ত ও প্রজা- এ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। সামন্ত শক্তির অবলুপ্তির ফলে এবং রানি এলিজাবেথ কর্তৃক 'দরিদ্র আইন' প্রণয়নের কারণে সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভবের পথ সুগম হয়। রাজশক্তি মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে প্রাধান্য দিতে শুরু করে। ফলে মধ্যবিত্তের বিকাশের পথ সুগম হওয়ায় পরবর্তী ইতিহাসে এদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় সমাজে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ও মর্যাদা টিউডর যুগে যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়।
স্টুয়ার্ট যুগের (১৬০৩-১৭১৪) অবস্থা
ও ট্রাভেলিয়ান রচিত 'ইংল্যান্ডের সামাজিক ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক মেকলে রচিত 'ইংল্যান্ডের ইতিহা ইতিহাস'-এ স্টুয়ার্ট যুগের গণজীবনের এক চমৎকার আলেখ্য পাওয়া যায়। স্টুয়ার্ট যুগে ইংল্যান্ডে লোকসংখ্যা ছিল পঞ্চাশ-ষাট লাখ। ইয়র্কশায়ার ব্যতীত ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বেশির ভাগ ভূমি পতিত অবস্থায় ছিল। দ্রুত লোকসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পতিত ভূমিতে চাষাবাদ বিস্তৃত হয়। স্টুয়ার্ট যুগে ইংল্যান্ডের অধিবাসীদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়- ক) ধনী অভিজাত, খ) সম্পন্ন মধ্যবিত্ত, গ) কৃষক। ধনী অভিজাত শ্রেণি বিলাসবহুল জীবন যাপন করত। নারীরা ব্যয়বহুল পোশাক ও প্রসাধনী ব্যবহার করত। ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলের অধিবাসীদের অনেকেই ছিল নিরক্ষর ও নাগরিক জীবন সম্পর্কে অজ্ঞ। লন্ডন শহর দেখেনি, তৎকালীন ইংল্যান্ডে এমন লোকের অভাব ছিল না। ধনী অভিজাতদের সন্তানরা বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ইটন, হারবার, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত। তবে পল্লিবাসীদের অধিকাংশ দরিদ্র জীবন যাপন করত। এ যুগে দরিদ্র, বেকার ও ভবঘুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এক মারাত্মক সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। পল্লির ভূমিহীন দরিদ্র বেকার কৃষকরাই শহরে মজুরে পরিণত হয়; যারা অদক্ষ শিল্প শ্রমিক হিসেবে কারখানায় যোগ দেয়। কৃষিই ছিল ইংল্যান্ডের প্রধান জীবিকা; তবে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের পল্লিবাসীর অর্থকরী উপজীবিকা ছিল মেষ পালন। মান ও পরিমাণের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের পশম ইউরোপের বাজারে খ্যাতি লাভ করেছিল।
স্টুয়ার্ট যুগে ইংল্যান্ডের অধিবাসীরা বিভিন্ন রকমের আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত থাকত। তবে তারা কলহপ্রবণও *ছিল। সম্পত্তি, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও নারীঘটিত বিষয় নিয়ে রাস্তাঘাটে ডুয়েল লড়াই নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য ছিল। দ্বিতীয় চার্লসের রাজত্বকালে অধিবাসীদের নৈতিক জীবনে যথেষ্ট অবনতি ঘটে। পিউরিটান শাসন আমলে অধিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে কঠোর নৈতিক বিধি-নিষেধ আরোপ করে নৈতিক মান উন্নত করার চেষ্টা করা হয়। শিল্পবিপ্লবের প্রাক-পটভূমিকা তৈরিতে হ্যানোভার রাজা প্রথম জর্জের প্রধানমন্ত্রী ওয়ালপোল ও দ্বিতীয় জর্জের প্রধানমন্ত্রী পিটের ভূমিকা অগ্রগণ্য। এ দুজনের বিভিন্ন ধরনের সংস্কার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডকে মর্যাদার আসনে আসীন করে। মূলত কৃষিবিপ্লব, যা শিল্পবিপ্লবের পূর্ব ধাপ, তাদের শাসন আমলেই সংঘটিত হয়।
প্রাক-বিপ্লব ইংল্যান্ডের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা
অর্থনৈতিক অবস্থা: শিল্পবিপ্লবের পূর্বে ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল দুর্বল প্রকৃতির। বিপ্লবপূর্ব যুগে
কৃষিব্যবস্থা ছিল সামন্ততান্ত্রিক। সামন্ততান্ত্রিক কৃষিব্যবস্থা কৃষির উন্নতির ক্ষেত্রে উপযুক্ত ছিল না। কৃষিভূমিগুলো ছিল ছড়ানো ও অবিন্যস্ত, যা সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করা হতো। চাষাবাদযোগ্য ভূমি ৩টি বড় মাঠে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি মাঠে অর্ধএকর বা এক একর এভাবে জমির ফালি থাকত। কৃষকরা এসব জমি চাষাবাদ করত। কৃষিব্যবস্থা এত অনুন্নত ছিল যে, তিন বছর পর পর ৩টি ফসল উৎপাদন করা হতো। অর্থাৎ প্রথম বছর গম, দ্বিতীয় বছর বার্লি ও তৃতীয় বছর জমি ফেলে রাখা হতো। খোলা মাঠ পদ্ধতি ছিল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রতিবন্ধক। শিল্পবিপ্লবপূর্ব যুগে দৈহিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনপ্রক্রিয়া চালু ছিল। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে খরস্রোতা নদীর স্রোতের সাহায্যে অথবা তীব্র বায়ুপ্রবাহের দ্বারা চাকা ঘুরিয়ে শিল্পদ্রব্য তৈরির জন্য যন্ত্র চালু হয়। যেখানে এ ধরনের ব্যবস্থা ছিল না, সেখানে পুরো দৈহিক শ্রমের দ্বারা শিল্পদ্রব্য উৎপাদন করা হতো। সেই সময় বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় সুতা কাটা ও কাপড় বুননের জন্য কাজ কারখানায় না করে বাড়িতে সম্পন্ন করা হতো। এ কারণে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে পারিবারিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। এ উৎপাদনব্যবস্থায় শিল্পদ্রব্যের উৎপাদন ছিল সীমাবদ্ধ ও প্রকৃতির খেয়ালের উপর নির্ভরশীল।
ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য আর্থার ইয়াং নামের একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ কৃষি ও পশুপালন বিষয়ে নতুন পদ্ধতি চালু করেন। এর ফলে কৃষকরা সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করে। পার্লামেন্টের আইন দ্বারা ও আর্থার ইয়াং-এর প্রচারণায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমির ফালিগুলোকে একত্রিত করে বৃহৎ খামারে রূপান্তরিত করা হয়। ফলে কৃষি উৎপাদনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। ষোড়শ শতকের কৃষির বেড়া আন্দোলন কৃষিবিপ্লবের ভিত্তি স্থাপন করে।
ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের অগ্রগতির পেছনে বস্ত্রশিল্পই ছিল প্রধান সহায়ক। অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগ থেকে ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম বস্ত্রশিল্পের যন্ত্র আবিষ্কার হয়। হবস বান এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, "ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব বলতে একমাত্র বোঝায় বস্ত্র, বস্ত্র এবং বস্ত্র।" বস্ত্রশিল্পের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে শিল্পের যাত্রা গতি লাভ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে বস্ত্র উৎপাদনকারী তাঁতিরা নিজেরা উৎপাদন ও বাজারজাত করত। কিন্তু একপর্যায়ে কিছু ধনিক শ্রেণির ব্যবসায়ী বাজারজাতকরণের দায়িত্ব নিজেরা নেয়। ফলে বস্ত্র উৎপাদনকারী তাঁতিরা সাধারণ শ্রমিকে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে এই ধনিক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা তাঁতিদের পৃথকভাবে উৎপাদন করতে না দিয়ে নিজেরা অর্থ বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করে। ফলে ইংল্যান্ডে শিল্প বিকাশ লাভ করে।
মূলত ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব বিকাশের ক্ষেত্রে কৃষির ভূমিকা ছিল অন্যতম। কৃষি ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। কৃষিদ্রব্য শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ফলে শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল সহজলভ্য হয়। কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তারা শিল্পদ্রব্য কিনতে সক্ষম হয়, যা শিল্প উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক ছিল।
ইংল্যান্ডে লোকসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পায়। এই বাড়তি লোক কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে শহরে যায়। এ লোকজন শিল্পকারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। গ্রামাঞ্চলে এনক্লোজার বা ভূমি বেষ্টনী প্রথার প্রসার ঘটলে বড় জমির মালিকরা বেষ্টনী আইনের সাহায্যে ছোট জমিগুলো গ্রাস করে। ফলে বহু চাষি ভূমিহীন দিনমজুরে পরিণত হয়। এই ভূমিহীন কৃষকরা শহরে এসে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। শিল্পবিপ্লবপূর্ব যুগে ইংল্যান্ডের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক অবস্থা থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিবর্তন হয়।
সামাজিক অবস্থা: অষ্টাদশ শতাব্দীর দিকে ইংল্যান্ডের মানুষের সামাজিক অবস্থা ছিল সাধারণ প্রকৃতির। এই
সময়ে তাদের জীবন-জীবিকার কিছুটা পরিবর্তন হয়। এ সময় ইংল্যান্ডে মাথাপিছু আয় ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ১৭৩০-১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে জনসংখ্যা ৭% বাড়ে। একই সঙ্গে খাদ্য ও কৃষিজ দ্রব্যের উৎপাদন ১০% বাড়ে। জনসংখ্যার সাথে সাথে খাদ্য ও কৃষিজ দ্রব্যের উৎপাদন বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইংল্যান্ডের জনগণের সচ্ছলতা বেড়ে যায়। কৃষিতে বৈজ্ঞানিক চাষপদ্ধতির কারণে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এই উদ্বৃত্ত খাদ্যসামগ্রী শিল্প শ্রমিকরা অল্প দামে কিনতে পারত। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্পের প্রসারের ফলে ইংল্যান্ডের জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। ইংল্যান্ডে শিল্পের প্রসার ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পিউরিটান সম্প্রদায়ের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ডে অন্যান্য জাতির তুলনায় পিউরিটান সম্প্রদায় ছিল কঠোর পরিশ্রমী। ক্রমওয়েলের পতনের পর এই সম্প্রদায় রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে শিল্প সংগঠনে মনোনিবেশ করে। ইংল্যান্ডে পেনসন পার্লামেন্ট আইন করে পিউরিটান সম্প্রদায়কে চাকরি, শিক্ষকতা প্রভৃতি বৃত্তিমূলক জীবিকা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এসব পেশাবঞ্চিত পিউরিটান শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে দৃঢ়তার সাথে আত্মনিয়োগ করে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের সামাজিক অবস্থা শোচনীয় ছিল। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর থেকে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়। এভাবে ইংল্যান্ডের সামাজিক জীবনে সচ্ছলতা ফিরে আসে।
রাজনৈতিক অবস্থা: শিল্প বিকাশ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
বজায় রাখা। তৎকালে ইংল্যান্ডে বিপ্লব সংঘটিত হলেও তা ইংল্যান্ডের মাটি থেকে অনেক দূরে হয়েছিল। এজন্য ইংল্যান্ডে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে কোনো প্রকার বাধা ছিল না। পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত যেসব রাজা ইংল্যান্ড শাসন করেছে তারা সবাই ছিল শিল্প-বাণিজ্যের প্রতি উদারনৈতিক। ১৪৫৫-১৪৮৫ খ্রিষ্টাব্দে গোলাপের যুদ্ধের পর ইংল্যান্ডে টিউডর রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। টিউডর রাজাগণ ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকেই অভিজাত সম্প্রদায়কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় সৃষ্টিতে সহায়তা করেন। তারা মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। ইংল্যান্ডে সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে অ্যাংলিকান চার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে রোমান পোপের আধিপত্য বিলুপ্ত হয়। এভাবে ধর্মীয় নেতাদের প্রভাব খর্ব হলে এ ধর্মের অনুসারীগণ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পেশা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। ফলে তারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রসারে
মনোনিবেশ করে। ইংল্যান্ডের প্রজাকল্যাণকামী শাসকদের সহযোগিতায় ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব দ্রুত প্রসার লাভকরে। ফলে ইংল্যান্ডে নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটে টিউডর যুগে। কিন্তু এর ধারাবাহিকতা, স্টুয়ার্ট যুগেও ছিল। মূলত হেনোভার যুগে রাজনৈতিক অবস্থার কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে ইংল্যান্ডের বিজয় অর্জনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে। ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগ থেকে ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম বস্ত্রশিল্পের যন্ত্র আবিষ্কার হয়। কিন্তু অবিরামভাবে যন্ত্রগুলো চালানোর ব্যবস্থা ছিল না। এ সমস্যা দূর করার জন্য জেমস ওয়াট ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন; যেখানে যতক্ষণ দরকার ততক্ষণ এ বাষ্পীয় ইঞ্জিন দ্বারা শিল্প উৎপাদনের যন্ত্রগুলো চালনার ফলে শিল্পজ উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। উৎপাদনব্যবস্থার এ বিপ্লব বৃহত্তর শিল্প-বাণিজ্যের বিপ্লব এবং পরিণামে সমাজবিপ্লব ঘটায়। কাজেই "প্রকৃতির সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে শিল্প উৎপাদনের এ বিরাট ও গভীর মূল পরিবর্তনকেই শিল্পবিপ্লব বলা হয়।" কোনো সমাজে উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কয়েকটি পরিবর্তন দেখা গেলে শিল্পবিপ্লব ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া হয়-
১। কুটির শিল্পের পরিবর্তে যন্ত্রচালিত পুঁজিবাদী শিল্পের বিকাশ।
২। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে মুনাফা লাভের ব্যবস্থা।
৩। কারখানায় শ্রমিক মজুরির সাহায্যে উৎপাদনের ব্যবস্থা।
৪। পণ্য উৎপাদনের জন্য শ্রমিক ও কাঁচামাল সরবরাহের ব্যবস্থা।
৫। মূলধন সরবরাহের জন্য অর্থনৈতিক সংস্থা অর্থাৎ ব্যাংকের উদ্ভব।.
৬। যন্ত্র চালনার জন্য বাষ্পের প্রয়োগ ও পরিবহনব্যবস্থার অগ্রগতি।
ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের সূচনাকাল
ইংল্যান্ডের কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যখন কারখানাভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে শিল্পবিপ্লবের সূচনাকাল বলে ধরে নেওয়া হয়। উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ Rostow শিল্পের এ অবস্থাকে Take off বলে অভিহিত করেছেন। ইংল্যান্ডের শিল্পের ক্ষেত্রে সূচনাকাল বা Take off নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ লক্ষ করা যায়। ঐতিহাসিক নেফ (Nef) ১৫৪০-১৬৪০ খ্রিষ্টাব্দ অর্থাৎ টিউডর ও স্টুয়ার্ট বংশের শাসনকালকে ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের সূচনাকাল বলে মনে করেন। তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও অর্থনীতিবিদ Nef-এর এ অভিমত সমর্থন করেন না। ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি তার অক্সফোর্ড বক্তৃতামালায় ১৭৪০-৮০ খ্রিষ্টাব্দকে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূচনাকাল বলে সর্বপ্রথম অভিমত দেন।' বেশির ভাগ ঐতিহাসিক টয়েনবির সময়কালকেই সূচনাকাল বলে সমর্থন করেন, যার ব্যাপ্তি ছিল ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
অধ্যাপিকা Knowles আবার শিল্পবিপ্লবের সময় পরিধি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। তার মতে, "যদি শিল্পবিপ্লবের সময়সীমা নির্দেশ করার জন্য একান্তই একটা সুনির্দিষ্ট তারিখের প্রয়োজন হয় এবং যদি ইংল্যান্ডের অবস্থা ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়, তবে বোধ হয় ১৮৩০-৪০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়সীমাকে পরিধি হিসেবে গ্রহণ করা যায়।" কাজেই উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সত্যিকার অর্থে শিল্পবিপ্লবের সময়সীমা একটি নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন লেখক শিল্পক্ষেত্রে এক বা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়কে শিল্পবিপ্লবের সময়সীমার পরিধি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঐ বিপ্লব কোনো তাৎক্ষণিক ধরনের ছিল না। আবার শিল্পক্ষেত্রে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল তার প্রস্তুতিলগ্ন থেকে আরম্ভ করে এর পূর্ণতা লাভের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্দেশ করা সম্ভব নয়। তবু বেশির ভাগ পরিবর্তন ১৭৬০-১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সংঘটিত হওয়ায় এ সময়কালকে মোটামুটি এবং সংকীর্ণ অর্থে শিল্পবিপ্লবের সময়সীমা হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন-ড. সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী স্যারে এর লেখা বই
Read more