Fourteen Points of Zinnah-1929 and Round Table Conference
জিন্নাহর চৌদ্দ দফা-১৯২৯ (Fourteen points of Zinnah-1929)
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে নেহেরু রিপোর্ট কংগ্রেস কর্তৃক গৃহীত হলে কার্যত লক্ষ্ণৌ চুক্তি বাতিল এবং 'বেঙ্গল প্যাক্ট' ও 'দিল্লি, প্রস্তাব' পরিত্যক্ত হয়। নেহেরু রিপোর্টে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বাতিল এবং কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করায় মুসলমান নেতৃবৃন্দ বিক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত হন। মাওলানা মোহাম্মদ আলী নেহেরু রিপোর্টকে 'অশেষ দাসত্ব ও হিন্দু আধিপত্য' হিসেবে বর্ণনা করেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের মাধ্যমে নেহেরু রিপোর্টের বিকল্প হিসেবে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন; যা উপমহাদেশের ইতিহাসে জিন্নাহর বিখ্যাত চৌদ্দ দফা নামে পরিচিত।
দফাসমূহ ছিল-

১। ভারতীয় উপমহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।
২। ভারতের প্রদেশসমূহে একইধরনের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।
৩। সকল আইনসভায় মুসলমান সম্প্রদায়কে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
৪। কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব এক তৃতীয়াংশের কম হবে না।
৫। সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতি কার্যকর করতে হবে। তবে কোনো সম্প্রদায় ইচ্ছা করলে পৃথক নির্বাচন বাদ দিয়ে যুক্ত নির্বাচন গ্রহণ করতে পারবে।
৬। পাঞ্জাব, বাংলা, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ক্ষুণ্ণ করতে পারবে না।
৭। সংবিধানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিচারে সকলের মৌলিক অধিকারসমূহ ভোগের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে।
৮। কোনো আইনসভায় কোনো সম্প্রদায়ের এক চতুর্থাংশ সদস্য কোনো বিলের বিরোধিতা করলে তা প্রত্যাহার করতে হবে।
৯। মুম্বাইয়ে প্রেসিডেন্সি হতে সিন্ধুকে পৃথক করতে হবে।
১০। অন্যান্য প্রদেশের ন্যায় বেলুচিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে সাংবিধানিক সংস্কার প্রবর্তন করতে হবে।
১১। মুসলমানদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম, আইন ইত্যাদি সংরক্ষণ ও উন্নতি সাধন করতে হবে।
১২। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলমান সদস্য নিয়োগ করতে হবে।
১৩। প্রাদেশিক আইনসভার অনুমতি ব্যতীত সাংবিধানিক পরিবর্তন না করা।
১৪। নিয়োগের ক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য যথাযোগ্য পদ সংরক্ষণ করা।
জিন্নাহ প্রণীত ১৪ দফা দাবি ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
গোল টেবিল বৈঠক (Round Table Conference)
কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ কর্তৃক সাইমন কমিশন প্রত্যাখ্যান, নেহেরু রিপোর্টের পাল্টা হিসেবে জিন্নাহর ১৪ দফা দাবি উত্থাপন এবং নেহেরু রিপোর্ট ব্রিটিশ গ্রহণ না করায় ভারতব্যাপী আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে লন্ডনে এক গোল টেবিল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান; যা ইতিহাসে গোল টেবিল বৈঠক নামে সুপরিচিত। নিম্নোক্ত ৩টি পর্যায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়:
প্রথম গোল টেবিল বৈঠক: ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ নভেম্বর লন্ডনে প্রথম গোল টেবিল বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠকে ৮৯ জন
প্রতিনিধির মধ্যে ভারতীয় ছিল ৫৭ জন। ভারতীয় প্রতিনিধির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্, এ.কে. ফজলুল হক, তেজ বাহাদুর সপ্ত, ড. বি. আর আম্বেদকার ও চিন্তামণি প্রমুখ। কংগ্রেস এ বৈঠকে যোগদান করেনি। মি. জিন্নাহ এ বৈঠকে তার ১৪ দফা জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। এ নিয়ে হিন্দু প্রতিনিধিদের সাথে তীব্র বাদানুবাদ হয়। শেষ পর্যন্ত প্রথম গোল টেবিল বৈঠক ভেঙে যায় (১৯ জানুয়ারি, ১৯৩১ খ্রি.)।
দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠক: ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠক শুরু হয়। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৫ মার্চ
গান্ধী-আরউইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মহাত্মা গান্ধী আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেস দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেন। এই সমঝোতার ফলে কংগ্রেসের পক্ষে মহাত্মা গান্ধী দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠকে যোগ দেন এবং প্রথম বৈঠকের অধিকাংশ সদস্য এ বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক চলে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উপমহাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে গান্ধী-জিন্নাহর মধ্যে কোনো আপস না হওয়ায় এ বৈঠক ব্যর্থ হয়।
তৃতীয় গোল টেবিল বৈঠক: তৃতীয় গোল টেবিল বৈঠক বসে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর হতে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভারতের কতিপয় প্রতিনিধি এ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করলেও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং ইংল্যান্ডের শ্রমিক দলের কোনো সদস্য এ অধিবেশনে যোগ দেয়নি। এ অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ তেমন কিছুই অর্জিত হয়নি।
ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল মো. এনায়েত হোসেন (কাজল) স্যার এর লেখা বই
Read more