Advent of Pakistan and India
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়। ২৫ জুলাই মাউন্টব্যাটেন দেশীয়
রাজাদের একটি সভা ডাকেন এবং ১৫ আগস্ট ভারতীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে তাদের অভিহিত করেন। ব্রিটিশ আধিপত্য শেষ
হবার পর রাজাদের সুবিধানুযায়ী এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগদানের পরামর্শ দেন।
তদানুযায়ী ৬০০ দেশীয় রাজ্যের অধিকাংশ ভারতের পক্ষে যোগ দেয় এবং বাকিরা পাকিস্তানের পক্ষে যোগ দেয়। তবে
হায়দারাবাদ ও কাশ্মীর তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে। সে যাই হোক, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ও ১৫
আগস্ট লর্ড মাউন্টব্যাটেন যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারতীয় গণপরিষদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। উক্ত ক্ষমতা
হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশদের ১৯০ বছরের শাসন-শোষণের অবসান ঘটে। বহু প্রতিক্ষিত পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি
স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে অভিষিক্ত হলেন কায়দে
আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। অপরপক্ষে ব্রিটিশ ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের
গভর্নর জেনারেল পদে অভিষিক্ত করা হলো। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেন নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খান এবং ভারতের
প্রধানমন্ত্রী হলেন পণ্ডিত জওহরলার নেহেরু।
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত স্বাধীনতা আইন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ইতিহাসে এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সংগ্রামী ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসকদের তালিকা
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে সকল নি
লিপিবদ্ধ করা হলো-
গভর্নরগণ
১। লর্ড ক্লাইভ (প্রথম বার) - ১৭৫৭- ১৭৬০ খ্রি.
(দ্বিতীয় বার) ১৭৬৫ – ১৭৬৭ খ্রি.
২। ভ্যান্সিটার্ট ১৭৬০- ১৭৬৫ খ্রি.
৩। ভেরিলেস্ট ১৭৬৭- ১৭৬৯ খ্রি.
৪। কার্টিয়ার ১৭৬৯ - ১৭৭২ খ্রি.
৫। ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২- ১৭৭৪ খ্রি.
গভর্নর জেনারেলগণ
১। ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭৪ ১৭৮৫ খ্রি.
২। স্যার জন ম্যাকফারসন ১৭৮৫- ১৭৮৬ খ্রি.
৩। লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৮৬-১৭৯৩ খ্রি.
৪। স্যার জন শোর ১৭৯৩ – ১৭৯৮ খ্রি.
৫। স্যার এ. ক্লার্ক ১৭৯৮ খ্রি.
৬। লর্ড ওয়েলেসলী ১৭৯৮ - ১৮০৫ খ্রি.
৭। কর্নওয়ালিস (দ্বিতীয়বার) ১৮০৫ খি.
৮। স্যার জন মার্লো ১৮০৫ - ১৮০৭ খ্রি.
৯। লর্ড মিন্টো ১৮০৭ - ১৮১৩ খ্রি.
১০। লর্ড হেস্টিংস ১৮১৩ – ১৮২৩ খ্রি.
১১। স্যার জন অ্যাডাম ১৮২৩ খ্রি.
১২। লর্ড আমহার্স্ট ১৮২৩ – ১৮২৮ খ্রি.
১৩। উইলিয়াম বেইল ১৮২৮ খ্রি.
১৪। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৮ ১৮৩৫ খ্রি.
১৫। স্যার চার্লস মেটকাফ ১৮৩৫ খ্রি.
১৬। লর্ড অকল্যান্ড ১৮৩৬ – ১৮৪২ খ্রি.
১৭। লর্ড এলেনবরা ১৮৪২- ১৮৪৪ খ্রি.
১৮। উইলিয়াম বার্ড ১৮৪৪ খ্রি.
১৯। লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৮৪৫ – ১৮৪৮ খ্রি.
২০।লর্ড ডালহৌসী ১৮৪৮ – ১৮৫৬ খ্রি.
২১। লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬- ১৮৫৮ খ্রি
ভাইসরয়গণ
১। লর্ড ক্যানিং ১৮৫৮ - ১৮৬২ খ্রি.
২। লর্ড এলগিন ১৮৬২- ১৮৬৩ খ্রি.
রবার্ট নেপিয়ার ভারপ্রাপ্ত
উইলিয়াম ভেনিসন ভারপ্রাপ্ত
৩। স্যার জন লরেন্স ১৮৬৩ -১৮৬৯ খ্রি.
৪। লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ -১৮৭২খ্রি.
জন স্ট্যাচে ভারপ্রাপ্ত
লর্ড নেপিয়ার ভারপ্রাপ্ত
৫। লর্ড নর্থব্রুক ১৮৭২ - ১৮৭৬খ্রি.
৬। লর্ড লিটন লিটন ১৮৭৬- ১৮৮০ খ্রি.
৭। লর্ড রিপন ১৮৮০ -১৮৮৪ খ্রি.
৮। লর্ড ডাফরিন ১৮৮৪ - ১৮৮৮ খ্রি.
৯। লর্ড ল্যান্স ডাউন ১৮৮৮ -১৮৯৪ খ্রি
১০। লর্ড এলগিন (দ্বিতীয়) ১৮৯৪ - ১৮৯৯ খ্রি.
১১। লর্ড কার্জন ১৮৯৯ - ১৯০৫ খ্রি.
১২। লর্ড মিন্টো (দ্বিতীয়) ১৯০৫ – ১৯১০ খ্রি.
১৩। লর্ড হার্ডিঞ্জ (দ্বিতীয়) ১৯১০ - ১৯১৬ খ্রি.
১৪। লর্ড চেমসফোর্ড ১৯১৬ – ১৯২১ খ্রি.
১৫। লর্ড রিডিং ১৯২১ - ১৯২৬ খ্রি.
১৬। লর্ড আরউইন ১৯২৬- ১৯৩১ খ্রি.
১৭। লর্ড উইলিংডেন ১৯৩১- ১৯৩৬ খ্রি.
১৮। লর্ড লিনলিথগো ১৯৩৬- ১৯৪৩ খ্রি.
১৯। লর্ড ওয়াভেল ১৯৪৩- ১৯৪৫ খ্রি.
২০। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৫ - ১৯৪৭ খ্রি.
সারসংক্ষেপ
মহারানি ভিক্টোরিয়া: মহারানি ভিক্টোরিয়া ছিলেন ইংল্যান্ডের রানি। জন্ম ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ জানুয়ারি। পিতা
এডওয়ার্ড। চাচা চতুর্থ উইলিয়ামের মৃত্যুর পর ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ১৮ বছর বয়সে ইল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন। ভারতীয় উপমহাদেশে কোম্পানির অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলায় ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মহাবিদ্রোহ সৃষ্টি হলে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে রানি ভিক্টোরিয়া এক ঘোষণা বলে উপমহাদেশের শাসন ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকার গ্রহণ করে। সে কারণেই রানি ভিক্টোরিয়া উপমহাদেশের একটি পরিচিত নাম। শুধু ভারতবর্ষেই নয় ইংরেজ উপনিবেশিক শাসনের কারণে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও আফ্রিকা মহাদেশের বিশাল অংশ তার শাসনাধীনে ছিল। এ কারণেই তিনি হলেন মহারানি। ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে তাকে ভারত সম্রাজ্ঞী উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ মহারানি ভিক্টোরিয়ার স্মৃতি বহন করছে।
ইলবার্ট বিল: ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে এক আইন বলে ভারতীয় বিচারক ইউরোপীয় কোনো নাগরিকদের বিচার করতে পারত না। বিচারক্ষেত্রে এ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে লর্ড লিটন আইন সদস্য মি. ইলবার্টকে একটি বিল প্রণয়ন করতে বলেন। ইলবার্ট একটি বিল তৈরি করেন এবং তাতে ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা ভারতীয় বিচারকদের দেওয়া হয়। আইন সদস্য ইলবার্টের নাম অনুযায়ী বিলটির নামকরণ হয় "ইলবার্ট বিল"।
বৈপ্লবিক আন্দোলন এটি ভারতীয় উপমহাদেশে একটি স্বরাজ আন্দোলন। স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন ব্যর্থ হলে জাতীয় কংগ্রেসের চরমপন্থী সদস্যরা বৈপ্লবিক আন্দোলন শুরু করে। এটি এক ধরনের সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন। বিপ্লবীরা ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার গভর্নর এভু ফ্লেজার এবং ব্যামফিল্ড ফলারকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
ক্ষুদিরাম: ক্ষুদিরাম বৈপ্লবিক দলের সদস্য ছিলেন। ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ কিংসফোর্ডের গাড়ি অনুমান করে বোমা নিক্ষেপ করে। কিন্তু কিংসফোর্ড-এর গাড়ি না থাকায় অন্য এক ইংরেজ কর্মকর্তার স্ত্রী-কন্যা নিহত হয়। এই হত্যার অভিযোগে তার ফাঁসি হয়। ক্ষুদিরামের ফাঁসিকে কেন্দ্র করে বহু কবিতা ও গান রচিত হয়। তেমনি একটি গান, 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি, হাসি হাসি পড়ব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী।'
আলীগড় আন্দোলন: স্যার সৈয়দ আহমদ খান (১৮১৭-১৮৯৮) আলীগড়কে কেন্দ্র করে যে সংস্কার আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন তাই আলীগড় আন্দোলন। এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল অধঃপতনে নিমজ্জিত মুসলমান সমাজকে আধুনিক (ইংরেজি) শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। মুসলমানরা ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে ব্রিটিশদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ইংরেজি শিক্ষা থেকে তারা দূরে থাকে। সে সুযোগ হিন্দুরা গ্রহণ করে এগিয়ে যায়। এই অবস্থায় স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের জাগ্রত করার জন্য উক্ত আন্দোলন শুরু করে।
লক্ষ্ণৌ চুক্তি: লক্ষ্ণৌ চুক্তি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি। উপমহাদেশের দুই বিবেধমান হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে লক্ষ্ণৌ শহরে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য স্থাপনের ক্ষেত্রে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ চুক্তি ৮ বছর স্থায়ী হয়।
খিলাফত আন্দোলন: তুরস্কের খিলাফতকে রক্ষার জন্য আলী ভ্রাতৃত্বদ্বয় এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে (১৯২০-১৯২৪) ভারতীয় উপমহাদেশে যে আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল সেটাই খিলাফত আন্দোলন। এ আন্দোলনটি অসহযোগ আন্দোলনের সাথে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। এ আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে এবং কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের খিলাফত বাতিল করলে এ আন্দোলনে থেমে যায়।
সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ: ইংরেজিতে বলা হয় Communal Award. ভারতের সাম্প্রদায়িক সমস্যা (হিন্দু-মুসলমান)
নিরসনকল্পে (১৯৩০-১৯৩২) লন্ডনে ২টি গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত গোল টেবিল বৈঠক ব্যর্থ হয়। তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক সমস্যা নিরসনে ভারতীয়রা মতৈক্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ সরকার তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে বাধ্য হবেন। সে মোতাবেক ভারতীয়রা মতৈক্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হলে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ আগস্ট ম্যাক ডোনাল্ড নিজ উদ্যোগে যে রোয়েদাদ প্রদান করে তাই সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ।
ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল মো. এনায়েত হোসেন (কাজল) স্যার এর লেখা বই
Read more