শিল্প বিপ্লব কী?
জার্মান বংশোদ্ভূত ফরাসি কূটনীতিবিদ লুই গুইলার ওটো (Louis-Guillaume Otto) ১৭৯৯ সালের ৬ জুলাই লেখা এক পত্রে 'Industrial Revolution' শব্দদুগল ব্যবহার করে লিখেছেন যে, ফ্রান্স শিল্পের দৌড়ে প্রবেশ করেছে। ১৭৯০-এর দশকে কবি উইলিয়াম ব্লেইক (William Blake) এবং উইলিয়াম ওয়ার্ডসওর্থ (William Wordsworth) তাদের লেখায় উনিশ শতকে উত্তরণের কালকে শিল্প বিপ্লবের সময় বলে উল্লেখ করেছেন। যন্ত্র প্রযুক্তির ভিত্তিতে একটি সামাজিক ব্যবস্থার (Social Order) ধারণা হিসেবে শিল্প বিপ্লবকে উল্লেখ করেছেন সাউদে (Southey) এবং ওয়েন (wen)। তারা অবশ্য ১৮১১-১৮১৮ সময়কে এ পর্বের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ১৮৩৭ সালে প্রকাশিত 'শিল্প বিপ্লব' নামক গ্রন্থে ফরাসি বিপ্লবী জেরম-এডলফ ব্লাঙ্ক (Jerome-Adolph Blanqui's) ১৮৩০-এর দশকের শেষের দিকে শিল্পে যন্ত্র-প্রযুক্তির ব্যবহারের ব্যাপকতা লক্ষ করে শিল্প বিপ্লবের সূচনা কাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সমাজতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস ১৮৪৪ সালে 'ইংল্যান্ডের শ্রমিক শ্রেণির অবস্থা' ও শীর্ষক গ্রন্থে লিখেছেন "an Industrial revolution, a revolution which at the same time changed the whole of civil society" ("শিল্প বিপ্লব হচ্ছে একটি বিপ্লব যা একই সঙ্গে সমগ্র নাগরিক সমাজকেই পরিবর্তন করেছে")। তবে
আরনল্ড টয়েনবি। শিল্প বিপ্লবের আর্থ-সামাজিক ধারণাটি ব্যাপকভাবে প্রথম উপস্থাপন করেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ আরনল্ড টয়েনবি (১৮৫২-১৮৮৩)। ১৮৮১ সালে এ বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু বক্তৃতা প্রদান করেন। এতে তিনি শিল্প বিপ্লবের বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। জন ক্লাফম্যান (John Claphman) এবং নিকোলাস ক্রাফ্ট (Nicholas Craft) নামক ইতিহাসবিদগণ আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনকে সমাজের ধারাবাহিক বিকাশ হিসেবে দেখেছেন। কোনো বিপ্লবকে তারা নামকরণের ভুল প্রয়োগ (misnomer) বলেও আখ্যায়িত করেছেন। বস্তুত ইতিহাসবিদদের মধ্যে শিল্প বিপ্লব ধারণাটি এবং এর কাল পর্ব নিয়ে এখনও যথেষ্ট মতভেদ এবং বিতর্ক রয়েছে।

শিল্প বিপ্লবের কালপর্বসমূহ
শিল্পে যন্ত্র-প্রযুক্তির আবিষ্কার, ব্যবহারের পরিমাণ, উৎপাদন, মালিক ও শ্রমিক শ্রেণির উদ্ভব এবং অর্থনৈতিক বিকাশের পরিমাণকে পর্যালোচনা করে অর্থনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ ও সমাজতাত্ত্বিকগণ শিল্প বিপ্লবকে সাধারণভাবে নিম্নোক্ত পর্বে বিভক্ত করেছেন।
১। সূচনা-পর্ব: ১৭৩৩-১৮৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। এই পর্বে বয়ন, যোগাযোগ, খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি নতুন নতুন যন্ত্র প্রযুক্তির আবিষ্কার ঘটে, তবে বেশির ভাগ শিল্পই তখন ছিল ছোট থেকে মাঝারি আকারের, কম পুঁজি, মালিক শ্রমিকের সংখ্যাও ছিল অপেক্ষাকৃত কম, বড়জোর মাঝারি আকার পর্যন্ত।
২। ভারী ও যৌথ শিল্পের যাত্রা: ১৮৩০-১৯৪০ এর দশক পর্যন্ত। এই সময় বেশ কিছু দেশে বড় বড় শিল্প-
কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে, কয়েক হাজার থেকে লাখের অধিক শ্রমিক এক একটি শিল্প কারখানায় কাজ করে, শত শত টন পণ্য উৎপাদিত হতে থাকে, যৌথ মালিকানায় রেল লাইন, বন্দর, বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে অর্থনীতিতে শিল্পের অংশ দ্রুত প্রধান হয়ে উঠতে থাকে।
৩। বহুজাতিক কোম্পানির পর্ব (১৯৪৫- ১৯৭০): এই পর্বে উন্নত দেশগুলোতে বহুজাতিক কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সময় উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন কোম্পানি অনুন্নত দেশে প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে ব্যাপক পুঁজির সঞ্চালন ঘটায়।
৪। উচ্চতর প্রযুক্তি (Hi-tech) : ১৯৭০ পরবর্তী : এই সময়ে কম্পিউটার, মোবাইলসহ সর্বোচ্চ সুবিধা-নির্ভর প্রযুক্তির উদ্ভব ও ব্যবহারের ফলে পৃথিবীব্যাপী অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এখন উচ্চতর গুণাগুণ সম্পন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে মানুষ নানা বৈচিত্র্যের খাদ্য, ঔষধ, নির্মাণ সামগ্রী, যানবাহন, ভোগ্যপণ্য, বাসস্থান, বস্ত্র, জ্ঞান-বিজ্ঞানের আবিষ্কার, গবেষণা, শিক্ষাদীক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করছে। এর ফলে মানুষের জীবন ব্যবস্থায় অসীম সম্ভার নিয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে চলছে। এ সবই শিল্প বিপ্লবের ক্রমবিকাশের অবিস্মরণীয় ধারা।
(ক) প্রাক-শিল্পবিপ্লব যুগে ব্রিটিশ অর্থনীতি
শিল্প বিপ্লব শুরুর আগে ব্রিটেনের অর্থনীতি ছিল কৃষি-নির্ভর। তবে পাঁচ থেকে পনের শতক পর্যন্ত ব্রিটেনের কৃষি গ্রামের সমস্ত জমি নিয়ে এক একটি ম্যানর গড়ে উঠতো। নিজেদের প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য রেখে ম্যানরের, কার্যকর ছিল। সাধারণত মাধ্যমে চাষাবাদ করা হতো। অতিরিক্ত উৎপাদন করে অন্যত্র রপ্তানি তথা বাজার সৃষ্টির কোনো ধারণা তখন ছিল না মূলত খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারাই সকলের লক্ষ্য ছিল। বিলাসী দ্রব্য অথবা লোহা ও ইস্পাতের মতো সামগ্রীর জন্যে গ্রামগুলোর নির্ভরতা ছিল শহরগুলোর ওপর। ম্যানরগুলোতে টাকার প্রচলন ছিল না, দ্রব্যের সঙ্গে ।ব্যের সরাসরি বিনিময় প্রথা ছিল। ম্যানরগুলোতে জমিদারদের কর্তৃত্ব ছিল। কিছু স্বাধীন কৃষকের কাছে কিছু জমি - চাষবাসের জন্যে ছিল- বাকি জমি ভূমিহীন তথা ভূমিদাসদের দিয়ে চাষাবাদ করানো হতো। তবে সমগ্র চৌদ্দ শতক - জুড়ে ব্রিটেনে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী লেগেই ছিল। ফলে পনের শতকে ম্যানের প্রথা ভেঙে যায়, কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়ে। ষোল শতকে ব্রিটেনের কৃষি ব্যবস্থায় মৌলিক বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। ছোট আকারের বাদ দয়ে বড় এলাকা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করা হয়। নিজেদের ছড়ানো ছিটানো জমিগুলো পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে একত্রীভূত করা হয়। এর ফলে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন ছাড়াও ভেড়া চরানোর জমি পাওয়া গেল। বাণিজ্যিক শস্যের চাষও শুরু হয়। কৃষি অর্থনীতি বাজারমুখী হয়ে ওঠে। ফলে কৃষিজ পণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। অনাবাদি জমিগুলো দ্রুত চাষাবাদের আওতায় চলে আসে। এটিকে কৃষি বিপ্লব বলা হয়। ষোল শতক থেকে এই বিপ্লব ব্রিটেনের কৃষি অর্থনীতির ভিত্তিকে মজবুত করতে থাকে-যা অচিরেই শিল্প বিপ্লবের পথ সুগম করে।
(খ) সামাজিক অবস্থা
শিল্প বিপ্লবের আগে ব্রিটেনের সমাজ ছিল সামন্তবাদী। সতের শতকের প্রথম ভাগে দেশের পাঁচ ভাগের চার ভাগ মানুষই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করতো। কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায় ছিল। এ ছাড়া বাড়িতে তাঁতের কাজ, পরিজনসহ ভেড়ার চাষ ও লোম সংগ্রহ, শীত নিবারণের পোশাক তৈরি ইত্যাদি কাজে অনেকেই জড়িত ছিল। দেশের বেশির ভাগ জমির কর্তৃত্ব করতেন মাত্র কয়েক হাজার জমিদার। জমির এক অংশ থাকতো স্বাধীন কৃষকদের হাতে, বাকি অংশ ভূমিদাসদের দিয়ে চাষ করানো হতো। ষোল শতকে ভূমিদাসগণ জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসতে থাকে। শহরগুলোতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বস্তিতে থেকে এরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মজুর ও শ্রমিকের কাজ করতো। তখন ইংল্যান্ডের শহর ও গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাই ছিল বেশি। মাথাপিছু আয় ছিল খুবই সীমিত। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো খুব ধীরগতিসম্পন্ন ছিল। আবহাওয়া বৈরী থাকার কারণে ফসলহানি, খরা ও শীতে মৃত্যুর হার ছিল উদ্বেগজনক। বেশির ভাগ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল না, দারিদ্র্যের প্রকোপ স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে ছিল। অন্যদিকে জমিদার, লর্ড ও শাসকশ্রেণি এবং শহরগুলোতে ডাক্তার, উকিল, ধনী ব্যবসায়িগণ অভিজাত হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা প্রায় সকলেই স্বচ্ছল জীবন-যাপন করতেন। সাধারণ মানুষ এবং অভিজাতদের সামাজিক অবস্থানের মধ্যে বেশ বৈষম্য বিরাজ করতো। তবে অঞ্চলভেদে সামাজিক অবস্থানে বেশ তারতম্য ছিল। এর ফলে বৃহত্তর ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের আগে কোনো, জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠেনি। শিল্প বিপ্লব ইংল্যান্ডের সমাজ ব্যবস্থার অভ্যন্তরে যোগাযোগ স্থাপনসহ নতুন সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র তৈরি করে। এর ফলে ব্রিটেনের জাতিগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সংহতি প্রতিষ্ঠার অধ্যায় শুরু হয়।
(গ) রাজনৈতিক অবস্থা
ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লব শুরুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিষয় ছিল অপেক্ষাকৃত অগ্রসর ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা। ১৬৪০-৪৮ সালের গৃহযুদ্ধ শেষে ইংল্যান্ড ১৬৮৮ সালে 'গৌরবময় বিপ্লব' নামে খ্যাত সাংবিধানিক ব্যবস্থা চালু করে। ব্রিটেন অতীতে নানা যুদ্ধে জড়ালেও সেগুলো সংঘটিত হয়েছিল ব্রিটেনের বাইরে। ফলে ইংল্যান্ডের ভূখন্ডে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নি। অধিকন্তু ব্রিটেনের নৌশক্তি তুখনকার সময়ে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। যে কারণে ইংল্যান্ড সেই সময়কার শক্তিশালী দেশ বলে পরিচিতি পায়। ফ্রান্স, স্পেন ও হল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক শক্তি তখন ততোটা জন্ম লাভ করে নি। ফ্রান্সের রাজতন্ত্র তখনো ব্রিটেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার পর্যায়ে যায় নি। জার্মান ভূখণ্ড ছিল ছিন্নভিন্ন রাজ শাসনে বিভক্ত। ইংল্যান্ডে সংসদ এবং রাজনৈতিক সংগঠন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন শুরু করে। অন্যদিকে ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আঠারো শতকে তেমন কোনো সংকট না থাকায় দেশের সরকার এবং বিকাশমান শ্রেণি-গোষ্ঠীসমূহ নতুন অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পরিপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরির ভিত্তি প্রশস্ত করে।
শিল্প বিপ্লবের শর্তসমূহ:
একটি দেশে শিল্প বিপ্লব হওয়ার জন্য কতগুলো অপরিহার্য শর্ত প্রয়োজন। যেমন-
১। কৃষি উদ্বৃত্ত
২। সামাজিক স্থিতিশীলতা বা ঐক্য
৩। শ্রমিক শ্রেণির উপস্থিতি
৪। বুর্জোয়া (শহরে বসবাস করা পুঁজিপতি) ব্যবসায়িক শ্রেণি
৫। কাঁচামালের সরবরাহ
৬। পণ্যের বাজারের নিশ্চয়তা।
১। কৃষি উদ্বৃত্ত : ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডে উল্লেখিত শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল। ইংল্যান্ডের মেনর প্রথার উচ্ছেদ করে সেখানে পরিকল্পিতভাবে কৃষিপণ্য চাষ করা হতো। বাণিজ্যিক শস্যের চাষের ফলে ইংল্যান্ডের কৃষি অর্থনীতি বাজারমুখী হয়। ফলে অতিরিক্ত মুনাফার জন্যে অনাবাদি জমিগুলো চাষের আওতায় চলে আসে এর ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়। উদ্বৃত্ত কৃষি সম্পদ বাণিজ্যে ও শিল্পে নিয়োগ করে পুঁজি গঠন কর সম্ভব হয়।
২। সামাজিক স্থিতিশীলতা বা ঐক্য টিউডর আমলে ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক শারি প্রতিষ্ঠিত হয়। রানি এলিজাবেথ ইংল্যান্ডে ধর্ম সংস্কার করে সমাজে ধর্মীয় হানাহানি বন্ধ করে। রাষ্ট্র সমাজের মধ্যদি শ্রেণিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ সাহায্য দিয়ে তাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করে। ফলে ইংল্যান্ডে ধী বণিক শ্রেণি গড়ে উঠে এবং অষ্টাদশ শতকের মধ্যেই ইংরেজরা ইউরোপে দোকানদারের জাতি হিসেবে পরিচিতি লাঃ করে। ইংল্যান্ডের অভিজাত শ্রেণি ব্যবসা বাণিজ্যে উৎসাহী ছিল।
৩। শ্রমিক শ্রেণির উপস্থিতি: শিল্পের জন্যে উদ্যোক্তা পুঁজি এবং শ্রম প্রদান ভূমিকা পালন করে। ইংল্যান্ডে সামন্ত প্রথ বিশেষ করে মেনর প্রথা বিলুপ্ত হলে ভূমিদাসরা শ্রমিকে পরিণত হয়। ফলে ইংল্যান্ডে শিল্পের জন্যে শ্রমিকের শ্রম সহজলভ্য ছিল। যেটি ইউরোপের অন্য দেশে তেমনভাবে ছিল না।
৪। বুর্জোয়া ও ব্যবসায়িক শ্রেণি: অষ্টাদশ শতকে ইউরোপে বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে বুর্জোয়া শ্রেণির প্রাধান্য লাভ সম্ভব হয়। এই বুর্জোয়া শ্রেণি বিভিন্ন শহরে শিল্পের পুঁজি বিনিয়োগ করে শিল্পবিপ্লব সম্ভব করে ছিল। ইউরোপের অন্যান্য দেশে ইংল্যান্ডের মতো বুর্জোয়া শ্রেণির প্রাধান্য ছিল না।
৫। কাঁচামালের সরবরাহ ইংল্যান্ড অষ্টাদশ শতকের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশ ও আমেরিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সন্ধান পায়। এগুলো শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে তা শিল্প পণ্যে রূপান্ত রিত হয়।
৬। পণ্যের বাজারের নিশ্চয়তা: ইংল্যান্ড অষ্টাদশ শতকের মধ্যে আমেরিকা মহাদেশ এবং ভারতীয় উপমহাদেশকে তার পণ্যের বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এ নিয়ে ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধ শুরু হলে সামুদ্রিক শক্তিতে বলিয়ান ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে পরাজিত করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঔপন্যবেশিক শক্তিতে পরিণত হয়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলকে ইংল্যান্ডের শিল্প পণ্যের বাজারে পরিণত করে। ইংল্যান্ড তার অধিকার উপনিবেশগুলো শোষণ করে প্রচুর পুঁজি গঠন করে। সেই পুজি শিল্প-অর্থনীতি বিনিয়োগ করে। এছাড়া ইংল্যান্ড আমেরিকা ও ভারত থেকে সোনা-রূপা ও মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ ইংল্যান্ডে প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিকদের যান্ত্রিক আবিষ্কার শিল্প বিপ্লবের সহায়ক ভূমিকা পালন করে ছিল। উল্লেখিত কারণে করে প্রচুর মূলধন গড়ে তোলে। এই মূলধনেই বণিক শ্রেণি ইংল্যান্ডে সবার আগে শিল্প বিপ্লব ঘটায়
শিল্প বিপ্লব - প্রফেসর জে.এম. বেলাল হোসেন সরকার স্যারে এর লেখা বই
Read more