শিল্প বিপ্লবের প্রভাব ইউরোপের অন্যান্য দেশে ক্রমে পড়তে থাকে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, াযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির হাতছানি থেকে ইউরোপের দেশগুলো বিচ্ছিন্ন থাকতে নি। তবে রাজনৈতিক পশ্চাদপদতা, বৈরী সম্পর্ক এবং সামন্ত সামাজিক ব্যবস্থার কারণেই আধুনিক শিল্প কে স্বাগত জানাতে ইউরোপীয় দেশগুলো অনেক বেশি বিলম্ব করেছিল। নিচে আলোচিত দেশগুলোতে শিল্প বর প্রভাবের চালচিত্র দেখানো হলো।
ফ্রান্স: ফ্রান্স ইংল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ। ফ্রান্সে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের কারণে আধুনিক পুঁজিতন্ত্রের প্রসার তেমন ঘটতে পারে নি। ১৭৮৯-এর বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব অপেক্ষাকৃত বেশি পড়েছে। তবে ফরাসি কৃষি অর্থনীতিও ছিল চরম পশ্চাদপদ সামন্ততান্ত্রিক। ফলে এখানে শিল্পের প্রসার অত্যন্ত মন্থরগতিতে হয়েছে। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ফ্রান্সে শিল্প বিপ্লব প্রায় চোখেই পড়ে নি। বিপ্লব এবং যুদ্ধে ফ্রান্স ছিল ক্ষত-বিক্ষত। অধিকন্তু নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইংল্যান্ডের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক অব্যাহত রেখে ফ্রান্সকে আরো পিছিয়ে রেখেছিলেন। তাছাড়া ফ্রান্সে পর্যাপ্ত কয়লা ছিল না। তবে ফ্রান্সের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক উনিশ শতকে শহরকেন্দ্রিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে শহরগুলো আধুনিক হওয়ার পূর্বশর্ত পূরণ করছিল। প্রায় ৩০ টির মতো ফরাসি শহর আধুনিক শিল্প-ভিত্তিক হয়ে ওঠে। বড় শিল্পকারখানা কম হলেও ছোট ছোট কারখানা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বাড়তে থাকে। বিলম্বিত হলেও ১১৮৬০-৭০-এর পর থেকে ফ্রান্সে রেল, লোহা, ইস্পাত, কয়লার চুল্লি, অঙ্গারের চুল্লি, বস্ত্রশিল্প ইত্যাদি বৃদ্ধি পেতে থাকে। সূতী-বস্ত্রশিল্পের জন্যে ফ্রান্সে প্রথম বড় ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে বিশেষভাবে আলসাস অঞ্চলে। ফ্রান্সের শিল্প বিপ্লবের প্রধান ক্ষেত্র ছিল বস্ত্রশিল্প। রপ্তানি পণ্যের অর্ধেকই ছিল বস্ত্রজাত পণ্য। আমদানির এক-তৃতীয়াংশ ছিল যন্ত্রপাতি। তবে উনিশ শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে শিল্পায়ন এবংঔপনিবেশিক সম্প্রসারণের চাহিদা থেকেই ফ্রান্স বহির্বাণিজ্যে মনোযোগী হয়। তারপরও ফ্রান্সে শিল্প বিশু অপেক্ষাকৃত ছোট মাপের ছিল। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সামন্তবাদের ব্যাপক প্রভাবে থাকা ফরাসি জাজি মনোভাবে আভিজাত্য প্রবলভাবে থাকলেও আধুনিক যুগের বণিক হওয়ার মানসিকতা সেভাবে গড়ে ওঠে নি।
জার্মানি: ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের আগে জার্মানি ছিল তিন শতাধিক ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত। জার্মান ভূখণ্ড দি কৃষিপ্রধান। ১৮৪৮-এর পর জার্মানিতে অর্থনৈতিক রূপান্তর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে হতে থাকে। শিল্প বিপ্লয়ে প্রভাবে জার্মানি দ্রুত আন্দোলিত হয়। জার্মানি দ্রুত ব্রিটিশ বিনিয়োগ, আবিষ্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদিয়ে আত্মস্থ করে ফেলে। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের দিকে বাণিজ্য, ব্যাংক, ইন্সিওরেন্স এবং জাহাজ ব্যবসায় জার্মানি ইংল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ১৮৭০ থেকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জামনি একটি কৃষিভিত্তিক রাষ্ট্র থেকে শিল্পায়িত বাণিজ্যিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বাণিজ্যকরণ, শিল্প প্রতিষ্ঠান এর কোম্পানির বিস্তার অভাবনীয়ভাবে দেখা যায় দেশটিতে। জনস্ফীতি ও শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। খাদ্যে জার্মানি দ্রুত শিল্পায়িত দেশে পরিণত হয়। বস্ত্রশিল্পের আধুনিকীকরণ হয়। ঐক্যবদ্ধ জার্মানিতে ভারী শিল্প, শিল্প ও লগ্নিপুঁজির জন্যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা। হয়। এ ছাড়া রেলপথ, জলপথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত প্রসার ঘটে। একই সঙ্গে ইস্পাত শিল্পও গড়ে ওঠে। জার্মানিতে বড় শিল্পের খাত হিসেবে রেলপথ, বাণিজ, শহর এবং সমরাস্ত্রের কারখানা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া মটরগাড়ি শিল্পের বিকাশ ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৮৯০- থেকে ১৯০২ এর মধ্যে বিদ্যুৎ শিল্প জার্মানির অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তি ওপর দাঁড় করায়। ১৮৭০ সালের পর জার্মানগণ শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হওয়ার পেছনে শিল্প বিপ্লঝে প্রসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৩,: ইতালি ইতালি একটি কৃষিপ্রধান দেশ ছিল। এ ছাড়া দেশটির বেশির ভাগ অঞ্চল ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের আগ `পর্যন্ত ফ্রান্স এবং অস্ট্রিয়ার অধীন ছিল। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে একত্রীকরণের পর অতি ধীরগতিতে সীমিত আকারে ইতালিতে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়। জাহাজঘাট নির্মাণ, কারখানা স্থাপন, লোহা, ইস্পাত, বস্ত্রশিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ শুরু হয়। ১৮৯৬-১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ সময়কে ইতালির শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয়। এ সময়ে ইতালির শিল্পোৎপাদন দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এই সময়ে ইতালিতে কৃষি উৎপাদন, রপ্তানিমুখী শিল্প এক বিদেশে থাকা ইতালিয়ানদের উপার্জিত অর্থ প্রেরণ বেশ কয়েকগুণ বাড়ে। তারপরও ইতালির শিল্পায়ন সতে াষজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ইতালি ইউরোপের অন্যতম পিছিয়ে পড়া দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়।
৪. স্পেন: ষোল শতকে স্পেন উপনিবেশ স্থাপনে এগিয়ে গেলেও সম্পদ আহরণ করার কোনো প্রয়াস স্পেনের ছিল না। ফলে শিল্প বিপ্লব ঘটানোর মতো আর্থ-সামাজিক ভিত্তি স্পেনে গড়ে ওঠেনি। স্পেনের রাজকোষে তাই অর্থ বাড়েনি। স্পেনের রাজশক্তি ইউরোপের বাজার থেকে ঋণ করতে বাধ্য হয়। স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজার ঋণপত্র কিনে রাজাকেই ধার দিতো। যে সব ঋণদায়ী কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেগুলো ছিল বণিকী ব্যাংক। ফলে শিল্প স্থাপনায় স্পেন খুব একটা অগ্রসর হতে পারেনি। উনিশ শতকে রেল শিল্পে বিদেশি কোম্পানি যথেষ্ট অর্থ বিনিয়োগ করলেও পণ্য সরবরাহের অভাবে এ খাত ততোটা লাভজনক হতে পারেনি। তবে স্পেনে সত্যিকার শিল্পের প্রসার ঘটেছিল ১৯৫০-এর দশকের পর থেকে। উর্বর জমি, পুঁজি এবং খনিজ সম্পদের অভাবই স্পেনে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব না পড়ার অন্যতম কারণ বলে অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন।
রাশিয়া: রাশিয়া ইউরোপের অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া দেশ। ১৮৬১ সালে ভূমিদাস প্রথা রহিত করার পর দেশটিতে শিল্পের প্রসার শুরু হয়। প্রচুর খনিজ সম্পদ থাকার পরও সামন্ত জমিদার ও জারতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের কারণে দেশটি কৃষি ও শিল্পে প্রত্যাশিত উন্নতি ঘটাতে পারেনি। তবে ১৯২৮ সালে সোভিয়েত আমলে সরকার শিল্পায়নের নীতি দৃঢ়ভাবে প্রবর্তন করার পর দেশটিতে ভারী শিল্পের যাত্রা নতুনভাবে শুরু - হয়। ১৮৯০-এর দশকে রাশিয়ায় কয়লা, রেল, লোহা, পেট্রোল নিষ্কাশন, যন্ত্রশিল্প, শিল্প কারখানা ইত্যাদিতে দ্রুত প্রসারের গতি লক্ষ্য করা যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) আগ পর্যন্ত রাশিয়ায় শিল্পোৎপাদন ৫% হারে বৃদ্ধি পায়। রাশিয়াতে ঐ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগও দ্রুত বিকাশ লাভ করে। ১৯২৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন শিল্পোৎপাদনে পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানে ওঠে আসে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, গ্রেটব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়ন)। এর কারণ হচ্ছে, ১৯২৮ সালে শিল্পায়ন নীতি গ্রহণ করার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ভারী শিল্পে আত্মনিয়োগ করে। অবশ্য ১৯১৭ সালে বিপ্লবের পর পরই বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতি গৃহীত হওয়ায় দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয়ভাবে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ১৯৭০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সব খাতে পৃথিবীতে মহাকাশ শিল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এ সময়ে পরাশক্তি হিসেবে বিশ্ব রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়।
তবে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন ঘটাতে না পারায় পুঁজিবাদী দুনিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে, জনমানসে পশ্চিমা দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। অথচ শিক্ষা, ক্রীড়া, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান চর্চায় দেশটি পশ্চিমা দুনিয়াকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। অর্থনীতি ও রাজনীতির অসম বিকাশ ১৯৯১ সালে দেশটিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। শিল্প বিপ্লব স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ (ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে), বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে প্রায় সমসাময়িক সময়েই শুরু হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগেও যাত্রা শুরু করেছিল। বস্ত্র, সিল্ক, ঘড়ি, জাহাজ, বৈদেশিক বাণিজ্য, যন্ত্রশিল্প, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি খুঁটিনাটি শিল্পে এই দেশগুলো আপন গতিতে সমৃদ্ধ হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ দেশগুলো নীরবেই শিল্প বিপ্লবের ধারায় প্রবেশ করে এবং ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়।
ফলাফল: শিল্প বিপ্লব-উত্তর ইউরোপের আর্থ-সামাজিক জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। নিচে কয়েকটি খালে চিত্র তুলে ধরা হলো-ফলাফল: শিল্প বিপ্লব-উত্তর ইউরোপের আর্থ-সামাজিক জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। নিচে কয়েকটি খালে চিত্র তুলে ধরা হলো-
১।জনসংখ্যার বৃদ্ধি: শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে জনসংখ্যা দ্রুত হারে বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দের আগে কোনো দেশে জনগণনা এবং ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দের আগে জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন হয় নি। শিল্প বিপ্লবের ফলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। গ্রামে কৃষি এবং শহরে শিল্পসহ-শিং এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে।
২।অর্থনৈতিক অবস্থা: শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়ে থাকে। অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কলকারখানা, যোগাযোগ, যানবাহন ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠনের দ্রুত প্রসার ঘটতে থাকে। পুরাতন সামন্ত কৃষি অর্থনীতির মন্থর উন্নয়নের স্থলে বাজার ও পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্রুত উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ধারা সূচনা করে। মাত্র দু'শ বছরে ইউরোপের অর্থনীতি পূর্ববর্তী হাজার বছরের সামন্ত অর্থনীতির চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
৩। সামাজিক অবস্থা: শিল্প বিপ্লব ইউরোপের দেশগুলোর সমাজ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শিল্প বিপ্লবের ফলে বণিক, শিল্পপতি, শ্রমিক, কৃষক, কারিগর, শিক্ষক, উকিল, আমলাসহ নানা সামাজিক শ্রেণি ও গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। এ সব শ্রেণি পেশার মানুষ গ্রামীণ ও শহুরে জীবনে ব্যাপক বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। প্রতিটি দেশে শ্রমিক, কৃষক, বণিক, শিল্পপতিসহ নানা শ্রেণির উত্থান ও বিকাশ ঘটতে থাকে। ভাঙাগড়ার প্রক্রিয়া কোনো কোনো দেশে বেশ কঠিন ছিল। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, রাশিয়া ও স্পেনে দরিদ্র ও ধনীর মধ্যে বৈষম্য ছিল ব্যাপক এবং কষ্টদায়ক। এজন্য ইংল্যান্ডে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে রানি এলিজাবেথ 'দরিদ্র আইন' (Poor Act) প্রবর্তন করেন। অন্যদিকে স্ক্যান্ডেনেভিয়ানসহ (উত্তর ইউরোপ) কয়েকটি দেশে তা ছিল অপেক্ষাকৃত মসৃণ। যেখানে কষ্টদায়ক হয়েছিল সেখানে শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলন, বিপ্লব ও বিদ্রোহ স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এ সকল সামাজিক শ্রেণি নিজেদের স্বার্থে নানা সংগঠন, সংস্থা, রাজনৈতিক দল ও ব্যবসা-বাণিজ্যিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে নিজেদের বিকাশ সাধনে তৎপর হয়। আধুনিক যুগের রাজনৈতিক দল তথা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এসব দেশ যার যার অবস্থান তৈরি করে।
৪। শিক্ষা-বিজ্ঞান, গবেষণা ও সংস্কৃতি: শিল্প বিপ্লব ইউরোপের দেশসমূহের সকল স্তরে শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রতিটি দেশেই শিক্ষানীতি কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ গৃহীত হয়। দু'শ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইউরোপের সব দেশ থেকে নিরক্ষরতা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়, শতভাগ জনসাধারণ বাধ্যতামূলক স্কুল শিক্ষার আওতায় আসে, নারী শিক্ষা সমাজে পুরুষদের সঙ্গে সমানাধিকারের বিষয়ে পরিণত হয়। শিক্ষার সিংহভাগ দায়িত্ব বেশির ভাগ রাষ্ট্র বহন করতে শুরু করে। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা শিল্প বিকাশ ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্যে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ইউরোপের সব দেশেই শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে শিক্ষা ও গবেষণা উচ্চতর স্তরে উন্নীত হয়। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ব্যাপকভাবে সমাদৃত হতে থাকে। ইউরোপের নগরগুলোতে থিয়েটার, চলচ্চিত্র, চিত্রকলাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন আয়োজন মানুষের জীবনকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অবদান রাখে।:
শিল্প বিপ্লব - প্রফেসর জে.এম. বেলাল হোসেন সরকার স্যারে এর লেখা বই
Read more