দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণে ইউরোপের যে সকল অঞ্চল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাববলয়ে এসেছিল, তন্মধ্যে সাবেক ১১টি (এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া বাদ দিয়ে, এগুলো সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে ইউনিয়নভুক্ত হয়) স্বাধীন দেশ অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুগে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো সোভিয়েত সৈন্যবাহিনী দ্বারা নাৎসি কবলমুক্ত হয়। ফলে পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশই সোভিয়েত রাশিয়ার ধ্যানধারণা অনুযায়ী সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠন করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রুশিয়ার উত্তরাংশ (পূর্ব জার্মানি), পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, যুগোশ্লাভিয়া, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া প্রভৃতি দেশ। যেসব এলাকা রাশিয়ার সাথে যুক্ত হয় তার জনসংখ্যা ছিল আড়াই কোটি; আর যেগুলোতে রাশিয়ার তাঁবেদার সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৯ কোটি।
পূর্ব ইউরোপের এ বিশাল ভূভাগ ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাজনিত কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিকট অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই দেখা যায়, ইউরোপীয় রণাঙ্গনে যুদ্ধের শেষের দিকে সোভিয়েত বাহিনী অতি দ্রুত বার্লিন ও প্রাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলে নেয়। এর অল্পকাল পরেই পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের 'লৌহ যবনিকা'র সূত্রপাত হয়। এ যবনিকার অন্তরালে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল:
প্রথমত: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার সংঘর্ষপ্রবণ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা। এ অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহে বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠা করা। জনগণকে এমনভাবে দীক্ষিত ও প্রভাবিত করা, যাতে যুদ্ধের সময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের তাঁবেদার ও মিত্র হিসেবে থাকে।
দ্বিতীয়ত: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোকে পশ্চিমের পরিবর্তে রাশিয়ামুখী করে গড়ে তোলা, পশ্চিমের প্রভাবমুক্ত রাখা।
তৃতীয়ত: এ অঞ্চলের সম্পদ ব্যবহার করে রাশিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠন করা এবং অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করা।
পাঁচটি পর্যায়ে রাশিয়া উপর্যুক্ত নীতি বাস্তবায়ন করে:
প্রথম পর্যায়: প্রথম পর্যায়ে নাৎসি আক্রমণ ও উৎপীড়ন থেকে মুক্ত করে এতদঞ্চলে কিছুটা জনপ্রিয়তা লাভকরে। নিজেদের শাসন চাপিয়ে না দিয়ে প্রত্যেক দেশে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে (পোল্যান্ড ছাড়া)। ধীরে ধীরে তারা কমিউনিস্টদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকে; যাতে তারা পুঁজিপতিদের হটিয়ে নিজেরা রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করতে পারে।
বসিয়ে নাৎসিবিরোধী দল নিয়ে কোয়ালিশন দ্বিতীয় পর্যায় : এ পর্যায়ে স্থানীয় কমিউনিস্টদের ক্ষমতায় না বসিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
তৃতীয় পর্যায়: তৃতীয় পর্যায়ে রুশরা পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহে স্থানীয় কমিউনিস্ট ছাড়া সকলকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। তবে সব দেশে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। অ-কমিউনিস্টদের কলঙ্কিত করা এ পর্যায়ে শুরু হয়। যেমন- রুমানিয়ার কৃষক দলের নেতা 'মানিউ'-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।
চতুর্থ পর্যায়: এ পর্যায়ে তারা স্থানীয় কমিউনিস্টদের সরিয়ে তাদের তাঁবেদারদের ক্ষমতায় বসায়। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শাসককে অপসারণ করা হয়; মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়। এভাবে মোট ৪টি পর্যায়ে পূর্ব ইউরোপীয় দেশে নীতির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়।
পঞ্চম পর্যায়: রুশরা পূর্ব ইউরোপের তাঁবেদার রাষ্ট্রসমূহে কৃষক শ্রেণি, ক্যাথলিক চার্চ ধ্বংস করার কাজে হাত দেয়। রাশিয়া নিজ নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রসমূহে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।
উপর্যুক্ত নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে প্রতিক্রিয়া হয়, সে প্রতিক্রিয়াই পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতনকে ত্বরান্বিত করে।
পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পতনকে নিম্নলিখিতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:
প্রথমত: মতাদর্শিক চেতনার চেয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রাধান্য। পূর্ব ইউরোপে রাশিয়া যে নীতি গ্রহণ করে তার সাথে পূর্ব ইউরোপীয় জনগণের আন্তরিক সম্পৃক্ততা ছিল না। আবার জনপ্রিয় নেতাদের অপসারণ করে তাঁবেদার সরকার প্রতিষ্ঠা জনভিত্তি পায়নি। যে কারণে যুগোশ্লাভিয়ার টিটো কমিউনিস্ট হয়েও মস্কোর তাঁবেদার হননি।
দ্বিতীয়ত: হাঙ্গেরির জননেতা রাজকের মৃত্যুদণ্ড, চেকোস্লোভাকিয়ার মানস্কি ও ক্লিমেনসিকে ফাঁসি প্রদান- এ গর্হিত কাজগুলো পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্র পতনের একটি কারণ। জনপ্রিয় নেতাদের এ করুণ পরিণতি রাশিয়া তথা সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্রোধের জন্ম দেয়।
তৃতীয়ত: পূর্ব ইউরোপের কৃষকরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। কৃষকরা নিজের জমি নিজের দখলে রাখতে চায়। কমিউনিজম শাসনে আবাদযোগ্য জমি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খামারব্যবস্থা চালু করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক সমাজতন্ত্রের প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়; যা এর পতনকে ত্বরান্বিত করে।
চতুর্থত: পূর্ব ইউরোপের অধিকাংশ মানুষ ছিল ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী, যাদের উপর কমিউনিস্ট প্রচারণা কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। উপরন্তু রুশ তাঁবেদার সরকার ক্যাথলিক চার্চ ধ্বংস করলে ধর্মানুরাগী খ্রিষ্টানরা সমাজতন্ত্রকে সুনজরে দেখেনি, যা পতনের অন্যতম কারণ।
পঞ্চমত: পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশেই সমাজতন্ত্রের মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একদলীয় সোভিয়েত নীতি প্রবর্তিত থাকায় কমিউনিস্ট পার্টি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র বিলুপ্তির পূর্বেই সেখানে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে।
ষষ্ঠত: হেলসিংকি সম্মেলন ও পুঁজিবাদী অর্থনীতির শক্ত অবস্থান পূর্ব ইউরোপ থেকে সমাজতন্ত্র বিলুপ্তির কারণ। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে হেলসিংকিতে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাতে রাশিয়া পূর্ব ইউরোপের তাঁবেদার সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রগণকে পূর্ব ইউরোপে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়। সেটাই পরবর্তী সময়ে পূর্ব ইউরোপীয় ভিন্নমতাবলম্বীদের সোভিয়েত কবলমুক্ত হওয়ার মদদ জোগায়, যার ফল হলো ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের গণজাগরণ।
এ সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্ররা পূর্ব ইউরোপে আর্থিক, রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব ইউরোপকে নিজের অর্থনীতির সাথে যুক্ত করা এবং সোভিয়েত প্রভাবাধীন কমিউনিজমের প্রসার রোধ করা। মূলত প্রলোভন দেখিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণজাগরণ ঘটাতে সক্ষম হয়; যার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের প্রভাববলয় ধ্বংস হয়ে যায়।
সপ্তমত: সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট বহির্বিশ্বে তার সাম্রাজ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে পারেনি। শিল্প পরিচালনায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণে জনগণ পূর্ব ইউরোপের স্বৈরশাসনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে।
উপরিউক্ত কারণগুলোকে পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার সাম্রাজ্য ধ্বংসের জন্য দায়ী হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া যায়।। তবে গর্বাচেভের শত্রুরা মনে করে, তিনিই পূর্ব ইউরোপকে হারানোর জন্য দায়ী। কেননা সংস্কার কর্মসূচি, গ্লাসনস্ত (স্বাধীন মতামত ও সমালোচনা করার অধিকার) ও পেরেস্ত্রৈকা (অর্থনৈতিক পুনর্গঠন) প্রয়োগের ফলে এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের দরুন সে দেশগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে। পূর্ব ইউরোপীয় বিপ্লবের ধরন দেখে মনে করা যেতে পারে যে, অত্যধিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকরী নয়। এ ধরনের ক্ষমতার দ্বারা অসন্তোষকে সাময়িক দমিয়ে রাখা সম্ভব, তবে দীর্ঘস্থায়ী কখনো নয়। এরূপ ক্ষমতা নেতৃবৃন্দকে কখনো বৈধ করে না। পূর্ব ইউরোপে বিপ্লব এসেছে জনগণের ইচ্ছা ও দৃঢ়তা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে, যা ছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণ-উত্থান।
Poland
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় পোল্যান্ড। রাশিয়ার দ্বারা পোল্যান্ড মুক্ত হয়। কিন্তু যুদ্ধকালীন ইয়াল্টা সম্মেলনে (১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) স্থির হয়েছিল যে, নাৎসি শাসনমুক্ত ইউরোপকে স্বনির্বাচিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অধীন করা হবে। কিন্তু গণতন্ত্র সম্পর্কে রাশিয়া ও পশ্চিমা জোটের ধারণাগত পার্থক্য ছিল। পশ্চিমা গণতন্ত্রের আদর্শে রাশিয়া বিশ্বাসী ছিল না। নাৎসি নিপীড়ন থেকে মুক্ত করার পুরস্কার হিসেবে রাশিয়া পোল্যান্ডে নিজ মতাদর্শের সরকার স্থাপন করে। পোল্যান্ডের অভিজাত ও বিত্তবানরা হিটলারের সৈন্যবাহিনীকে সহায়তা করায় নির্বাসিত পোল সরকারের প্রতি রাশিয়া অসন্তুষ্ট হয়। তাই যুদ্ধোত্তর পোল্যান্ডে নির্বাসিত পোল সরকার ঢুকতে পারেনি। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে কৃষক পার্টির নেতা মিকোলাজাস্কি কমিউনিস্টদের কাছে পরাজিত হয়ে নিপীড়নের ভয়ে দেশ ত্যাগ করেন।
স্ট্যালিনবাদ উচ্ছেদের যুগে পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোতে উদারনীতির সরকার প্রবর্তিত হয়। পোল্যান্ডে এ উদার মনোভাবকে অক্টোবরের বসন্ত বলা হয়। পোল্যান্ডের কমিউনিস্ট দল এ সময় স্বাধীনচেতা ও উদারনৈতিক পার্টি সদস্য দ্বারা পরিচালিত হতো। কিন্তু ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে পোল্যান্ডে রাশিয়ার অর্থনৈতিক শোষণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়। রাশিয়ার নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে কিছুটা সুবিধাদানে রাজি হন। পোল্যান্ডের কমিউনিস্ট দল থেকে মস্কোর প্রতি সহানুভূতিশীল কয়েকজন নেতাকে সরিয়ে অক্টোবর মাসে গোমুলকাকে মর্যাদার সাথে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। এছাড়া মস্কো পোল্যান্ডের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না বলে রাজি হয়। পোল্যান্ডে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে রকসোভস্কিকে প্রত্যাহার করে নেয়। পোল্যান্ডের অনুকূলে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সমন্বিত করা হয়।
এদিকে পোল্যান্ডে স্বাধীন শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন বিভিন্ন দাবিতে গণজাগরণ সৃষ্টি করে। জাহাজের ডকইয়ার্ডের শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তাদের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল, কৃষকের প্রতি অবহেলা করা যাবে না এবং সোভিয়েত বিরোধিতা প্রাধান্য পায়। শ্রমিকদের রাজনৈতিক দলের নাম হয় সলিডারিটি (সংহতি) এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত আন্দোলনের নাম হয় Solidarity Movement। খুব দ্রুত আন্দোলন জনপ্রিয়তা পেতে থাকলে সরকার দমননীতির আশ্রয় নেয়। এ সময় সলিডারিটি ও কৃষক পার্টির মৈত্রী হলে পোল্যান্ডের কমিউনিস্ট দল গণবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়। সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ থেকে পুরোপুরি মুক্তিলাভের জন্য পোল্যান্ড পূর্ব ইউরোপে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নেয়।
১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের আগস্টে কোনোরূপ পূর্ব পরিস্থিতি ছাড়াই লেস ওয়ালেসা পোল্যান্ডের রাজনীতিতে শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। খুব দ্রুত এ সাহসী নেতা জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার রাজনৈতিক জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নোবেল শাস্তি পুরস্কার লাভ করেন। পশ্চিমা বিশ্ব তার উত্থানে সহযোগিতা করে। তার সলিডারিটি আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল পোল্যান্ডকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্ত করা। জনগণকে প্রস্তুত করে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা লাভ। সলিডারিটির উত্থানে যেসব বৈশিষ্ট্য সহায়ক ভূমিকা নেয় তা হলো- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উদার নীতি প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তিগত মালিকানায় উৎপাদনে উৎসাহদান এবং বৈদেশিক মূলধন পোল্যান্ডের শিল্প ও বাণিজ্যে বিনিয়োগ।

ওয়ালেসার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্ররোচনায় পোল্যান্ডে সামরিক শাসন জারি করা হয়; তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কারাগারে তার অনশন বিশ্বের দৃষ্টি কাড়ে। তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে থাকে। লেনিন ডকইয়ার্ডের শ্রমিক আন্দোলনে সরকার ভীত হয়ে পড়ে। পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো আশির দশকের শেষ দিকে পোল্যান্ডে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে। দেশের সংকট আরো ঘনীভূত হয়। কর্তৃপক্ষ সলিডারিটির সাথে গোলটেবিল আলোচনায় বসতে রাজি হয়। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, ওয়ালেসাকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং তার দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কারাগার থেকে মুক্তি পেলে তিনি জাতীয় নেতার মর্যাদা লাভ করেন। নির্বাচনে তিনি অংশ না নিলেও তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। সলিডারিটির নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। এভাবেই লেস ওয়ালেসার নেতৃত্বে পোল্যান্ড থেকে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে কমিউনিস্ট শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং উদারনৈতিক শাসন প্রবর্তিত হয়। পোল্যান্ড আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।
Hungary
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুগে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবে হাঙ্গেরিতে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্ববর্তী পাঠে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হয়েছিল তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব ইউরোপের এ বিশাল অঞ্চল সোভিয়েত প্রভাববলয়ে থাকার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা (ফ্রান্স, ইংল্যান্ড) এ অঞ্চল শোষণ করার সুযোগ পায়নি। তাদের কাছে সোভিয়েত প্রভাবাধীন এ অঞ্চল সব সময় প্রলোভনের বস্তু ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের প্রচেষ্টা ছিল কীভাবে এ উর্বর অঞ্চল উন্মুক্ত করা যায়। তারা স্পষ্টই উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এতদঞ্চল থেকে স্বার্থ উদ্ধার সম্ভব নয়। তাই তারা অতি সূক্ষ্মভাবে এতদঞ্চলে সোভিয়েতবিরোধী গণজাগরণ সৃষ্টিতে মদদ দেয়।
পোল্যান্ডের আন্দোলনের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে হাঙ্গেরিও ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে আগস্ট আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি ও সোভিয়েত বিরোধিতা। পোল্যান্ডের মতো রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে রাশিয়া হাঙ্গেরিতে ব্যর্থ হয়। কেননা হাঙ্গেরির অধিবাসীরা পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানায় এবং পরিস্থিতি কমিউনিস্ট নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিদ্রোহী আন্দোলনকারীরা কমিউনিস্ট দলকে ভেঙে দিতে, ওয়ারস চুক্তি পরিত্যাগ করতে এবং সোভিয়েত শাসনের শেষ নিদর্শন নির্মূল করতে উদ্যোগ নেয়। স্ট্যালিনবাদ উচ্ছেদনীতির ফলে ইতিপূর্বে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বিতাড়িত ইমের নেগির নেতৃত্বে জনপ্রিয় সরকার ক্ষমতায় বসে। নেগি সরকার ছিল জোটনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাসী, ফলে ওয়ারস চুক্তি পরিত্যাগ করে এবং সোভিয়েতবিরোধী 'মেনডিসকে' মুক্তি দেয়। এদিকে রাশিয়ার ইন্ধনে স্ট্যালিনপন্থি 'রকোসির' নেতৃত্বে নেগি সরকারের পতন হয়। এতে হাঙ্গেরির জনগণ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বুদ্ধিজীবীরাও ব্যক্তিস্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন। এ আন্দোলন কমিউনিস্ট ও প্রতিক্রিয়াশীলবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, কমিউনিস্টরা হামলার শিকার হয়। কমিউনিস্ট মতাদর্শবিরোধী এ আন্দোলন যাতে পূর্ব ইউরোপে প্রসারিত না হয় সেজন্য সোভিয়েত সৈন্যবাহিনী হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করে পুনরায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। কমিউনিস্ট নেতা 'জানেস কাদার' প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার স্থাপন করেন।

এ সময় হাঙ্গেরির ঘটনাপ্রবাহ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত হলেও সুয়েজ সংকটের কারণে কোনো সুরাহা হয়নি। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে হাঙ্গেরি প্রসঙ্গটি সাধারণ পরিষদের সভায় উত্থাপন করা হলে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল গঠন করে রিপোর্ট করতে বলা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, কাদার সরকার সামরিক হস্তক্ষেপের ফলেই ক্ষমতা লাভ করেছে। কিন্তু রাশিয়ার ন্যায় বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। উপরন্তু অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নেগিকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
হাঙ্গেরির অভ্যুত্থান সম্পর্কে রাশিয়ার বক্তব্য হচ্ছে- এটি পাশ্চাত্য রাষ্ট্রগোষ্ঠীর চক্রান্তে একটি ফ্যাসিস্ট প্রতিবিপ্লব। পরবর্তীকালের হাঙ্গেরির ঘটনাপ্রবাহ খুব নাটকীয়। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ক্রুশ্চেভের পতনের পর থেকে হাঙ্গেরির শাসননীতিতে অনেক পরিবর্তন আসে। স্ট্যালিন যুগের সহানুভূতিহীন একপক্ষীয় নীতির স্থলে * সহানুভূতিশীল নীতি কার্যকর হয়। ফলে যে সকল বুদ্ধিজীবী পূর্বে কমিউনিস্ট শাসন ভয়ে সমর্থন করতেন, তারা শাসকবর্গ থেকে বিছিন্ন হতে শুরু করেন। লেখক সংঘে ভাঙন ধরে, সাংবাদিকরা অধিক অবাধ রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানান। এ সময় গর্বাচেভের সংস্কারনীতি ঘোষিত হলে হাঙ্গেরির ঘটনাপ্রবাহ খুব দ্রুততার সাথে ঘটতে থাকে। হাঙ্গেরিতে পরিবর্তন আবশ্যক, সেটা সবাই বুঝলেও কীভাবে আসবে তা নিয়ে মতবিরোধ ছিল। এর মূলে ছিল ভঙ্গুর অর্থনীতি। অর্থনৈতিক সংস্কার দিয়ে এ অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়; কমিউনিস্ট দলের নিয়ন্ত্রণের শিথিলতাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের বসন্তকালে হাঙ্গেরির অবস্থা অত্যন্ত অনিশ্চিত ও নাজুক হয়ে পড়ে। শাসক কাদারও অবস্থার উন্নতির জন্য সঠিক কোনো সমাধান দিতে পারেননি। অবশেষে অন্যান্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাদার দলীয় বৈঠক করতে বাধ্য হন। প্রতিপক্ষ তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। 'গ্রসজ'-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নয়ন হয়নি।
১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সর্বদলীয় বৈঠকে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন শাসনতন্ত্র রচনার কাজ আইন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়। দল-মত-নির্বিশেষে সকলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। হাঙ্গেরিই প্রথম পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্র পদ্ধতি চালু করে। অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট 'জোরস' হাঙ্গেরিকে 'জনগণের প্রজাতন্ত্রের' স্থলে শুধু 'প্রজাতন্ত্র' বলে সরকারিভাবে ঘোষণা দেন। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দেশটি কমিউনিস্ট শাসন ও সোভিয়েতমুক্ত হয়। বর্তমানে হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য।
রুমানিয়া
Romania
পূর্ব ইউরোপীয় বিপ্লবের হিংসাত্মক রূপ পরিচালিত হয় রুমানিয়ায়। রুমানিয়ার শাসক এককভাবে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতেন। স্ট্যালিনদের দলীয় পলিটব্যুরোর চরম ক্ষমতার চেয়েও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ছিল রুমানিয়ার শাসক চসেঞ্চুর। এজন্য ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের ক্ষমতা বদলের চিত্র আর রুমানিয়ার ক্ষমতা বদলের চিত্র ভিন্ন। ইউরোপীয় বিপ্লবের চরম নিষ্ঠুর রূপ রুমানিয়ায় পরিলক্ষিত হয়। অন্যান্য দেশে বিপ্লবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা ধারাবাহিকতা ছিল। ১৯৫৬ বা ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়, যার পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৮৯-৯১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। কিন্তু রুমানিয়ার স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তাই এটাকে বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান বলা যায়। যদিও সে দেশের জনগণ এটাকে 'ডিসেম্বরের অলৌকিক ব্যাপার' বলে মনে করে।

রুমানিয়ায় সোভিয়েত কর্তৃত্ব পূর্ববর্তী ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর পটভূমিকার মতোই প্রতিষ্ঠিত হয়। কমিউনিস্ট শাসক চসেন্ধু সোভিয়েত ইউনিয়নের সৃষ্ট হলেও বিদেশনীতিতে তিনি রাশিয়ার ন্যায় সহাবস্থানে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি চীনা কমিউনিজমে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং গুরুত্ব দিতে থাকেন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্ব কমিউনিস্ট সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটিতে রাশিয়া ও রুমানিয়ার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও চেকোস্লোভাকিয়ায় হস্তক্ষেপ রুমানিয়া সমর্থন করেনি। রুমানিয়া পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হয়ে ওঠে। চসেস্কুর এসব ধৃষ্টতা দেখে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন, যেকোনো সময় রুমানিয়ায় হাঙ্গেরির মতো সোভিয়েত সেনাবাহিনী প্রবেশ করবে। বরং উল্টোটাই ঘটে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের জুনে রুমানিয়া-রাশিয়া ২০ বছরের মৈত্রী চুক্তি সম্পাদিত হয়। সম্ভবত হাঙ্গেরির তিক্ত অভিজ্ঞতায় রাশিয়া রুমানিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি।
রুমানিয়ার কমিউনিস্ট শাসন আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে ডিসেম্বর অবসান হয়। চার দশকেরও অধিককাল যাবৎ চলতে থাকা চসেস্কুর শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে নিষ্ঠুর পরিণতির মধ্য দিয়ে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে 'টিমিসোয়ায়' যে গণ-অসন্তোষ শুরু হয় তা ঐদিনই রুমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে চরম আকার ধারণ করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিকোলাই চসেন্ধু সরকার ও রুমানিয়ার কমিউনিস্ট দলের পতন ঘটায়। এ ধরনের একটি গণজাগরণ কয়েক সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্তও ছিল কল্পনাতীত।
২২শে ডিসেম্বর সকাল ১১টায় চসেস্কু হেলিকপ্টারযোগে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস ত্যাগ করলে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পার্টি অফিস দখল করে নেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে 'জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট' গঠন করা হয়। যাদের নিয়ে এ ফ্রন্ট গঠন করা হয় তার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক দলীয় আমলা ইলিয়েন্ধু ও অন্যান্য ভিন্নমত পোষণকারী নেতা। দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট শাসক চসেন্ধু সস্ত্রীক পালিয়ে যাওয়ার সময় 'জাতীয় মুক্তিফ্রন্টের' কর্মীদের হাতে ধরা পড়েন। মুক্তিফ্রন্টের একজন মুখপাত্র জনসমক্ষে বিচারের অঙ্গীকার করেন। ২৫শে ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় যে, একটি গোপন সামরিক আদালতে চসেস্কুর বিচার সম্পন্ন হয়েছে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা সাথে সাথে কার্যকর করা হয়েছে। দ্রুতগতিতে তার বিচার ও মৃত্যুদণ্ড রহস্যময় বিষয়। এ ব্যাপারে জাতীয় মুক্তিফ্রন্টের ব্যাখ্যায় বলা হয়, অনেকগুলো জীবন রক্ষা পেয়েছে। চসেন্ধুর প্রতি অনুগতদের শিক্ষা দিতেই এ গর্হিত কর্মটি করা হয়েছে।
চসেস্কুর প্রতি জনতার রুদ্ররোষের কারণ হিসেবে বলা যায় যে, তিনি স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি উচ্চ পদসমূহে পরিবারের লোকজনকে বসিয়েছিলেন। ক্ষমতাকে বংশানুক্রমিক করার ব্যবস্থা জনরোযাগ্নি ও তার নিষ্ঠুর পরিণতির কারণ।
পূর্ব ইউরোপের বিপ্লবের দ্বারা নির্বাচিত ৩টি দেশে ক্ষমতার পালাবদল শুধু ঘটেনি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কমিউনিস্ট শাসনের অবসান হলেও কোনো কোনো দেশে নতুনরূপে সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাজেই কমিউনিজম পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে তা নয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এসব দেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমাতাসুলভআচরণ তাদের ইউরোপের মূলধারায় প্রবেশের সুযোগ দেয়নি, বিশেষ করে রুমানিয়াকে।
স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব-প্রফেসর নাসরিন বেগম ম্যাডাম এর লেখা বই
Read more