Lord Lytton (1876–1880 AD.)
লর্ড নর্থব্রুক-এর পর ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে লর্ড লিটন ভারতবর্ষের ভাইসরয় নিযুক্ত হন। তিনি তৎকালীন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডিজরেইলীর রাজনৈতিক শিষ্য এবং একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক ছিলেন। ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে পার্লামেন্টে "Royal Title Act" পাস হলে তিনি দিল্লিতে এক বিরাট সভায় মহারানি ভিক্টোরিয়াকে "কাইজার-ই-হিন্দ" বা "ভারত সম্রাজ্ঞী" উপাধিতে ভূষিত করেন।
ভারতে নানা কারণে লর্ড লিটনের শাসনকাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি কতগুলো দমনমূলক আইন পাস করেন এবং যুদ্ধবিগ্রহের দ্বারা ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ এবং ভারতবাসীর বিরাগভাজন হন। এ সকল কর্মকাণ্ডের মধ্যে-
প্রথমত, তিনি অস্ত্র আইন পাস করে বিনা লাইসেন্সে অস্ত্র রাখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
দ্বিতীয়ত, সংবাদপত্র আইন পাস করে দেশীয় ভাষায় প্রচারিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেন।
তৃতীয়ত, পূর্ববর্তী শাসকদের নিরপেক্ষ নীতি পরিত্যাগ করে অগ্রসর নীতি (Forward policy) অনুসরণ করেন।
লর্ড লিটনের আফগান নীতি (Afgan Policy of Lord Liton)
১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দের পর যে সমস্ত রাজপ্রতিনিধি ভারতে আসেন তাঁদের মধ্যে লর্ড লিটন ছিলেন অন্যতম। তিনি ভারতে আগমন করেই উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত তথা আফগানিস্তানের শাসনতান্ত্রিক সমস্যা নিয়ে জড়িয়ে পড়েন। তিনি রুশ অগ্রগতি প্রতিহত করার জন্য, পূর্ববর্তী শাসকদের নিরপেক্ষ নীতি পরিত্যাগ করে অগ্রসর নীতি (Forward policy) অনুসরণ করেন । তিনি আফগানিস্তান হিরাতে একজন ব্রিটিশ রেসিডেন্ট রাখার প্রস্তাব দিলে আফগানিস্তানের আমির শের আলী নিজেকে ব্রিটিশ মিত্র বলে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে লর্ড লিটন ক্রুদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় আফগান যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এখানে উল্লেখ্য যে লর্ড অকল্যান্ডের (১৮৩৬-১৮৪২) সময় প্রথম আফগানযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ বাহিনী আফগানিস্তান আক্রমণ করে রাজধানী কাবুল অধিকার করে। আমির শের আলী যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তুর্কিস্তানে পলায়ন
করেন। অতঃপর শের আলীর পুত্র ইয়াকুব খানকে কাবুলের আমির পদে অধিষ্ঠিত করে তার সাথে 'গণ্ডামুখে' একটি সন্ধি স্বাক্ষর করেন। স্বাধীনতা প্রিয় আফগানগণ এই সন্ধি মেনে নিতে না পেরে বিদ্রোহী হন। ক্রুদ্ধ লিটন কাবুল থেকে কান্দাহারকে পৃথক করার নীতি গ্রহণ করেন। এ সময় ইংল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের পরাজয় ঘটলে উদারনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোন লিটনের আফগান নীতির নিন্দা করেন। সে কারণেই ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পদত্যাগ করেন।
Read more