Qualities of a Good/Ideal Leader
দলের সদস্যদের প্রভাবিত করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তাকে বলা হয় নেতা। একজন আদর্শ নেতাই পারেন কর্মীদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে। তাই, একজন আদর্শ বা সফল নেতা হতে হলে একজন ব্যক্তিকে বহুগুণের অধিকারী হতে হয়। Robert J. Allion উত্তম নেতার নিম্নোক্ত ৫টি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন-
- নির্ভরযোগ্যতা (Reliability): নেতাকে একজন প্রকৃত তথা খাঁটি মানুষ (Real Man) হতে হবে। তাকে এমন হতে হবে যেন সবাই তাকে বিশ্বাস করে এবং তার ওপর নির্ভর করতে পারে।
- নৈতিক চরিত্র (Morality): সফল নেতৃত্বের জন্য নেতাকে অবশ্যই উন্নত মনোবল ও নৈতিকভাবে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তবেই তিনি অনুসরণীয় হতে পারবেন।
- দূরদৃষ্টি (Foresightness): ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করার ক্ষমতা বা কল্পনাশক্তি থাকা নেতার একান্ত প্রয়োজন। তাই, নেতাকে সুদূরপ্রসারী চিন্তার অধিকারী হতে হবে।
- ইচ্ছাশক্তি (Willingness): একজন নেতার অবশ্যই সাহসিকতা ও উৎসাহের সাথে কাজ করার ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। এ অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।
- জ্ঞানসম্পন্ন (Knowledgeable): নেতার বিচক্ষণ, গভীর ও বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তিনি কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারবেন।
এছাড়াও একজন উত্তম বা আদর্শ নেতাকে নিচের গুণাবলির অধিকারী হতে হয়-

ক. পেশাগত গুণাবলি (Professional Qualities): নেতাকে তার কর্মক্ষেত্রে সব সময় তৎপর থাকতে হয়। প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষভাবে তাকে পেশাগত কাজের সাথেই জড়িত থাকতে হয়। তাই তার নিচের পেশাগত গুণ থাকা প্রয়োজন
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা (Decision making ability): নেতাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার সিদ্ধান্তের ওপরই দলীয় কার্যক্রম নির্ভর করে। তাই দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতার একটি অতি প্রয়োজনীয় গুণ। এর মাধ্যমে একজন নেতা যেকোনো পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।
- প্রভাবিত করার ক্ষমতা (Influencing ability): নেতাকে প্রতিষ্ঠানের বা দলের সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। তাই তার দলের অন্যান্য সদস্য বা ব্যক্তিকে প্রভাবিত ও প্ররোচিত করার ক্ষমতা থাকতে হয়।.
- যোগাযোগে দক্ষতা (Communication skill): নেতাকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বিভিন্ন পক্ষের সাথে সব সময়
যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হয়। এজন্য যোগাযোগ স্থাপনে নেতার দক্ষতা থাকা একান্ত প্রয়োজন। এর মাধ্যমে অনেক কঠিন কাজের বা অনেক জটিল সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যায় বা ভুল-বোঝাবুঝি দূর হয়। - কারিগরি জ্ঞান (Technical knowledge): বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির যুগে নেতার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের কারিগরি জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্যথায়, তিনি সঠিকভাবে কাজ পরিচালনা করতে পারবেন না। এছাড়া, নেতাকে তার অধীনস্থদের কাজও তত্ত্বাবধান করতে হয়। কারিগরি বিষয়ে অভিজ্ঞ না হলে তার পক্ষে সঠিক তত্ত্বাবধান সম্ভব নয়।
- শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা (Education and experience): শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের বিস্তৃতি ঘটায়। তাই নেতাকে শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া, শিক্ষিত লোকের নেতৃত্ব সহজেই গ্রহণযোগ্যতা পায়। আবার, নেতৃত্বে সফলতার জন্য অভিজ্ঞতারও বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।
- সাংগঠনিক জ্ঞান (Organizational knowledge): সফল নেতা হতে হলে তাকে অবশ্যই যোগ্য সংগঠক হতে
হবে। অর্থাৎ, তার সংগঠিত করার যোগ্যতা থাকতে হবে। যোগ্য সংগঠক যেকোনো পরিস্থিতিতেই নেতৃত্ব দিতে পারেন। এছাড়া, তাকে সঠিকভাবে দায়িত্ব বণ্টন ও সুকৌশলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভ্যস্ত ও কৌশলী হতে হবে।
খ. মনস্তাত্ত্বিক গুণাবলি (Psychological Qualities): নেতৃত্ব একটি চিন্তন ও মননশীল কাজ। তাই, নেতৃত্বে
সাফল্য অর্জন করতে হলে একজন আদর্শ নেতাকে অনেক ধরনের মানসিক গুণের অধিকারী হতে হয়, যা নিম্নরূপ-
- আত্মবিশ্বাস (Self-confidence): নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা বা বিশ্বাস থাকাকে আত্মবিশ্বাস বলে। প্রতিষ্ঠানের যেকোনো কাজে নেতার অবশ্যই নিজের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাস নেতার মনোবলকে বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া আত্মবিশ্বাস যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
- দূরদর্শিতা (Prudence): ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উপলব্ধি ও অনুমান করার সামর্থ্যকে দূরদর্শিতা বলে। এটি আদর্শ নেতার একটি বড় গুণ। এ গুণের মাধ্যমে নেতা সময়ের উপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। এতে তিনি করণীয় আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখতে পারেন। ফলে তিনি সহজেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন। তাই একজন নেতাকে দূরদর্শী গুণের হতে হয়।
- বুদ্ধিমত্তা (Intelligence): আদর্শ নেতাকে যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হতে হয়। কারণ অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে তাকে কাজ করতে হয়। তাই, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমত্তার সাথে নেতাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।
- সাহসিকতা (Couragiousness): নেতা কাজের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিকূলতা ও সমস্যা মোকাবিলা করে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। কাজেই সাহসী না হলে তার পক্ষে এরূপ কাজ করা সম্ভব নয়। তাই, আদর্শ নেতাকে সাহসিকতার সাথে যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ ও বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।
- ধৈর্যশীলতা (Patience): বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন ব্যক্তির মন রক্ষা করে নেতাকে কাজ করতে হয়। অধীনস্থদের ব্যক্তিগত উপলব্ধি, চিন্তা-ভাবনা, রুচিবোধ, আচার-আচরণে অনেক ভিন্নতা দেখা দেয়। নেতাকে এসব কিছু ঠান্ডা মাথায় মোকাবিলা করতে হয়। কাজেই নেতার ধৈর্যশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
ঝুঁকি ও দায়িত্ব গ্রহণ (Undertakeing risk and responsibility): নেতাকে মধ্যম পন্থার ঝুঁকি ও সংশ্লিষ্ট সব
ব্যাপারে যেকোনো দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হয়। ঝুঁকি ও দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা নেতার জন্য মানানসই নয়। এমনকি অধস্তন কর্মীদের ব্যর্থতার দায়ভারও নেতাকেই বহন করতে হয়। নেতা যত বেশি ঝুঁকি ও দায়িত্ব নিতে সক্ষম হবেন, তত বেশি নেতৃত্বের বিকাশ হবে।গ. শারীরিক গুণাবলি (Physical Qualities): একজন নেতাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং বিভিন্ন কাজে সব সময় অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই একজন আদর্শ নেতার নিচের শারীরিক গুণগুলো থাকা উচিত-
- সুস্বাস্থ্য (Good health): নেতাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। তাই, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে সাংগঠনিক দায়িত্ব সব সময় সফলভাবে পরিচালনা করতে পারবেন না।
- পরিশ্রমী (Industry): প্রতিষ্ঠান বা দলের স্বার্থে নেতাকে সারাদিন পরিশ্রম করতে হয়। তাই তাকে অলস হলে চলবে না বরং কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত হতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় যেকোনো কাজে ছুটে যেতে হবে। তাই, আদর্শ নেতাকে নিরলস পরিশ্রমী হতে হয়।
- সুদর্শন (Handsome): সুদর্শন চেহারা নেতার একটি বিশেষ ঐচ্ছিক গুণ। কেননা মানুষ সৌন্দর্যের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে থাকে। সৌন্দর্য মানুষকে আনন্দ দেয়। নেতা যদি আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী হন, তাহলে তার নেতৃত্ব খুব সহজেই অধীনস্থ কর্মীরা মেনে নিতে পারেন। এতে নেতৃত্বদানও সহজ হয়।
ঘ. নৈতিক গুণাবলি (Ethical Qualities): নেতাকে তার দলের সবাই অনুসরণীয় মনে করেন। তাই তাকে সব। সময় নৈতিকতার অনুশীলন করতে হয়। সফল ও কার্যকর নেতৃত্বের জন্য নেতার নিচের নৈতিক গুণ থাকা প্রয়োজন
- সততা ও সহযোগিতা (Honesty and Cooperation): সততা নেতার একটি প্রয়োজনীয় এবং মহৎ গুণ। সততা ও সহযোগিতামূলক আচরণ করলে নেতার প্রতি কর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়। আর এর অভাবে নেতার ওপর আস্থা হারিয়ে তার নেতৃত্ব অকার্যকর ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।
- দায়িত্বশীলতা (Responsibility): প্রতিষ্ঠান বা দলের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে নেতার সঠিকভাবে কাজ সম্পাদনের ওপর। এজন্য তার যথেষ্ট দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া, তিনি যদি তার দায়িত্বে অবহেলা করেন, তাহলে তার কর্মীরা আরও বেশি অবহেলার সুযোগ পাবে।
- দেশপ্রেম (Patriotism): স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। দেশ, দল ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা নেতার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। তাই, 'ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়' এ আদর্শকে বিবেচনায় এনে এবং তার বাস্তব প্রয়োগ করে নেতাকে তার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
- বিচার ক্ষমতা (Judgement power): অন্যায়, অবিচার, পক্ষপাতিত্ব প্রভৃতির ঊর্ধ্বে উঠে নেতাকে সুবিচার করতে হবে। অন্যথায় তার নেতৃত্ব সুদূরপ্রসারী সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হবে। কারণ নেতার কাছ থেকে সঠিক বিচার না পেলে, কর্মীরা কাজের ক্ষেত্রে হতাশ হয়ে পড়ে ও তাদের মনোবল ভেঙে যায়। এতে কাজের ক্ষমতা কমে যায়।
- সময়ানুবর্তিতা (Punctuality): আদর্শ নেতা হতে হলে তাকে অবশ্যই সময়ের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। যথাসময়ে কাজ সম্পাদনে তাকে সচেষ্ট থাকতে হবে। 'সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়'- এ নীতির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তবেই তার পদক্ষেপ কার্যকর হবে। অন্যথায় সঠিক পদক্ষেপও ব্যর্থ হবে।
- ন্যায়পরায়ণতা (Justice): নেতার ন্যায়পরায়ণতা তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। তাই নেতাকে অবশ্যই পক্ষপাতিত্ব না করে সব ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি ন্যায়পরায়ণ না হলে তার কোনো কাজেই কর্মীরা আস্থা রাখতে পারবেন না এবং নেতৃত্ব অকার্যকর হয়ে পড়বে।
ঙ. অন্যান্য গুণাবলি (Other Qualities): উল্লিখিত গুণগুলো ছাড়াও নেতাকে প্রাসঙ্গিক আরও কিছু গুণের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন। এগুলো তাকে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এগুলো হলো-
- পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান (Knowledge about environment): নেতাকে পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে
পদক্ষেপ নিতে হয়। তাকে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই, প্রতিষ্ঠানের বা দলের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ সম্পর্কে তাকে পুরোপরি ধারণা রাখতে হয়। তবেই তার মাধ্যমে সঠিক কর্মপন্থা নির্ধারণ সম্ভব হবে। - অনুসারীদের সম্পর্কে জ্ঞান (Knowledge about followers): নেতা তার অনুসারীদের মাধ্যমেই কার্যক্রম
পরিচালনা করে থাকেন। তাই অনুসারীদের মানসিকতা, যোগ্যতা, রুচিবোধ প্রভৃতি বিষয়ে তাকে ভালোভাবে ধারণা রাখতে হবে। এতে তার অনুসারীদের যোগ্যতা কাজে লাগানো সহজ হবে। অর্থাৎ, অনুসারীদের সম্পর্কে সঠিক ও সার্বিক জ্ঞান থাকলে তাদের দ্বারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ সম্পাদন করানো যাবে। - বাকপটুতা (Oratory): প্রতিষ্ঠান ও দলের স্বার্থ রক্ষার্থে নেতাকে বিভিন্ন মানসিকতার লোকের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়। ঊর্ধ্বতন ও অধীনস্থদের সাথেও সব সময় সংযোগ রক্ষা করে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তাগিদে নেতাকে যথেষ্ট বাকপটু হতে হবে। অন্যথায় দলীয় স্বার্থ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
- খাপ খাওয়ানোর সামর্থ্য (Adaptation ability): নেতাকে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে চলতে হয়।
অনেক প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতিতে তাকে সবার সাথে তাল মিলিয়ে বা খাপ খাইয়ে চলা লাগে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট অনেক পক্ষের সাথে বিরূপ সম্পর্কের সৃষ্টি হবে। এতে করে দলীয় লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। - বংশ মর্যাদা (Parentage): উচ্চ বংশীয় লোকজন সহজেই লোকসমাজে পরিচিত ও আস্থাবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই, বংশ মর্যাদা নেতাকে সহজেই সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটি নেতার একটি ঐচ্ছিক গুণ।
- মোহনীয় ক্ষমতা (Charismatic power): সদস্যদের যে বিশেষ ক্ষমতা বা শক্তি দ্বারা আকৃষ্ট ও অভিভূত করে নেতা আদেশ-নির্দেশ, পালনে প্রভাবিত করে, তাকে মোহনীয় বা সম্মোহনী শক্তি বলে। নেতা যদি সম্মোহনী শক্তির অধিকারী হন তাহলে খুব সহজেই সদস্যদের প্রভাবিত করতে পারেন।
সবশেষে বলা যায়, এসব গুণের সমন্বয়ে একজন নেতা কার্যকর ও ফলপ্রসূ নেতৃত্বদানের মাধ্যমে আদর্শ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেন। তাই নেতাকে এ ব্যাপারে অর্থাৎ এসব গুণ অর্জনে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
Read more