মৌখিক যোগাযোগের মাধ্যম (৮.১২)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

10

Medium of Oral Communication

মৌখিক যোগাযোগের মাধ্যমে যোগাযোগকারী তথা তথ্য প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সরাসরি আলাপ-আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমও ব্যবহার করা হয়, যা নিচে ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো-

ক. অযান্ত্রিক মাধ্যম (Non mechanical media)

মৌখিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়া অন্যান্য মাধ্যম বা পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো-

  • সামনা-সামনি কথোপকথন (Face to face conversation): মুখোমুখি বা সামনা-সামনি
    কথোপকথন মৌখিক যোগাযোগের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি। এরূপ যোগাযোগে প্রেরক এবং প্রাপক উভয়ই খুব কাছে থাকে এবং একে অপরকে দেখতে ও শুনতে পায়।

  • সাক্ষাৎকার (Interview): সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সাক্ষাৎকার
    প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাৎকার গ্রহীতার কথোপকথন হয়। এক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার গ্রহীতা নির্দিষ্ট বিষয়ে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর মতামত জানার জন্য বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং সাক্ষাৎকার প্রদানকারী প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তার মতামত ব্যক্ত করেন। এভাবে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে।
  • বক্তৃতা (Speech): বক্তৃতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বা কোনো নেতা বা শিক্ষক তার অনুসারী বা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কোনো বিষয়, তথ্য, সংবাদ বা মতাদর্শ উপস্থাপনের মাধ্যমে যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন।

দলীয় আলোচনা (Group discussion): একই লক্ষ্য অর্জনে একাধিক ব্যক্তি মিলিত হলে তাকে দল বলা হয়। এক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জনে বা সমস্যা সমাধানে দলীয় সদস্যরা তাদের নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেন।

  • আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কোর্স (Formal training course): প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর অন্যতম উপায় হলো প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী বা বিশেষজ্ঞ নির্বাহী কর্মীদের হাতে-কলমে কোনো বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
  • সভা (Meeting): কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কিছু সংখ্যক মানুষ কোনো বিষয়ে আলোচনার জন্য একত্র হলে, তাকে সভা বলে। ব্যবসায়ে বিভিন্ন ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। যেমন: বিধিবদ্ধ সভা, বোর্ড সভা, বার্ষিক সাধারণ সভা। এগুলোর মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ হয়ে থাকে।
  • সম্মেলন/সমাবেশ (Conference): সমাবেশের মাধ্যমে কোনো নির্বাহী নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন
    করেন। এরপর কর্মীরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সেগুলোর ওপর নির্বাহী আলোচনা-পর্যালোচনা করেন ও সিদ্ধান্ত দেন।
  • পরামর্শ দান (Counselling): বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরামর্শ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু আছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মী বা শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত, পেশাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর বা শিক্ষকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে।
  • পদেষ্টা বোর্ড (Advisory board): সাধারণত তত্ত্বাবধায়ক বা কর্মনায়করা অধীনস্থ কর্মীদের প্রয়োজনীয় মৌখিক উপদেশ-পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে একত্র হলে, তাকে উপদেষ্টা বোর্ড বলে। এ ধরনের বোর্ড নিজ নিজ অধীনস্থদের সাথে নিয়মিত সংযোগ রক্ষা করে এবং সভায় মিলিত হয়।
  • কমিটি বা পর্ষদ (Committee): কোনো উদ্দেশ্য অর্জন বা সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন
    কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে যে বিশেষ দল গঠন করা হয়, তাকে কমিটি বলে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের সাথে মৌখিক যোগাযোগ সম্পন্ন হয়।

  • ভাষণ (Lecture): শ্রেণিকক্ষে বা কর্মীদের শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মৌখিক যোগাযোগ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ সম্পর্ক স্থাপন করা যায়।

খ. যান্ত্রিক মাধ্যম (Mechanical media)

মৌখিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য, সংবাদ, ধারণা, মতামত প্রভৃতি দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়। বহুল ব্যবহৃত যান্ত্রিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিম্নরূপ-

  • দূরালাপনী বা টেলিফোন (Telephone): দূরালাপনী বা টেলিফোন মৌখিক যোগাযোগ
    সম্পাদনের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম। আগে স্থায়ী সংযোগ বিশিষ্ট টেলিফোন ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে মোবাইল ফোনের কারণে দূরালাপনী বা টেলিফোন কম ব্যবহার করা হয়।

  • মোবাইল ফোন (Mobile phone): মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহারে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন
    হাতের মুঠোয়। এর মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বা বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপক কম খরচে ও সহজে কথা বলতে ও তাৎক্ষণিক ফলাবর্তন বা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় মোবাইল বা সেলুলার ফোন সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে।

বেতার বা রেডিও (Radio): ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে জানানোর লক্ষ্যে রেডিওর মাধ্যমে সংবাদ পাঠানো হয়। তবে এটি একটি একমুখী যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে রেডিও ব্যবহার করে থাকে।

  • দূরদর্শন বা টেলিভিশন (Television): টেলিভিশনও জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছানোর
    একটি কার্যকর যান্ত্রিক মাধ্যম। এর সাহায্যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে চিত্রসহ মৌখিক বার্তা পৌছানো যায়। এটি বেশ আকর্ষণীয় ও বহুল প্রচলিত মাধ্যম।

  • ইন্টারনেট (Internet): ইন্টারনেট হলো আন্তর্জাতিকভাবে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক; যা কম্পিউটার, টেলিফোন লাইন বা স্যাটেলাইট এবং রেডিও সংযোগ ব্যবহার করে সংযুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে কথা বলা যায়। বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে কম খরচে সহজে কথা বলা যায়। এক্ষেত্রে ব্যবহৃত জনপ্রিয় অ্যাপস হলো-স্কাইপ, ভাইবার, ইমো প্রভৃতি। এরূপ ব্যবস্থা দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
  • রেকর্ড প্লেয়ার (Record player): রেকর্ড প্লেয়ার মৌখিক যোগাযোগের আরেকটি যান্ত্রিক মাধ্যম। এ প্রক্রিয়ায় প্রেরক তার বক্তব্য রেকর্ড করে সিডি বা ক্যাসেটের মাধ্যমে প্রাপকের বরাবর পাঠিয়ে দেন। প্রাপক সুবিধাজনক সময়ে তা রেকর্ড প্লেয়ারে বাজিয়ে বক্তব্য বা তথ্য শুনে থাকেন।
  • ভয়েস মেইল (Voice mail): কল না করে যান্ত্রিক উপায়ে মানুষের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে পাঠানোর পদ্ধতিকে বলা হয় ভয়েস মেইল। মূলত প্রেরক কর্তৃক প্রয়োজনীয় কথা ধারণ করে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির মেইলে বা ইনবক্সে অবিকলভাবে পাঠিয়ে দেওয়াই হলো ভয়েস মেইল।
  • ভিভিও আলোচনা সভা (Video conferencing): ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত বিভিন্ন ব্যক্তি বা দলের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের একটি আধুনিক পদ্ধতি হলো ভিডিও কনফারেন্সিং। এ পদ্ধতিতে ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিসজ্জিত আলাদা কক্ষে বসে ভিডিওর সাহায্যে পরস্পরকে দেখতে এবং কথা-বার্তা শুনতে পারে।
  • টেলিফোনে আলোচনা সভা (Tele conferencing): টেলিকনফারেন্সিং অনেকটা ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মতো। তবে এক্ষেত্রে একাধিক যোগাযোগকারী একে অপরকে দেখতে পায় না, শুধু কথা শুনতে পায়।

উপসংহারে বলা যায়, বিভিন্ন যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মৌখিক মাধ্যমে মৌখিক যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পাদন হয়। তবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী সবচেয়ে উত্তম মৌখিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...