কর্মীসংস্থানের প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ (৫.৫)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

16

Process or Steps of Staffing

একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের কর্মীর প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে তার চাহিদা অনুযায়ী কর্মী সংগ্রহ করে থাকে। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংগ্রহের কাজ করা হয়, তাকে কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়া বলে। নিচে কর্মীসংস্থানের বিভিন্ন ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো-

১. কর্মীর চাহিদা নিরূপণ (Determining the demand of employees): কর্মীসংস্থানের প্রথম পদক্ষেপ হলো প্রতিষ্ঠানে কর্মীর চাহিদা নিরূপণ করা। কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের শুরুতেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অনুযায়ী কোন পদে কত জন এবং কোন প্রকৃতির কর্মী প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হয়। এরপর কর্মী নিয়োগের দায়িত্বে নিয়োজিত বিভাগকে দেওয়া হয়।

২. কর্মী সংগ্রহ (Recruitment): প্রয়োজনীয় কর্মীদের প্রাপ্তির উৎস নির্ধারণ করে প্রার্থীদের মনে আগ্রহ সৃষ্টি এবং তাদেরকে প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করতে উৎসাহিত করার প্রক্রিয়াকে কর্মী সংগ্রহ বলে। উক্ত আহ্বানে কর্মীর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা প্রভৃতি উল্লেখ করে খবরের কাগজে বা কর্মী প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

৩. কর্মী নির্বাচন (Selection of employees): শূন্যপদ পূরণ করার জন্য প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী সংগৃহীত কর্মী থেকে যোগ্যতাসম্পন্ন নতুন কর্মী বাছাই প্রক্রিয়াকে কর্মী নির্বাচন বলে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদাবনতি, বদলির জন্য কর্মী বাছাই করা যায়। এ পর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত কর্মী বাছাই করে নিয়োগযোগ্য কর্মীর তালিকা তৈরি করা হয়।

৪. কর্মী নিয়োগদান (Appointment of employees): নির্বাচিত প্রার্থীকে চাকরি-সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে যোগদান করানোকে কর্মী নিয়োগ বলে। নিয়োজিত কর্মী যাতে নতুন কর্মস্থলে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রেখে নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে বাছাইকৃত কর্মীদের বেতন, মজুরি ও অন্যান্য শর্ত সম্বলিত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এরপর নিয়োগ চুক্তি করার মাধ্যমে কর্মী নিজ নিজ কাজে যোগ দেয়।

৫. প্রশিক্ষণ (Training): কর্মীদের পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট উপায়ে শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে প্রশিক্ষণ বলে। সদ্য নিয়োগকৃত কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশের সাথে পরিচিত করানোর জন্য তাদের প্রথমে পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মীর কাজ অনুযায়ী উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কর্মী উন্নয়ন বলতে ব্যক্তির বিদ্যমান জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়োগকর্তা কর্তৃক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়াকে বোঝায়।

অতএব বলা যায়, কর্মীসংস্থানের ক্ষেত্রে উপরিউক্ত ধাপ বা পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা হয়। এর মাধ্যমে যথাযথভাবে উপযুক্ত কর্মীর সংস্থান ও তাদের কার্যকর ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...