কর্মীদের প্রেষণা দানের উপায় বা কৌশল: নেতিবাচক প্রেষণা (৭.৫.২)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

14

Ways/Techniques to Motivate Employees: Negative Mo

খ. নেতিবাচক প্রেষণা (Negative Motivation): জনাব গোলাম কিবরিয়া 'কারকুন লি.'-এর মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক। তার অধীনস্থ কর্মীরা সঠিকভাবে কাজ না করলে তিনি তাদের বকাঝকা করেন। কোনো কর্মী কাজে অবহেলা করলে তিনি বেতন কেটে রাখেন বা তার নামে অসন্তোষজনক রিপোর্ট দিয়ে থাকেন। আবার কেউ অনবরত কাজ ফাঁকি দিলে বা অবহেলা করলে তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী পদোন্নতি বন্ধ রাখেন। এছাড়া পদাবনতি, এমনকি বরখাস্ত বা চাকরি থেকে অব্যাহতিও দিয়ে থাকেন। তার নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ফলে কর্মীরা সাধ্য অনুযায়ী সতর্কতার সাথে কাজ করে থাকে। এমনকি সবাই তাদের সর্বোচ্চ শ্রম প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করার চেষ্টা করে।

কর্মীদের দিয়ে কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে নেওয়া এ ধরনের পদক্ষেপই হলো নেতিবাচক প্রেষণা। অর্থাৎ, ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মনের ওপর চাপ তৈরি করে কর্মীদের কাজে বাধ্য করার পদ্ধতিকে নেতিবাচক প্রেষণা বলে। কখনো কখনো ইতিবাচক উপায়ের চেয়ে নেতিবাচক উপায়ে প্রেষণা বেশি কার্যকর হয়ে থাকে। নিচে নেতিবাচক প্রেষণার উপায়সমূহ আলোচনা করা হলো-

  • তিরস্কার (Rebuke): দায়িত্বের প্রতি অবহেলার কারণে নির্বাহীর অধীনস্থের সাথে কঠোর হয়ে কথা বলাই তিরস্কার। অনেকে তিরস্কারকে অপমানজনক মনে করে। তাই কর্মীরা তিরস্কারের ভয়ে কাজের প্রতি অনেক বেশি দায়িত্বশীল হয়ে থাকে।
  • পদাবনতি (Demotion): ইচ্ছাকৃত বা অবহেলাবশত নিম্নমানের কাজের জন্য বা ধারাবাহিকভাবে কাজে ব্যর্থতার জন্য কর্মীকে তার নিজ পদ বা পদমর্যাদা থেকে নামিয়ে দেওয়াকে পদাবনতি বলে। প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা থাকলে কর্মীরা কাজের প্রতি অনেক বেশি মনোযোগী, যত্নশীল ও আগ্রহী হয়।
  • শাস্তি প্রদান (Punishment): বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকা, দেরি করে অফিসে আসা, কর্মক্ষেত্রে বারবার একই ভুল করা প্রভৃতির জন্য বেতন কমানো বা অন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে কর্মীদেরকে কাজের প্রতি আন্তরিক হতে দেখা যায়। এতে অনেক কর্মীরই কাজে গতি বেড়ে যায়।
  • বরখাস্ত (Dismissal): দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা প্রতিষ্ঠানের নীতিবহির্ভূত কোনো কাজ করার কারণে কর্মীকে সাময়িক এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে বরখাস্ত বলে। এ ধরনের বিধান থাকলে
    কর্মীদের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে অনেক বেশি সজাগ হতে দেখা যায়।
  • ছাঁটাই (Lay-off): প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কাজের অভাব, ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা প্রভৃতি কারণে কর্মী বাদ দেওয়াকে ছাঁটাই বলে। সাধারণত কর্মীদের কোনো ভুলের কারণে তাদের ছাঁটাই করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী করা হয়।

উপসংহারে বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের প্রেষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক-অনার্থিক এবং নেতিবাচক প্রেষণা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই নির্বাহীকে তার অধীনস্থদের প্রেষণা দেওয়ার জন্য পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...