নির্দেশনার ধারণা (৬.১৪)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

13

Concept of Direction

তাওশিন আহসান একটি স্বনামধন্য উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থাপক। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। অতঃপর তার অধীনস্থ সবার করণীয় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেন। দৈনিক কী পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে তার খোঁজ-খবর রাখেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধানের উপায় বলে দেন। সপ্তাহ শেষে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে সবাইকে সাধুবাদ জানান। কখনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না

হলে অনুপ্রেরণা দিয়ে সবাইকে আরও বেশি কাজ করতে উৎসাহিত করেন। এভাবে তিনি সবাইকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সবার সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটিকে লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। জনাব তাওশিনের কাজগুলো নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় কর্মীসংস্থানের পর নিয়োজিত কর্মীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় নির্দেশনার। এটি হলো প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অধীনস্থ কর্মীদের করণীয় বিস্তারিতভাবে জানানোর প্রক্রিয়া। আদেশ, উপদেশ, পরামর্শ, উৎসাহ দান, অনুপ্রেরণা, তিরস্কার, অনুসরণ (Follow-up) প্রভৃতি নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। এটি সর্বদা নিম্নগামী। তাছাড়া ব্যবস্থাপনায় এটি জোড়া মই শিকল নীতি অনুসরণ ও দ্বিমুখী যোগাযোগ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে নির্বাহী তার অধীনস্থদের লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করেন। ব্যবস্থাপনা কার্যাবলির মধ্যে সেতুবন্ধ 'হিসেবে কাজ করে নির্দেশনা। ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নির্ভর করে নির্দেশনার ওপর। ব্যবস্থাপনার সব স্তরে নির্দেশনা প্রবাহিত হয়। আমরা কোথায় আছি এবং কোথায় যেতে চাই, এ দুইয়ের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে নির্দেশনা।

  • অধ্যাপক মার্শাল ই. ডিমক (Prof. Marshall E. Dimok) বলেন, 'The heart of administration is directing function which involves determining the courses, giving orders and instructions for providing dynamic leadership.' অর্থাৎ, 'নির্দেশনা হলো প্রশাসনের হৃৎপিন্ড, যা কর্মপন্থা নির্ধারণ, আদেশ ও নির্দেশ দেওয়া এবং গতিশীল নেতৃত্বদানের সাথে জড়িত।
  • জে. এল. মেসি (J. L. Massie) বলেন, 'Direction is the process by which actual performance of subordinates is guided toward the common goals.' অর্থাৎ, 'নির্দেশনা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অধীনস্থদের প্রকৃত কার্যক্রমকে সাধারণ লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া হয়।'

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে নির্দেশনার নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়-

  • নির্দেশনা হলো প্রশাসনের হৃৎপিণ্ডস্বরূপ;
  • নির্দেশনা সবসময় উপরের স্তর থেকে আসে;
  • পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও লক্ষ্য অর্জনের সাথে নির্দেশনা জড়িত এবং
  • এর মাধ্যমে কাজ সম্পাদনে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

অতএব, লক্ষ্য অর্জনে কর্মীদের করণীয় কাজ সম্পর্কে অবহিত করা, আদেশ-উপদেশ ও পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে পরিচালিত করার কাজকে নির্দেশনা বলে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...