পরামর্শমূলক নির্দেশনার গুরুত্ব (৬.১৯)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

10

Importance of Consultative Direction

পরামর্শমূলক নির্দেশনা কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি বা কৌশল হিসেবে স্বীকৃত। একক ব্যক্তির অনেক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, যা এ পদ্ধতির মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। নিচে পরামর্শমূলক নির্দেশনার গুরুত্ব উপস্থাপন করা হলো-

  • উৎসাহ ও মনোবল বৃদ্ধি (Increasing inspiration and morale): পরামর্শমূলক নির্দেশনায় নির্বাহীরা কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে নির্দেশনার বিষয়বস্তু ঠিক করেন। এরূপ নির্দেশনাকে কর্মীরা নিজেদের প্রণীত বলে মনে করেন। ফলে, কর্মীরা আনন্দের সাথে তা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। তাছাড়া, নির্বাহীর সাথে আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে কর্মীদের মনোবল বাড়ে এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
  • কর্মীদের মানোন্নয়ন (Development of employee standards): মূলত কর্মীরাই মাঠ পর্যায়ের কাজের সাথে সরাসরি জড়িত থাকেন। তাই তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে নির্দেশনার বিষয়বস্তু প্রস্তুত করা হলে, তা বেশি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হয়ে থাকে। অপরদিকে নির্বাহীর সংস্পর্শে এসে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করে অধীনস্থরা অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারেন। এতে কর্মীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতার উন্নয়ন ঘটে।
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা (Establishing democracy): পরামর্শমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাহী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে থাকেন। এক্ষেত্রে নির্বাহী এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না। তিনি কর্মীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন। এতে একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের বিলোপ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • সহযোগিতার উন্নয়ন (Developing cooperation): নির্বাহী ও অধীনস্থদের পারস্পরিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের কারণে উভয়ের মধ্যকার দূরত্ব কমে যায়। এতে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়। ফলে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া এরূপ নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাহীদের প্রতি অধীনস্থদের শ্রদ্ধাবোধ ও আনুগত্য তৈরি হয়। এতে তাদের মধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হতে থাকে।
  • প্রশিক্ষণের সুযোগ (Training facility): জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে হাতেকলমে শিক্ষা নেওয়াকে প্রশিক্ষণ বলে। প্রক্রিয়াগত কারণে পরামর্শমূলক নির্দেশনায় কর্মীরা অভিজ্ঞ নির্বাহীদের সাথে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে তারা অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারেন এবং পরে তা আন্তরিকতার সাথে কাজে লাগান। ফলে, এ ধরনের নির্দেশনার মাধ্যমে সহজেই প্রশিক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।
  • উৎপাদন বৃদ্ধি (Increasing production): পরামর্শমূলক নির্দেশনা দ্বারা কর্মীদের মনোভাব ইতিবাচক ও
    সহযোগিতামূলক হয়। ফলে তারা উৎপাদনে বেশি মনযোগী হন। অনুকূল মনোভাব ও উৎসাহ নিয়ে কর্মীরা কাজ করায় তাদের উৎপাদন বাড়ে। তাছাড়া এরূপ নির্দেশনায় দক্ষতা বেড়ে যায়। ফলে কর্মসন্তুষ্টি ও উৎপাদন বেড়ে যায়।
  • সহজ নিয়ন্ত্রণ (Easy control): এরূপ নির্দেশনায় কর্মীরা আগে থেকেই মানসিকভাবে নির্দেশ পালনে প্রস্তুত থাকেন। সময়মতো কাজ শুরু করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ পান। এছাড়াও এতে ভুল-ত্রুটি কম হয় এবং ব্যবস্থাপনার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অধিক অনুগত থাকেন। এতে নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াও সহজ হয়।

তাই বলা যায়, পরামর্শমূলক নির্দেশনা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের মনোবল বাড়ানো, কর্মে উৎসাহ সৃষ্টি ও পারস্পরিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই, ক্ষেত্রবিশেষে এরূপ নির্দেশনার ব্যবহার বাড়ানো উচিত।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...