Advantages of Consultative Direction
আধুনিক ও সভ্য সমাজে মনে করা হয়, কর্মীরাও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; তাদেরও মতামত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ধারণার ওপর ভিত্তি করে পরামর্শমূলক নির্দেশনার প্রচলন হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে নির্দেশনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি উৎকৃষ্ট, যুগোপযোগী ও কার্যকর নির্দেশনা পদ্ধতি হিসেবে এর মাধ্যমে নিচের সুবিধাগুলো পাওয়া যায়-
- কর্মীদের আগ্রহ তৈরি (Creating enthusiasm of employee): পরামর্শমূলক নির্দেশনা প্রক্রিয়ায় অধীনস্থ কর্মীদের সুচিন্তিত পরামর্শ নেওয়া হয়। এতে কর্মীদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এরূপ সুযোগ থাকায় নির্দেশনা পালনের ক্ষেত্রে কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব, উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যায়।
- পরিকল্পনার মানোন্নয়ন (Development of planning): পরামর্শমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে নির্দেশনা তথা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে যারা এর সাথে সম্পৃক্ত তাদের সাথে পরামর্শ করা হয়। এর ফলে পরিকল্পনায় কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা ধরা পড়ে। এভাবে পরিকল্পনার মান উন্নয়ন বা উৎকর্ষ সাধন করা যায়।
- যোগাযোগের উন্নয়ন (Development of communication): এ পদ্ধতিতে নির্দেশনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ঊর্ধ্বতনও অধীনস্থদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়। এতে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দেওয়া-নেওয়া ও মতবিনিময় হয়ে থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
- সম্পর্কোন্নয়ন (Development of relationship): পরামর্শমূলক নির্দেশনায় নির্বাহী ও অধীনস্থ সবাই একসাথে কাছাকাছি অবস্থানে থেকে আলোচনা করেন। এজন্য তাদের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস বেড়ে যায়। তাছাড়া, ফলপ্রসূ যোগাযোগের কারণে ঊর্ধ্বতন ও অধীনস্থদের মধ্যে দূরত্ব কমে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়।
- দক্ষতার উন্নয়ন (Development of efficiency): পরামর্শমূলক নির্দেশনা কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। এরূপ নির্দেশনায় নিজেদের অবদান রয়েছে বলে কর্মীরা এর সাফল্য নিশ্চিতকরণে নিজেদের সামর্থ্যের পূর্ণ ব্যবহারের চেষ্টা করেন। এর ফলে তাদের দক্ষতা বাড়ে, যা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য অর্জনের দিকে নিয়ে যায়।
- স্বেচ্ছাচারিতা হ্রাস (Reducing autocracy): এক্ষেত্রে নির্বাহীকে কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে নির্দেশনার বিষয়বস্তু ও কাজ সম্পাদনের কৌশল-পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়। এতে অনেক সময় কর্মীদের মতামতকেই প্রাধান্য দিতে হয়। অর্থাৎ, এরূপ নির্দেশনার ফলে নির্বাহীদের একক ইচ্ছা অধীনস্থদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকে না
- সহজ তত্ত্বাবধান (Easy supervision): কর্মীরা আগেই নির্দেশনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পান বলে কর্মীদের তত্ত্বাবধানে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না। আবার, কর্মীরা নির্দেশনার বিষয় সম্পর্কে আগে থেকে জানেন বলে কম সময়ে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
- সহজ নিয়ন্ত্রণ (Easy to control): ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ বা আলোচনার মধ্য দিয়ে কর্মীরা কাজের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জেনে যান। এতে পরবর্তী সময়ে কাজের ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটির সম্ভাবনা কম থাকে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়।
উপসংহারে বলা যায়, পরামর্শমূলক নির্দেশনা হলো একটি আধুনিক ও সফল নির্দেশনা পদ্ধতি। ব্যবস্থাপনা কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা সহজে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরামর্শমূলক নির্দেশনা অধিক কার্যকর।
Read more