Importance of Leadership
সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে অধীনস্থ বা অনুসারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত হয়। ব্যবস্থাপক তথা নেতাকে ঘিরেই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ সম্পাদিত হয়। সঠিক নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করে প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য।
এছাড়াও নেতৃত্ব নিম্নোক্ত কারণে গুরুত্বপূর্ণ-
- লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা (Helping to achieve the goal): নেতৃত্ব একটি কৌশল। এর মাধ্যমে দলীয় সদস্যরা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত হয়। তাই, প্রতিষ্ঠানে যোগ্য নেতৃত্বের ফলে জনশক্তির সব কর্মপ্রচেষ্টা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত হতে পারে। এতে লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।
- দলীয় প্রচেষ্টা জোরদারকরণ (Enhancing group effort): ব্যক্তি ও দলীয় প্রচেষ্টাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে
পরিচালনা করাই নেতার মূল কাজ। এটি নির্ভর করে নেতার গুণ ও কাজের দক্ষতার ওপর। নেতৃত্বের মান দুর্বল হলে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় ও দলবন্ধ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। নেতার সঠিক নেতৃত্ব কৌশলের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই, দলব্য প্রচেষ্টা জোরদারকরণে দক্ষ নেতৃত্ব অপরিহার্য। - সহযোগিতা বৃদ্ধি (Increasing cooperation): কর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। কার্যকর নেতৃত্ব সংগঠনের অভ্যন্তরে সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। একে ঘিরেই জনশক্তি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করে থাকে।
- ঐক্য সৃষ্টি (Creating unity): লক্ষ্য অর্জনে সবাই একমত হওয়াকে ঐক্য বলে। ব্যবস্থাপনার অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানের জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে পরিচালনা করা। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কখনও প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নেতৃত্ব থাকলে নেতাকে ঘিরে কর্মীরা একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে থাকে
- সুষ্ঠু সমন্বয় (Proper coordination): একজন যোগ্য নেতা তার কর্মীদের প্রকৃতি, যোগ্যতা, চাহিদা প্রভৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকেন। ফলে কীভাবে, কাকে, কোন দায়িত্ব কতটুকু দিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে, তা নেতা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেন। তাই, নেতৃত্বের কৌশল ব্যবস্থাপনাকে যথাযথভাবে কর্তৃত্ব অর্পণে সহায়তা করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের কাজে সুষ্ঠু সমন্বয় সহজ হয়।
- দক্ষতা বৃদ্ধি (Increasing efficiency): সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় না করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করার সামর্থ্যকে দক্ষতা বলে। যোগ্য নেতৃত্ব প্রাতিষ্ঠানিক সব কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। এটি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে জনশক্তির সব কর্মপ্রচেষ্টাকে ধাবিত করে বলে কাজে গতি বাড়ে।
- উৎসাহ সৃষ্টি (Creating inspiration): ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান কাজ হলো কর্মীদের দিয়ে স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে কাজ করিয়ে নেওয়া। যোগ্য নেতৃত্বের ফলে অধীনস্থ কর্মীরা কাজ করতে সব সময়ই উৎসাহবোধ করে। ফলে, তাদের মনোবলও বাড়ে। তাছাড়া, তাদের উচ্চ মনোবল উত্তম কাজের পরিবেশ সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- পরিবর্তনে সহায়তা (Help to change): পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে মিল রেখে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া নেতার অন্যতম দায়িত্ব। এজন্য তাকে অনেক সময় পরিকল্পনা ও কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হয়। তবে যেকোনো পরিবর্তন অধীনস্থরা সহজে মেনে নিতে পারে না। যোগ্য নেতৃত্ব সেক্ষেত্রে কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে সহজেই পরিবর্তন আনতে পারে।
তাই বলা যায়, ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নেতৃত্ব। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সব সময় লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত রাখা যায়। তাই, প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের জন্য কার্যকর নেতৃত্ব একান্ত জরুরি।
Content added By
Read more