সমন্বয়সাধনের অভাবে সৃষ্ট সমস্যা (৯.৭)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

7

Problems for Lack of Coordination

সমন্বয়সাধন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও ব্যক্তির কাজ এবং ব্যবহৃত অন্যান্য উপায় ও উপকরণের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে। এতে কার্য ব্যবস্থায় ভারসাম্য তৈরি করা যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। আর সমন্বয়ের অভাবে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা দেখা দেয়, যা নিম্নরূপ-

  • লক্ষ্য অর্জনে সমস্যা (Problems at attaining goal): সমন্বয় কর্মীদের দলগত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার উন্নয়নের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জনে ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সব ক্ষেত্রে সুষ্ঠু সমন্বয় প্রতিষ্ঠা না হলে উদ্দেশ্য অর্জন ব্যাহত হয়। এতে নতুন করে সমস্যা বা জটিলতা তৈরি হয়।
  • স্বার্থের স্বন্দ্ব (Conflict of interest): ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া হয়। যেসব কারণে ব্যক্তিগত স্বার্থ প্রাধান্য পায় তার মধ্যে অলসতা, অদক্ষতা, আনুগত্যের অভাব উল্লেখযোগ্য। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন ও ব্যক্তিক প্রয়োজনের মধ্যে স্বার্থের স্বন্দ্ব দেখা দেয়, যা সমন্বয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
  • অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি (Creating imbalance); প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজকে লক্ষ্যের দিকে পরিচালনার জন্য আন্তঃনির্ভরশীল বিভাগগুলো কাজে ভারসাম্য এবং কাজ সম্পাদনের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে মিল রাখা আবশ্যক। কিন্তু সমন্বয়ের অভাব হলে এসব বিষয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়।
  • অপচয় (Wastage): প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপকরণগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টা পরিচালনা করা গেলে লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হয়। এক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব হলে সব উপকরণের সঠিক ব্যবহার হয় না।
  • কর্মীর মনোবল হ্রাস (Decreasing in employee morale); সমন্বয়ের অভাবে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায় এবং কাজের প্রতি অনীহা আসে। ফলে কর্মীরা কাজে ফাঁকি দিতে চেষ্টা করে। অনেক সময় একে অপরের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে।
  • ভারসাম্যহীনতা (Imbalance); সমন্বয়ের অভাবে কোনো বিভাগ বেশি কাজ করে আবার অন্য বিভাগে কম তৎপরতা দেখা যায়। ফলে কাজের সময় ও আর্থিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের অপচয় বাড়তে থাকে। এতে বেশি 'কর্মভারগ্রস্ত কর্মীরা হতাশ হয় ও তাদের কর্মপ্রচেষ্টা কমে যায়। ফলে আন্তঃবিভাগীয় শৃঙ্খলা নষ্ট হয়।
  • দায়িত্ব এড়ানো (Avoiding responsibility); সমন্বয়ের দায়িত্ব মূলত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের ওপর থাকে। নির্বাহী যত উচ্চ স্তরে কাজ করেন, তার কাজের ব্যাপকতাও তত বেশি থাকে। কাজের স্তর বা দায়িত্ব বাড়তে থাকলে সমন্বয়ে বাধা তৈরি হয়। ফলে ব্যবস্থাপক অনেক সময় দায়িত্ব এড়াতে চেষ্টা করেন।
  • দক্ষতা হ্রাস (Decreasing efficiency); সমন্বয়সাধন প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগ, উপবিভাগ, ব্যক্তি ও দলের কাজের মধ্যে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে কাজ সম্পাদন দ্রুত ও নিশ্চিত করে থাকে। কিন্তু সমন্বয়ের অভাব হলে কাজের গতি কমে যায়। ফলে কর্মীরা খেয়াল-খুশিমতো কাজ করে, যা তাদের দক্ষতা কমিয়ে দেয়।
  • শ্রমনীতি অনুসরণে, বাধা (Hindrance at following labour policy): সমন্বয়সাধনের অভাবে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষে শ্রমনীতি অনুসরণ করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। ফলে শ্রম বিভাগের ক্ষেত্রে শ্রমনীতি অনুসরণেও সমস্যা তৈরি হয়।

পরিশেষে বলা যায়, সমন্বয়সাধন ব্যবস্থাপকীয় কাজ বিধায় এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন নির্ভরশীল। সমন্বয়ের অভাব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য অর্জনকে ব্যাহত করে থাকে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...