কর্মী সংগ্রহের উৎস (৫.৭)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

13

Source of Recruitment

বিভিন্ন উৎস বা ক্ষেত্র থেকে কর্মী সংগ্রহ করা যেতে পারে। কর্মী সংগ্রহের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এর উৎস নির্ধারণ করা হয়। উক্ত নির্ধারিত উৎস থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কর্মী সংগ্রহের উৎসকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়-

ক. অভ্যন্তরীণ উৎস (Internal source): প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের মধ্য থেকে বা তাদের মাধ্যমে বা তাদের পরিচয়ে কোনো কর্মী সংগ্রহ করাকে অভ্যন্তরীণ উৎস বলে। যেমন: কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলো। এক্ষেত্রে বাইরে থেকে অধ্যক্ষ না নিয়ে উপাধ্যক্ষ মহোদয়কে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। কর্মী সংগ্রহের অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো হলো-

  • পদোন্নতি (Promotion): কোনো পদ খালি হলে এর নিচের পদ থেকে কাউকে উক্ত পদে পদোন্নতি দেওয়া যায়। এতে উক্ত কর্মীর উৎসাহ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর সংস্থানও হয়ে যায়। এর তিনটি ভিত্তি আছে। যথা:

i. জ্যেষ্ঠতা (Seniority): যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে আগে যোগদান করেছেন তিনি পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী।

ii. যোগ্যতা (Merit): যে ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রে অধিক যোগ্য ও অভিজ্ঞ তিনি পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী।

iii. জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা (Seniority and merit): জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা এ উভয় বিষয়ের সমন্বয়ে যে ব্যক্তি এগিয়ে, তিনিই পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী।

  • বদলি ও পদাবনতি (Transfer and demotion): প্রতিষ্ঠানের কোথাও অতিরিক্ত কর্মী নিয়োজিত থাকলে সেখান থেকে এনে শূন্যপদ পূরণ করা যায়। কাউকে শাস্তিস্বরূপ পদাবনতি করেও নির্দিষ্ট পদের কর্মীর চাহিদা পূরণ করা যায়।
  • কর্মরত কর্মীদের সুপারিশ (Recommendation of existing employees): সাধারণ ও নিম্ন স্তরের কোনো পদে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের সুপারিশে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী সংগ্রহ করা যায়। এতে সহজেই নির্ভরযোগ্য কর্মী পাওয়া যায়।
  • সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুপারিশ (Recommendation of related department): প্রতিষ্ঠানের যে শাখা বা বিভাগে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই বিভাগের কোনো কর্মকর্তার সুপারিশে তার পরিচিত, অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য কাউকে কখনো কখনো নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। এতে বিশ্বস্ত কর্মী সংগ্রহ করা সহজ হয়।
  • শ্রমিক সংঘের সুপারিশ (Recommendation of trade union): কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংঘের সুপারিশক্রমেও প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের জন্য কর্মী সংগ্রহ করা যেতে পারে। এতে কর্মী সংগ্রহ ছাড়াও উক্ত সংঘের দায়বদ্ধতা বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক সংঘের সদস্যরাই এরূপ কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে তোলেন।

খ. বাহ্যিক উৎস (External source): প্রতিষ্ঠানের বাইরের কোনো উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করা হলে তাকে বাহ্যিক উৎস বলে। যেমন: একটি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যবস্থাপকের পদ খালি হয়েছে। এক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য কর্মীদের প্রতিষ্ঠানমুখী করা যেতে পারে। কর্মী সংগ্রহের বাহ্যিক উৎসগুলো হলো-

  • বিজ্ঞপ্তি (Circular): বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি কর্মী সংগ্রহের অতিসহজ ও বহুল প্রচলিত পদ্ধতি। উন্নয়নশীল দেশে পোস্টার, ব্যানার, দৈনিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন বা অন্য কোনো মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক কর্মী সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে অনলাইন পত্রিকাসহ পৃথক জব সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপ্তির মাধ্যমে যোগ্য ও মেধাসম্পন্ন কর্মী পাওয়া সহজ হয়। সদ্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংগ্রহের জন্য বিজ্ঞাপন সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম।
  • চাকরি সন্ধানী (Job searcher): চাকরি প্রত্যাশী অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য স্বেচ্ছায় আবেদনপত্র বা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়ে থাকেন। কখনো কর্মীর প্রয়োজন হলে তাদের মধ্য থেকে কর্মী সংগ্রহ করা যায়।
  • বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Vocational training center): বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত মানের কর্মী সংগ্রহ করা যায়। এরূপ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুপারিশেও কর্মী সংগ্রহ করা হয়।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (Educational institute): বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সহায়তায় বা সরাসরি কর্মীর চাহিদা জানিয়ে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
  • কর্মসংস্থান কমিশন (Employment commission): অনেক দেশে কর্মী নিয়োগের জন্য সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা আছে। সেখান থেকে যেকোনো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কর্মী সংগ্রহ করতে পারে। বাংলাদেশে সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি (Public Service Commission) এরূপ সংস্থার একটি উদাহরণ।
  • আউটসোর্সিং (Outsourcing): প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত নয় এমন লোকবল দিয়ে চুক্তির ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলে। এক্ষেত্রে কাজ সম্পাদনে তৃতীয় পক্ষের বা কর্মী বিনিয়োগ কেন্দ্রের সহায়তা নেওয়া হয়। যেমন: কোনো প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী দরকার। এক্ষেত্রে কর্মী বিনিয়োগকারী বা নিরাপত্তা সেবা (Security service) দানকারী প্রতিষ্ঠান Elite Force বা G4S-এর সাথে চুক্তি করে নিরাপত্তা কর্মী সংগ্রহ করতে পারে। বিশেষ বা জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং কর্মী সপ্তাহের সবচেয়ে উত্তম উৎস।
  • বিশ্বস্ত সূত্র (Reliable source): অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের বাইরের পরিচিত, বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তাদের পরিচিত উৎস থেকে বা তাদের সুপারিশে কর্মী সংগ্রহ করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যয় কমে যায়।
  • মেধা শিকার (Merit hunting): অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের আকর্ষণীয় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিয়ে আসাকে মেধা শিকার বলা হয়। বর্তমানে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে মেধা শিকারের প্রবণতা দেখা যায়।
  • জব ফেয়ার (Job fair): জব ফেয়ার বা চাকরি থেকে কাঙ্ক্ষিত মানের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী অতি সহজেই সংগ্রহ করা যায়। এতে কখনো কখনো উক্ত মেলাতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আবার কখনো মেলা থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে পরবর্তীতে কর্মী নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

অতএব, কর্মী সংগ্রহ হলো প্রতিষ্ঠানের জন্য কাঙ্ক্ষিত মানের সম্ভাব্য কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করতে উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া। আর এজন্য উপরিউক্ত উৎসসমূহ সচরাচর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বিবরণঅভ্যন্তরীণ/বাহ্যিক উৎস
  • আবির হাসানকে সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে ব্যবস্থাপক পদে উন্নীত করা হলো।
  • বিক্রয় ব্যবস্থাপকের অনুরোধে তার ছোট ভাইকে বিক্রয়কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
  • ফিল্ড অফিস থেকে তারেক মাহমুদকে হেড অফিসে একটি শূন্যপদে পোস্টিং দেওয়া হলো।
  • সহকারী ব্যবস্থাপক পদে লোক নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো।
  • Management Trainee Officer নিয়োগের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো।
  • finejob.com থেকে কর্মী সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...