Relationship between Motivation and Morale
কর্মীদের কর্মক্ষমতা পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে তাদেরকে কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত বা উৎসাহী করাকে প্রেষণা বলে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাকৃত মানসিক বা আবেগজনিত উদ্দীপনাকে মনোবল বলা হয়। মনোবল কর্মীদের কাজের সন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত। প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে যোগসূত্র বা সম্পর্ক আছে। এ দু'টি বিষয়ের মধ্যকার সম্পর্ক সঠিকভাবে অনুধাবনের জন্য নিচে সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো-
- এডউইন বি. ফ্লিপ্পো (Edwin B. Flippo) বলেন, 'Morale is a mental condition or attitude of individuals and groups which determines their willingness to co-operate.' অর্থাৎ, 'মনোবল হলো ব্যক্তিগত এবং দলগত মনের অবস্থা বা আচরণ, যা তাকে বা তাদেরকে কাজে সাহায্য দেওয়ার মাধ্যমে প্রেষণা দান করে।'
- উইলিয়াম জি. স্কট (William G. Scott) এর মতে, ‘প্রেষণা হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া বিশেষ, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য কর্মীদের মাঝে কাজ সম্পাদনের প্রতি উদ্দীপনা বাড়ায়।’ প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে যে সম্পর্ক দেখা যায় তা নিচে আলোচনা করা হলো-
- প্রেরণা দান (Giving inspiration): প্রেষণা ও মনোবল দু'টোই মানুষকে বিশেষ পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে প্রেরণা দেয়।
- মনের ওপর প্রভাব (Affect on mind): প্রেষণা ব্যক্তির মনোবল বাড়ায় আর মনোবল ব্যক্তির মানসিক শান্তি, সুস্থতা ও সন্তুষ্টির পরিচয় বহন করে।
- লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা (Role for achieving goal): প্রেষণা বিশেষ লক্ষ্য অর্জনে কাজের প্রচেষ্টাকে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যদিকে, মনোবল কাজের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।
- সম্পর্কের প্রকৃতি (Nature of relation): সম্পর্কের প্রকৃতি বিবেচনায় প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। উত্তম প্রেষণা কাজ সম্পাদনে কর্মীদের উৎসাহ বাড়ায়। আর কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়লে ধীরে ধীরে কর্মীদের মনোবলও বাড়ে।
- নির্ভরশীলতা (Dependency): প্রেষণা নির্ভর করে কর্মীর আর্থিক ও অনার্থিক প্রেষণামূলক উপাদানের ওপর। অপরদিকে মনোবল নির্ভর করে এসব উদ্দীপক প্রাপ্তির মাধ্যমে কাজের সন্তুষ্টির ওপর।
- কার্যসন্তুষ্টি (Job satisfaction): প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা প্রেষিত হলে কাজের প্রতি তাদের সন্তুষ্টি বাড়ে এবং মনোবলও বেড়ে যায়।
- উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (Increasing productivity): মনোবল বাড়ানোর জন্য প্রেষণা আবশ্যক। আর কর্মীদের মনোবল উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।

সুতরাং, প্রেষণার মাধ্যমে কর্মীদেরকে উৎসাহিত করায় কাজের প্রতি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের তৈরি হয়। আর কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ার সাথে তাদের মনোবলও বাড়ে।
Read more