Importance of Training
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীরা প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মরত কর্মী এবং কাজ সম্পাদনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারে। প্রশিক্ষণ কর্মীদের কাজের দক্ষতার উন্নয়ন করে ও কাজের প্রতি তাদের আগ্রহী করে তোলে। নিচে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হলো-
- দক্ষতা বৃদ্ধি (Increasing efficiency): প্রশিক্ষণ হলো নিয়োজিত কর্মীদের কাজ, দায়-দায়িত্ব, ক্ষমতা, কাজ
সম্পাদনের কলাকৌশল প্রভৃতি সম্পর্কে অবহিত করার প্রচেষ্টা। প্রশিক্ষণ কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ও তাদের দায়িত্ব পালনে নৈপুণ্য আনয়নে সহায়তা করে। - উৎসাহ বৃদ্ধি (Increasing inspiration): নিয়োগের পর এবং কর্মরত অবস্থায় ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে কর্মী বা নির্বাহীর জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহ বাড়ে। তাই প্রশিক্ষণ কর্মীদের উৎসাহের সাথে কাজ করিয়ে তাদের যোগ্য ও অভিজ্ঞ করে তোলে।
- আচরণগত উন্নয়ন (Behavioral development): প্রশিক্ষণ কর্মীদের কাজের দক্ষতার উন্নয়ন, সংরক্ষণ বা কাজের প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন করে। এছাড়া কর্মীদের আচার-আচরণ পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিভিন্ন কৌশলগত প্রশিক্ষণের ফলে কখন, কার সাথে, কী ধরনের আচরণ করতে হবে, তা কর্মীরা বুঝতে পারে।
- মনোবলের উন্নয়ন (Development of morale): প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের অদক্ষতা, অজ্ঞতা ও অযোগ্যতা দূর হয়। তারা কাজের খুঁটি-নাটি বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারে। ফলে কর্মীরা উচ্চ মনোবল ও আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়। প্রশিক্ষণ ও মনোবলের মধ্যে ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান।
- সহজ তত্ত্বাবধান (Easy supervision): প্রশিক্ষিত কর্মী কাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত থাকে। তারা নিজেরাই স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে উৎসাহের সাথে কাজ করায় ভুলের মাত্রা অনেক কমে যায়। এছাড়া কর্মীরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নির্ভুলভাবে কাজ করে, ফলে প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান কাজও অনেক সহজ হয়।
- প্রতিযোগিতা মোকাবিলা (Facing competition): যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির জটিল বিষয়, আধুনিক ব্যবস্থাপকীয় কলাকৌশল ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিয়ে প্রযুক্তির সুবিধা অর্জন করা যায়।
- সহজ সমন্বয় (Easy coordination): প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা দায়িত্ব সচেতন, কাজের প্রতি একাগ্রতাসম্পন্ন ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাবের অধিকারী হয়ে থাকে। তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাসময়ে সম্পাদন করে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যক্তি, দল, বিভাগ ও শাখার কাজের মধ্যে সমন্বয় করা সহজ হয়।
- ব্যয় ও দুর্ঘটনা হ্রাস (Minimize cost and accident): প্রশিক্ষিত কর্মীর সহায়তায় কাজ সম্পাদনের সঠিক পদ্ধতি এবং সম্পদ ও সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন খরচ কমানো যায়। উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
- কর্মীর ব্যক্তিক উন্নয়ন (Personal development of employees): যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে কর্মীদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পরিচিতি লাভের পাশাপাশি তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, অনুপস্থিতি ও কর্মী আবর্তন মাত্রা কমানো, পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোসহ অনেক সুবিধা অর্জিত হয়।
তাই বলা যায়, কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই প্রশিক্ষণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য একটি বিষয়। নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। তাই সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রশিক্ষণ খুবই কার্যকর ও প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।
Content added By
Read more