Criticism of Motivation Theory of Maslow
বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও ব্যবহৃত তত্ত্ব হওয়া সত্ত্বেও মাসলোর 'চাহিদা সোপান তত্ত্ব' নিম্নোক্তভাবে সমালোচিত হয়েছে-
- অভাবই মানুষ তথা কর্মীদের আচরণের একমাত্র নির্ধারক নয়।
- মাসলো মানবজীবনে চাহিদার যে পর্যায়ক্রমিক স্তর দেখিয়েছেন, 'তা সব দেশ ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একই রূপ না-ও হতে পারে।
- এ তত্ত্বে বলা হয়েছে, এক স্তরের চাহিদা পূরণ হলে কর্মীর মধ্যে পরবর্তী স্তরের চাহিদা পূরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মাসলোর এ বক্তব্য সব দিক থেকে সঠিক নয়। বাস্তবে একজন কর্মীর মধ্যে কখনো কখনো একাধিক চাহিদা একই সময়ে উদ্ভব হতে পারে।
- মানুষের মধ্যে চাহিদার তীব্রতা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কোনো জরুরি অবস্থায় চাহিদার এ সোপানগুলো অনুসরণীয় না-ও হতে পারে।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের কারণে মাসলোর তত্ত্বটি সবার ওপর সমানভাবে কার্যকর হয় না। আবার, ব্যক্তিভেদে চাহিদার প্রকৃতি ও ধারাবাহিকতা এক রকম হয় না। প্রাথমিক পর্যায়েই কোনো কর্মী উচ্চ স্তরের অভাব বোধ করতে পারে। তাই চাহিদার যে ধারাবাহিকতা মাসলো দেখিয়েছেন, তা সব সময় সঠিক হয় না।
- কর্মীদের সন্তুষ্টি পরিমাপের কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। তাই এটি পরিমাপ করে সে অনুযায়ী সব সময় সঠিক ব্যবস্থাপকীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায় না।
- মাসলোর প্রেষণা তত্ত্বটি ব্যাপক গবেষণাসমৃদ্ধ নয়। বরং এটি অনেকটাই তাত্ত্বিক বিষয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মানুষের অভাব পূরণের মাধ্যমেই তাকে প্রেষণা দেওয়া হয়ে থাকে। এ অভাবগুলোকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে এগুলোর ভিত্তিতে কর্মীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা যায়। তাই আব্রাহাম মাসলোর উক্ত তত্ত্বটির অনেক সমালোচনা থাকলেও এটি বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়।
Content added By
Read more