Advantages of Recruitment from Internal Sources
প্রতিষ্ঠানের কোনো শূন্যপদ পূরণের জন্য এর অভ্যন্তর থেকে বা কর্মরত কর্মীদের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ বলে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহের সুবিধাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-
- যোগ্য কর্মী সংগ্রহ (Recruitment of capable employee): অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করা হলে নির্দিষ্ট পদের জন্য উপযুক্ত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সাধারণত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের সম্পর্কে ব্যবস্থাপনার ভালো ধারণা থাকে। তাই তাদের মধ্য থেকে উপযুক্ত কর্মী বাছাই করা সহজ হয়।
- আনুগত্য বৃদ্ধি (Increasing loyalty): অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ কর্মীদের পদোন্নতি নিশ্চিত করে। এতে কর্মীরা আত্মতৃপ্তি লাভ করে। এতে কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি এবং ব্যবস্থাপনার প্রতি বেশি আনুগত্য গড়ে উঠে। এর ফলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে ও আদেশ নির্দেশ মেনে চলে।
- দক্ষতা বৃদ্ধি (Increasing efficiency): অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে কর্মীদের পদোন্নতির নিশ্চয়তা থাকে। ফলে কর্মীরা অনেক আন্তরিকভাবে কাজ করে। নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার ফলে কর্মীদের কর্মদক্ষতা বাড়ে।
- মনোবল বৃদ্ধি (Increasing morale): অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে কর্মীদের মনোবল বাড়ে। কর্মীদের একটা সাধারণ প্রত্যাশা হলো তারা একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজে নিয়োজিত থাকলে ক্রমে উচ্চপদে যেতে হতে পারে। কর্মীদের যথাসময়ে পদোন্নতি এ প্রত্যাশা পূরণ করে। ফলে কর্মীদের মনোবল বাড়ে।
- নৈতিকতা, সততা ও কর্তব্যপরায়ণতা বৃদ্ধি (Increasing morality, sincerity and responsibility): অভ্যন্তরীণ উৎস ব্যবহারের ফলে কর্মীদের নৈতিকতা, সততা ও কর্তব্যপরায়ণতা বাড়ে। কর্মীরা পদোন্নতির আশায় নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে করার চেষ্টা করে। ব্যবস্থাপনা কর্মীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্তব্যপরায়ণতা, নৈতিকতা ও সততার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
- শ্রমিক-ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস (Reduction of employee turnover): কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের আসা- যাওয়ার (চাকরি ছেড়ে যাওয়া) হারকে শ্রম ঘূর্ণায়মানতা বলে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ করা হলে কর্মীরা পদোন্নয়নের আশায় প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে চায় না। একটা পদোন্নতির পর সে নতুন পদোন্নয়নের আশায় নিজেকে তৈরি করে। ফলে প্রতিষ্ঠান ত্যাগের চিন্তা বা নতুন চাকরি খোঁজা থেকে বিরত হয়। এতে কর্মীদের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
- ব্যয় হ্রাস (Reduction of cost): প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে লোক নিয়োগ করলে বিজ্ঞাপন খরচ, এজেন্সি বাবদ খরচ এবং প্রশিক্ষণ খরচের সাশ্রয় হয়। প্রতিষ্ঠান বাহ্যিক উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে এ ধরনের খরচ বহন করতে হয়।
- প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের উন্নয়ন (Development of organizational relationship): অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহের মাধ্যমে অধস্তনদের মনে ঊর্ধ্বতনদের প্রতি ভালো ধারণা থাকে। বিশৃঙ্খলা বা অবাধ্যতার আশঙ্কাও কমে যায়। ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন একই জায়গায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- কাজে স্বাভাবিকতা রক্ষা (Maintenance of regularity in work): অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বাভাবিকতা ও গতিশীলতা রক্ষা পায়। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বাইরের ও ভিতরের প্রত্যেকেই প্রত্যেক নতুন পদোন্নয়নপ্রাপ্ত কর্মীকে জানে ও করণীয় কর্তব্য সম্পর্কে অবগত থাকে। ফলে কার্যক্ষেত্রে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
Content added By
Read more