Ways /Techniques to Motivate Employees: Positive Motivation
ক. ইতিবাচক প্রেষণা (Positive Motivation): মাহবুব হাসান একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক। তার
অধীনে প্রায় একশজন কর্মী কর্মরত। তিনি তার অধীনস্থ কর্মীদের সব সময়ই উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে কাজ করান। কোনো কর্মী কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বা তার চেয়েও বেশি মাত্রায় কাজ করলে তার জন্য তিনি অতিরিক্ত বোনাস বা বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। যারা নিয়মিতভাবে কাজের ভালো ফলাফল দেখিয়েছে, তাদের জন্য তিনি পদোন্নতিরও ব্যবস্থা করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় কর্মীদের কাজের প্রশংসা ও স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। কাজের ক্ষেত্রে তাদের একঘেয়েমি ভাব দূর করার জন্য কখনো কখনো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিকনিকের ব্যবস্থাও করে থাকেন। তার দেওয়া এসব আর্থিক ও অনার্থিক সুযোগ-সুবিধার কারণে তার অধীনস্থ কর্মীরা সব সময় আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে কাজ করে থাকে। মাহবুব হাসানের নেওয়া প্রেষণার এ কৌশলকে ইতিবাচক প্রেষণা বলে অভিহিত করা যায়। অর্থাৎ, কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেওয়ার মাধ্যমে প্রদত্ত প্রেষণাকে ইতিবাচক প্রেষণা বলে। এটি নিম্নোক্ত দু'ভাবে হতে পারে-

১. আর্থিক উপায় (Financial Means): হুমায়ুন কবির একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় যথেষ্ট পরিমাণে বেতন দিয়ে থাকে। উৎসব বোনাস ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ার ফলে কর্মীদের উৎসাহ বোনাসও দিয়ে থাকে। কর্মকর্তাদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিলাসবহুল আবাসন সুবিধাও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে থাকে। এছাড়া কর্মীদের ব্যক্তিগত অর্জনের ভিত্তিতে তাদের বেতনের মাত্রা বাড়ানো ছাড়াও পদোন্নতির সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ, কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা উক্ত প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করে থাকে। এসব সুবিধার ফলে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে কর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে।
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেওয়া সুযোগ-সুবিধাকে প্রেষণা দানের আর্থিক উপায় বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
কর্মীদের বস্তুগত বা অর্থসংক্রান্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রেষণার যে কৌশল ব্যবহার করা হয়, তা-ই প্রেষণার আর্থিক উপায়। মানুষের অধিকাংশ অভাব বা চাহিদা অর্থের সাথে সম্পর্কিত। আর্থিক প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতি বাড়ায়। প্রেষণা দানের কয়েকটি আর্থিক কৌশল বা উপায় নিচে বর্ণনা করা হলো-
- ন্যায্য পারিশ্রমিক (Fair remuneration): বিনিময়ের সবচেয়ে সহজ ও উত্তম একটি মাধ্যম হলো অর্থ। এটি
কর্মীদের দ্রুত কাজ করতে উৎসাহিত করে। তাই কর্মীদের তাদের পরিশ্রমের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও বেতন দিতে হবে। পারিশ্রমিক ও বেতনের পার্থক্যের ওপর কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনা, আগ্রহ-অনাগ্রহ প্রভৃতি নির্ভর করে। - বোনাস (Bonus): বিভিন্ন উপলক্ষে বেতন-ভাতার অতিরিক্ত যে অর্থ কর্মীদেরকে দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে বোনাস। বোনাস কর্মীদের কাছে একটি বাড়তি পাওনা। এছাড়া তাদের উৎসাহ (Incentives) বোনাস দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে কর্মীরা কাজে বেশি মনোযোগী হয়।
- মুনাফার অংশ (Profit sharing): প্রেষণার একটি অভিনব পদ্ধতি হলো কর্মীদের মুনাফার অংশ দেওয়া। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অর্জিত মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ কর্মীদের দিয়ে থাকে। এর ফলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানকে নিজের বলে মনে করে এবং আরও বেশি মুনাফা অর্জনের জন্য সচেষ্ট হয়।
- বেতনসহ ছুটি (Leave with pay): বেতনসহ ছুটি কর্মীদের কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রশিক্ষণ, উচ্চ শিক্ষা, মারাত্মক অসুস্থতা প্রভৃতি কারণে কর্মীদের অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ছুটির প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে বেতনসহকারে ছুটি দেওয়া হলে তারা কাজের প্রতি আরও বেশি আন্তরিকতা দেখিয়ে থাকে।
- চিকিৎসা সুবিধা (Medical facilities): কর্মীদের ও তাদের আত্মীয়স্বজনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমেও উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করা যায়। এজন্য চিকিৎসক নিয়োগ বা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন অথবা কর্মীদের বেতনের সাথে চিকিৎসা ভাতা দিয়ে তাদের উৎসাহিত করা যেতে পারে।
- যাতায়াত ভাতা (Conveyance allowance): প্রেষণা দানের জন্য অনেক সময় যাতায়াত ভাতা নগদে দেওয়া বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মীদের বিনামূল্যে পরিবহন ও যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হয়। এতে কর্মীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়। ফলে কর্মীরা নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি আরও যত্নবান হয়ে থাকে।
- আবাসন সুবিধা (Accommodation facility): প্রেষণা দানের জন্য কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এলাকায়
বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে বাসস্থানের সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। এতে কর্মীদের দুশ্চিন্তা দূর হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়। ফলে তারা নির্বিঘ্নে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে। - পুরস্কার (Reward): দক্ষ ও কর্মঠ কর্মীদের জন্য তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা উচিত। এতে কর্মীদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা বাড়ে। এছাড়া তাদের দেখে অন্যরাও কাজে অনুপ্রাণিত হয়।
- পদোন্নতি (Promotion): কর্মীদের পদোন্নতি দেওয়া হলে তাদের দীর্ঘদিন একই কাজ বারবার করার ক্লান্তি দূর হয়। পদোন্নতির মাধ্যমে দায়িত্ব ও মর্যাদা বাড়ার পাশাপাশি তাদের আয়ও বাড়ে। ফলে তাদের স্বচ্ছন্দময় জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হয়। এতে তারা কাজের প্রতি আরও বেশি আন্তরিক ও মনোযোগী হয়।
- শিক্ষার ব্যবস্থা (Education facility): প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী অর্থের অভাবে তাদের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে না। তাই কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ এবং একাগ্রতা তৈরি করতে তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বা শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
- আর্থিক নিরাপত্তা (Financial security): কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিকের সাথে তাদের ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলে কাজের প্রতি তারা বেশি মনোযোগী ও আস্থাশীল হবে। এজন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, পেনশন স্কিম প্রভৃতির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
- বেতন বৃদ্ধি (Increasing salary): বছর শেষে বা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে বা নির্দিষ্ট পরিমাণে বেতন বাড়ালে তা কর্মীদের কাজ করার আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হয়। তাই তাদেরকে উৎসাহিত করা এবং তাদের কাজের আগ্রহ ধরে রাখার লক্ষ্যে বার্ষিক বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
- ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ (Commodity supply at fair price): বিনামূল্যে বা ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহের ব্যবস্থা করলে কর্মীদের অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হয়। এতে তারা দায়িত্বের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল ও আন্তরিক হয়ে উঠতে পারে। প্রতিরক্ষা ও পুলিশ বিভাগসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এর প্রচলন দেখা যায়।
- বিপদে সাহায্য (Help in crisis): কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজন ও বিপদে এককালীন অর্থ সাহায্য বা অগ্রিম বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের মমত্ববোধ তৈরি হয়। এতে তারা নিশ্চিন্তে ও উৎসাহের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করতে পারে।
- ভ্রমণের সুযোগ (Tour facility): মাঝে মাঝে কর্মীদের জন্য দেশে-বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ, ফ্যামিলি ড়ে, বনভোজন প্রভৃতির ব্যবস্থা করা উচিত। এতে তাদের কাজের প্রতি দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা একঘেয়েমি ভাব দূর হয়।
- নগর ও পাহাড়ি ভাতা (Urban and hill allowance): নগর জীবনে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক সময় কর্মীদের নগর ভাতা দেওয়া হয়। আবার, পার্বত্য এলাকায় বসবাস করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় সেখানে কর্মীরা যেতে চায় না। এজন্য তাদের বাড়তি ভাতা দেওয়ার মাধ্যমে উক্ত অঞ্চলগুলোতে থাকতে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
- অগ্রিম বা ঋণ সুবিধা (Advance or loan facility): কর্মীরা অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে অর্থ সংকটে ভোগে। এ ধরনের প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা দেওয়া হলে তা কর্মীদের মানসিক শক্তি বাড়াতে পারে। এজন্য চিকিৎসা, বাসস্থান, সন্তানদের শিক্ষা প্রভৃতি খাতে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা দেওয়া উচিত।
- বিমা সুবিধা (Insurance facility): কর্মীদের আর্থিক নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য বিমা সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এতে কর্মীরা মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবেদিত হয়ে কঠোর শ্রম দিয়ে যেতে পারবে। তাই দুর্ঘটনা বিমা, গোষ্ঠী বিমা প্রভৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে উৎসাহ বাড়ানো যায়। এতে নিয়োগকর্তার দায়ভারও অনেকাংশে কমে যায়।
২. অনার্থিক উপায় (Non-financial Means): আরমান সিদ্দিক 'ভিক্টর লি.' নামক বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে অনেক দিন ধরে কর্মরত। তার সৃজনশীল কার্যক্রম ও অভিনব কৌশলের সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের সফল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তার অবদান বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাকে স্বর্ণপদক ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এতে তিনি সম্মানবোধ করেন। উক্ত ঘটনায় আরমান সিদ্দিকের জন্য যা করা হলো, তা হলো অনার্থিক প্রেষণা।

অনেক সময় আর্থিক উপায়ে উৎসাহিত করা ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার মানবিক আচরণ এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করা যায়। এগুলোকে প্রেষণার অনার্থিক কৌশল বলে অভিহিত করা হয়। মূলত এ ধরনের প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। প্রেষণার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি অনার্থিক কৌশল নিচে দেওয়া হলো-
- অনুকূল কার্য পরিবেশ (Favourable work environment): প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু, মনোরম, নিরিবিলি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ কর্মীর কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। এতে কর্মীরা বাধাহীনভাবে ও স্বচ্ছন্দে কাজ করে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ কর্মীদের আর্থিক সুবিধার চেয়েও বেশি উৎসাহিত করে।
- চাকরির নিরাপত্তা (Job security): সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও চাকরির স্থায়িত্বহীনতা কর্মীর কাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট করে এবং মানসিক অশান্তি তৈরি করে। তাই কর্মীদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে তাদের চাকরির নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। এতে কর্মীরা নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করতে পারে।
- কর্তৃত্ব প্রদান ও মূল্যায়ন (Delegate authority and evaluation): প্রত্যেক কর্মীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী
উপযুক্ত কাজে নিয়োগ করা উচিত। এছাড়া কর্মীদের সম্পাদিত কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। এতে কর্মীর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ফলে সে পরবর্তী দায়িত্ব আরও দক্ষতার সাথে পালনে উৎসাহিত হয়। - উত্তম ব্যবহার (Good behaviour): ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে কর্মীদের সাথে সব সময় উত্তম আচরণ করা উচিত। যে ব্যবস্থাপক যত বেশি মানবিক আচরণ করেন, তিনি কর্মীদের মাধ্যমে তত বেশি কাজ আদায় করতে পারেন। তাই কর্মীদের সাথে সব ধরনের নেতিবাচক, অমানবিক ও রূঢ় আচরণ পরিহার করতে হবে।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা (Freedom of speech): কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের নিজস্ব মত নিতে হবে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের আলোচনায় ও সিদ্ধান্ত নিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।
- ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদান (Providing personal power): কর্মীদের অনার্থিক পদ্ধতিতে প্রেষণা দান করার অন্যতম উপায় হলো কাজের দায়িত্ব দেওয়ার সাথে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথাযথ ক্ষমতা দেওয়া। এভাবে দায়িত্বের সাথে যথাযথ কর্তৃত্ব পেলে তারা অনেক বেশি উৎসাহিত হয় ও সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রকাশ করে।
- সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক (Harmonious relationship): প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্ভাব এবং
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে কর্মীদের মন-মানসিকতার উন্নয়ন হয়। এতে তাদের মনোবল ও কাজের আগ্রহ বাড়ে। এজন্য প্রতিষ্ঠানের সবার সাথে সুষ্ঠু সম্পর্ক রক্ষায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সচেতন হতে হবে। - বিনোদন ও বিশ্রামের সুযোগ (Entertainment and rest facilities): একাধারে কাজ করলে কর্মীদের মধ্যে ক্লান্তি তৈরি হয়। এতে তাদের কাজের গতি ও ক্ষমতা কমে যায়। তাই কাজের মাঝে বিরতি ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে কর্মীরা পুনরায় উদ্যমে ও দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করতে পারবে।
- প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম (Institutional goodwill): সুপ্রতিষ্ঠিত, সুপরিচিত ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মনোবল স্বাভাবিক নিয়মেই বেশি থাকে। এরূপ প্রতিষ্ঠানে কাজের মাধ্যমে কর্মীর সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের সুনাম প্রেষণার অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে।
- প্রশিক্ষণের সুযোগ (Training facility): কর্মীদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য হাতে-কলমে শিক্ষা
পদ্ধতিকে প্রশিক্ষণ বলে। এর মাধ্যমে নতুন কাজ ও প্রযুক্তি ব্যবহার সহজ হয় এবং মানসিক শান্তিও বাড়ে। এছাড়া দক্ষতার সাথে কাজ করলে একঘেয়েমি ভাব আসে না। - শুষ্ক পদোন্নতি (Dry Promotion): কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক বা সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও পদোন্নতি দেওয়া হয়ে থাকে। এ ব্যবস্থা শুষ্ক পদোন্নতি নামে পরিচিত। এতে প্রতিষ্ঠানের কোনো বাড়তি খরচ হয় না। তবে অনেক ক্ষেত্রে এরূপ পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মীরা অনেক বেশি উৎসাহিত হয়।
- প্রতিযোগিতা (Competition): কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেও উৎসাহিত করা যায়। যেমন: পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় কাজে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো যায়। এতে কর্মীদের উৎসাহও বাড়ে।
- পদ পরিবর্তন (Job rotation): পদ পরিবর্তন বলতে কর্মীদের এক পদ থেকে অন্য পদে স্থানান্তর করাকে বোঝায়। এর মাধ্যমে কর্মীদের সম্পর্কযুক্ত কাজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ে। তাদের বিভিন্ন পদে কাজ করতে দিলে একই কাজ বারবার করার একঘেয়েমি দূর হয়। এ পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট কাজে কর্মীদের দক্ষতা ও জ্ঞানের পরিধি এবং কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ানো।
- কাজ সমৃদ্ধকরণ (Job enrichment): কাজ সমৃদ্ধকরণ বলতে মূলত কাজের পরিবর্তন ও উন্নয়নকে বোঝায়। কর্মীদের স্বীকৃতি, অগ্রগতি, উন্নয়ন ও দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে, এমন কাজ করতে কর্মীরা বেশি উৎসাহিত হয়। তাই ব্যবস্থাপকদের প্রতিটি কাজ সমৃদ্ধ করতে সচেষ্ট থাকা উচিত।
- নমনীয় শ্রমঘণ্টা (Flexible labour hour); কর্মীদের প্রেষণা দিতে নমনীয় শ্রমঘণ্টা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়া এবং কাজের চাপ অনুসারে কর্মঘণ্টায় তুলনা করা উচিত। এতে কর্মীরা ব্যক্তিগত জীবনও উপভোগ করার সুযোগ পায়। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে কর্মীদের মনোবল ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা (Democratic management): অধীনস্থ কর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা বলে। ক্ষেত্রবিশেষে স্বৈরতন্ত্র কার্যকর ও উপযোগী বিবেচিত হলেও বর্তমানে এ ব্যবস্থা নিরুৎসাহিত করা হয়। এর পরিবর্তে সবার মতের ভিত্তিতে অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা প্রচলন করা উচিত। এতে কর্মীরা দীর্ঘ মেয়াদে উৎসাহিত ও কাজে আন্তরিক হয়।
- স্বীকৃতি ও প্রশংসা (Recognition and praising): কর্মীদের সাফল্যে তথা সুষ্ঠুরূপে কাজ সম্পাদনের প্রেক্ষিতে স্বীকৃতি ও প্রশংসার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে তারা আরও বেশি উৎসাহী হবে। আবার, তাদের দেখাদেখি অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে। এভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সকল কর্মীকেই প্রেষণা দেওয়া যায়।
- দায়িত্ব প্রদান (Giving responsibility): অনেক সময় নির্দিষ্ট কর্মীকে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান হিসেবে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কর্মী আরও আন্তরিকতা ও উৎসাহের সাথে কাজ করে থাকে।
Read more