কর্মীসংস্থানের গুরুত্ব (৫.৪)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

14

Importance of Staffing

প্রতিষ্ঠানে কর্মীর চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে কর্মীসংস্থান একটি অপরিহার্য কাজ। একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন তথা সব কাজকে চালু রাখার প্রধান হাতিয়ার হলো দক্ষ কর্মী বা মানবসম্পদ। এক কথায়, কর্মীসংস্থানকে প্রতিষ্ঠানের জীবনীশক্তি বলা যায়। নিচে কর্মীসংস্থানের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-

  • উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা (Help to achieve objective): লক্ষ্য অর্জনের ধাপ বা মাইলফলককে উদ্দেশ্য বলে। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত উদ্দেশ্য সঠিক সময়ে অর্জন করতে কর্মীসংস্থানের ভূমিকা আছে। এর মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মীর সংস্থান হয়। এরা উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা করে।
  • প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ (Appointing employee): যেকোনো কাজ পরিচালনার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হয় দক্ষ ও যোগ্য কর্মী। কর্মীসংস্থানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মীর নিয়োগ নিশ্চিত হয়।
  • উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন (Selecting qualified employee): বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন করা হয়। উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা অর্জনের পূর্বশর্ত। তাই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সর্বোত্তম কর্মী নির্বাচন করা ব্যবস্থাপনার কাজ।
  • উৎপাদন সচল রাখা (Dynamism of production): কর্মীই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের প্রধান চালিকাশক্তি। কায়িক পরিশ্রমে হোক বা যন্ত্রচালিত মাধ্যমে হোক, কর্মী ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা সম্ভব নয়। উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়া কর্মীর যোগান দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার (Proper utilization of resource): স্বল্প সময়ে পরিমিত কাঁচামাল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন সম্ভব হলে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার হয়ে থাকে। কর্মীসংস্থানের মাধ্যমে মানবসম্পদ ও অন্যান্য সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জন সহজ হয়।
  • কর্মী ও কাজের সমন্বয় (Coordination between employee and task): কর্মীসংস্থান কাজ ও কর্মীর মধ্যে সমন্বয় করে থাকে। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কর্মী পেয়ে থাকে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়। এভাবে দেশের মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার সম্ভব হয়।
  • প্রশিক্ষণ (Training): প্রশিক্ষণ কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে কর্মীদের পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়ে যায়। পাশাপাশি কর্মীদের মনোভাবে স্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। ফলে তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য সহজে অর্জিত হয়।
  • মূল্যায়ন (Evaluation): মূল্যায়ন কর্মীসংস্থানের একটি মূল্যবান উপাদান। এর মাধ্যমে কর্মীর দক্ষতা, যোগ্যতা, কাজের ক্ষমতা প্রভৃতি বাছাই করে তার স্বাতন্ত্র্য নিরূপণ করা সহজ হয়। ফলে ভবিষ্যতে উক্ত মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি দেওয়া যায়।
  • উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (Increasing productivity): মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কর্মীসংস্থান ব্যাপক অবদান রাখে। কর্মীদের দক্ষতা ও মেধাশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ে। এ উৎপাদনশীলতা মানসম্মত বা আশানুরূপ না হলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কর্মীসংস্থান একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখার জন্য উপযুক্ত কর্মীসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...