নির্দেশনার বিভিন্ন পদ্ধতি বা কৌশল (৬.১৭)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

10

Methods or Techniques of Direction

প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কর্মীদের মূল লক্ষ্যের দিকে পরিচালনা করা আবশ্যক। আর এজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু, কার্যকর ও সময়োপযোগী নির্দেশনা। কার্যকরভাবে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য যেসব পদ্ধতি বা কৌশল অবলম্বন করা হয়ে থাকে তা হলো-

  • আদর্শ বা নির্ধারিত নির্দেশনা (Standard or fixed direction): যে নির্দেশনা আগেই নির্ধারণ করা থাকে এবং
    প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থরা বারবার তা অনুসরণ করেন, তাকে আদর্শ নির্দেশনা পদ্ধতি বলে। প্রতিষ্ঠানের কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদর্শ নির্দেশনা দেওয়া থাকে। বিভিন্ন ধরনের অবস্থা মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় উল্লিখিত অবস্থা পুনরায় সৃষ্টি হলেই কর্মীরা নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করে থাকেন।
  • তত্ত্বাবধায়নমূলক নির্দেশনা (Supervisory direction): যে নির্দেশনায় নেতা সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাজ
    দেখাশোনা করে অধীনস্থদের পরামর্শ দেন ও কাজ করিয়ে নেন, তাকে তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে নির্দেশনা বলে। এক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে তা সাথে সাথেই শুধরে দেওয়া যায়। সাধারণত প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার, শাখা ব্যবস্থাপক, ফোরম্যান প্রভৃতি নিম্ন স্তরের ব্যবস্থাপকরা তত্ত্বাবধায়ক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
  • যোগাযোগভিত্তিক নির্দেশনা (Communicative direction): নেতা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা, সেমিনার, টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট, ই-মেইল, চিঠিপত্র প্রভৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে যে নির্দেশনা কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাকে যোগাযোগভিত্তিক নির্দেশনা বলে। এ ধরনের নির্দেশনার সাথে প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের ব্যবস্থাপকরা জড়িত থাকেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ফলে এরূপ যোগাযোগ বর্তমানে কার্যকর ও সহজ হয়েছে।
  • নেতৃত্বভিত্তিক নির্দেশনা (Leadership oriented direction): নেতৃত্বের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রচলিত নির্দেশনাকে নেতৃত্বভিত্তিক নির্দেশনা বলে। নেতৃত্বের প্রকৃতি অনুযায়ী এরূপ নির্দেশনা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, যেমন-
  • স্বৈরাচারী নির্দেশনা (Autocratic direction): এক্ষেত্রে নেতা সব ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত রেখে অধীনস্থদের দিয়ে কাজ আদায়ে ভয়-ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করেন। এতে তিনি কোনো বিষয়ে অধীনস্থদের চিন্তা-ভাবনা, মতামত ও পরামর্শের গুরুত্ব দেন না। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এরূপ নির্দেশনাকে নিরুৎসাহিত করা হয়।
  • পিতৃসুলভ নির্দেশনা (Paternalistic direction): যে নির্দেশনায় নির্দেশদাতা বা ব্যবস্থাপক বাবার মতো স্নেহ-ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টি করে অধীনস্থদের কাছ থেকে কাজ আদায় করেন, তাকে পিতৃসুলভ নির্দেশনা বলে। এক্ষেত্রে অধীনস্থরা নির্দেশদাতা বা ঊর্ধ্বতনের প্রতি অনেক বেশি আনুগত্যপরায়ণ থাকেন। ফলে, যেকোনো সময়ে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে অধীনস্থরা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশনা পালন করেন।
  • পরামর্শমূলক নির্দেশনা (Consultative direction): অধীনস্থদের সাথে আলাপ-আলোচনা বা পরামর্শ করে নির্দেশনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করাকে পরামর্শমূলক নির্দেশনা বলে। এ নির্দেশনায় অনুসারীদের অংশগ্রহণ থাকার কারণে তারা সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এরূপ নির্দেশনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।।
  • মুক্ত বা লাগামহীন নির্দেশনা (Free-rein direction): লাগামহীন নির্দেশনা পদ্ধতিতে নির্বাহী অধীনস্থদের
    ওপর কোনো কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন না, বরং তাদের ওপরই কর্তব্য পালনের সব ভার দিয়ে নিজে কর্মবিমুখ থাকেন। নির্দেশদাতার এরূপ কর্মবিমুখতার কারণে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
  • কারণ ব্যাখ্যাকরণমূলক নির্দেশনা (Cause explainatory direction): যে পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কাজ শুরুর আগেই অধীনস্থদের কাছে নির্দেশনার কারণ ব্যাখ্যা করেন, তাকে কারণ ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা বলে। এতে অধীনস্থরা কাজের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট থাকেন। ক্ষেত্রবিশেষে এটি অনেক বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়।
  • একনায়কত্ব নির্দেশনা (Dictatorship direction): একনায়কত্ব নির্দেশনায় একজন নির্বাহীর আদেশ বা নির্দেশ তার অনুসারীরা বিনা বাক্যে মেনে চলতে বাধ্য থাকেন। এক্ষেত্রে নির্বাহীর একক সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। সামরিক ক্ষেত্রে এর ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। স্বেচ্ছাচারিতার প্রবণতা এক্ষেত্রে বেশি থাকে।
  • বিশেষ শিক্ষাদানমূলক নির্দেশনা (Special teaching direction): বিশেষ শিক্ষাদানমূলক নির্দেশনা অনুযায়ী
    অধীনস্থদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা ঊর্ধ্বতন সম্পর্কে সামান্যতম অসন্তোষ প্রকাশ বা দ্বিমত পোষণ না করেন। নির্বাহীরা ধীরে ধীরে এ কৌশলের সাহায্যে উদ্দেশ্য অর্জনে অধীনস্থদের আগ্রহী করে তোলেন। অধীনস্থরা এক্ষেত্রে অনেকটাই অন্ধভক্ত বা অন্ধ বিশ্বাসের পর্যায়ে চলে আসেন।

তাই বলা যায়, উপরিউক্ত বিভিন্ন পদ্ধতি বা কৌশল অবলম্বন করার মাধ্যমেই অধীনস্থদের নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। এগুলো থেকে পরিবেশ-পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক সংস্কৃতি বিবেচনা করে নির্দেশনার পদ্ধতি নির্বাচন করতে হয়।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...