পদোন্নতির ভিত্তিসমূহ (৫.১৬)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

18

Basis of Promotion

যে বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে কর্মীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়, তা-ই পদোন্নতির ভিত্তি। কর্মী, কর্ম ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় পদোন্নতির ভিত্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর যোগ্যতা, কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য গুণাবলি এক নয়। এ কারণে পদোন্নতির জন্য মনোনীত করার আগে কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে উপযুক্ত কর্মীকে বেছে নিতে হয়। পদোন্নতি বিষয়টি খুবই জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে এগোতে হয়। নিচে পদোন্নতির ক্ষেত্রে
অনুসরণযোগ্য পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করা হলো-

১. জ্যেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে পদোন্নতি (Promotion on th basis of seniority): প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের মধ্য থেকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যদি চাকরির মেয়াদ বা কার্যকাল বিবেচনায় কোনো কর্মীকে নির্বাচন করা হয়, তবে তাকে জ্যেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে পদোন্নতি বলে। এক্ষেত্রে কর্মীর মেধা বা যোগ্যতার চেয়ে কার্যকালকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেজন্য কার্যকাল নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতি থাকা প্রয়োজন। এরূপ পদোন্নতিতে অভিজ্ঞ পুরনো কর্মীদের ধরে রাখা সহজ হয় ও ভুল-বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে না। বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তি অনুসরণ করা হয়। জ্যেষ্ঠত্ব নির্ধারণে নিচের বিষয়াদি বিবেচনা করা হয়-

  • কর্মরত কর্মীর মোট কার্যকাল;
  • বর্তমান প্রতিষ্ঠানে মোট কার্যকাল;
  • একই জাতীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কার্যকাল;
  • স্থায়ী কর্মী হিসেবে স্থায়ী পদে কার্যকাল;
  • বর্তমান প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পদে মোট কার্যকাল;
  • স্থায়ী কর্মীর অস্থায়ী পদে কার্যকাল প্রভৃতি।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আবেদ টেক্সটাইল লি.-এর ব্যবস্থাপক অবসরে যাওয়ার কারণে উক্ত পদ খালি হয়। প্রতিষ্ঠানে ১২ বছর ধরে কর্মরত আসাদ সাহেব ৩ বছর ধরে সেরা সহকারী ব্যবস্থাপক নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তা সত্ত্বেও ১৫ বছর ধরে উক্ত প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ইসলাম সাহেবকে ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।।

২. যোগ্যতা বা মেধাভিত্তিক পদোন্নতি (Promotion on the basis of merit): কর্মীর সাধারণ যোগ্যতা যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, প্রশিক্ষণ, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ প্রভৃতির সমন্বয়ে যোগ্যতা বা মেধা বিচার করে যে পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে, যোগ্যতা বা মেধাভিত্তিক পদোন্নতি বলে। যোগ্যতাকেই মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন কর্মীদের জ্যেষ্ঠত্বের কোনো গুরুত্ব থাকে না। যোগ্যতা একটি আপেক্ষিক বিষয়। তাই এ পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। এক্ষেত্রে কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতা পরিমাপ করা হয়। এরূপ পদোন্নতিতে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরা উৎসাহিত হন। আর কম যোগ্যতাসম্পন্নরা যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করেন। কর্মীর যোগ্যতা বা মেধা যাচাইয়ে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়-

  • আনুষ্ঠানিক শিক্ষা;
  • ব্যবহারিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা;
  • প্রশিক্ষণ, এর ধরন ও ব্যাপ্তি;
  • স্থায়ী পদে থাকাকালীন অবদান;
  • চাকরি অবস্থায় সংগৃহীত ও সংরক্ষিত ব্যক্তিগত রিপোর্ট প্রভৃতি।
  • দক্ষতার মূল্যায়ন;
  • বিশ্বস্থতা ও আনুগত্যতা;
  • পরিস্থিতি মোকাবেলা রাখার সামর্থ্য;

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জনাব আদমান একটি কোম্পানিতে নিম্নমান সহকারী পদে ১০ বছর ধরে কর্মরত আছেন। তার এক সহকর্মী জনাব আরিফ ৭ বছর হলো একই পদে যোগদান করেছেন। তবে দক্ষতা বিবেচনায় উক্ত প্রতিষ্ঠান আরিফকে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি দেয়।

৩.যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক পদোন্নতি (Promotion on the basis of merit and seniority): প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতা বা যোগ্যতা কিংবা মেধাকেই যদি পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেক্ষেত্রেও ব্যবস্থাপনাকে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই কর্মীদের পদোন্নতির ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা বা কর্তৃপক্ষ যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা এ উভয় দিক বিবেচনা করে কর্মীদের পদোন্নতি দিয়ে থাকে। এটি জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতি নামে পরিচিত। এ পদ্ধতিতে যোগ্যতার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠতাকেও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। ফলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্মীদের প্রতি সুবিচার করা সম্ভব হয়। এতে পুরোনো কর্মীদের যেমনি ধরে রাখা যায়, তেমনি যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরাও সন্তুষ্ট থাকেন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মি. আরাফ সিটি ব্যাংকের এমডি। তিনি মনে করেন তার ব্যাংকের সব অফিসারকে সব কাজ জানতে হবে। মি. আরাফ তার প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এতে বেশ কিছু জুনিয়র ও সিনিয়র একই তালিকায় আছেন।

পরিশেষে বলা যায়, কর্মীদের পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে উপরিউক্ত তিনটি পদ্ধতি বা ভিত্তি সচরাচর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর প্রত্যেক পদ্ধতিরই কিছু সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আছে। তাই এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি যাচাই করে সুনির্দিষ্ট নীতি অনুযায়ী যেকোনো একটি পদ্ধতি বাছাই করতে হয়।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...