Limitations of Consultative Directions
পরামর্শমূলক নির্দেশনা একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হলেও এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। এজন্য এ ধরনের নির্দেশনা পদ্ধতি সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে বা সব পরিস্থিতিতে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। সাধারণত এরূপ পদ্ধতিতে নিচের সীমাবদ্ধতা দেখা যায়-
- অবাধ্যতা সৃষ্টি (Creating insubordination): কর্মীদের অবাধ্য আচরণ প্রদর্শনের আশঙ্কা পরামর্শমূলক
নির্দেশনার প্রধান অসুবিধা। নির্বাহীর সাথে আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগে তারা অনেক সময় নিজেকে নির্বাহীর সমকক্ষ ভাবতে থাকেন। এমনকি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে তাদের অধিকার আছে- এমন ধারণাও তারা পোষণ করতে পারেন। এ অবস্থায় নির্দেশনা বাস্তবায়নে বা পরিবর্তনে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। - সময় অপচয় (Waste of time): এটি একটি সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি। এতে ঊর্ধ্বতন ও অধীনস্থদের মধ্যে আলোচনায় অনেক সময় ব্যয় হয় অথবা দীর্ঘ আলোচনার পরও বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। এতে নির্দেশনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে অযথা সময় ব্যয় হয়।
- সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা (Complexity in decision making): অনেক সময় অধীনস্থদের সাথে আলাপ-
আলোচনার ক্ষেত্রে অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের অবতারণা হয়ে থাকে। এর ফলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং নির্দেশনা প্রক্রিয়াও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। - বিরূপ ধারণা (Adverse assumptions): পরামর্শমূলক নির্দেশনা অবলম্বনের ফলে কর্মীরা অনেক সময় নির্বাহীকে অদক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেন। অর্থাৎ তারা মনে করেন, নির্বাহীর দক্ষতার অভাব বলেই অধীনস্থদের সাথে আলোচনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এরূপ মানসিকতা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের পরিবেশকে নষ্ট করে দিতে পারে।
- অধীনস্থদের অযোগ্যতা (Inefficiency of subordinates): অধীনস্থদের অযোগ্যতা বা অদক্ষতা পরামর্শমূলক
নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। যে বিষয়ে অধীনস্থদের সাথে আলোচনা করা হয়, সে বিষয়ে সব ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান বা চিন্তার গভীরতা থাকে না। ফলে তাদের কাছ থেকে সব সময় গঠনমূলক পরামর্শ পাওয়া যায় না। আবার, তাদের পরামর্শ পুরোপুরি উপেক্ষা করাও সম্ভব হয় না। - ব্যয়বহুল (Costly): পরামর্শমূলক নির্দেশনা মূলত একটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আলোচনা সভা আহ্বান, সভা পরিচালনা প্রভৃতির জন্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বেড়ে যায়। বিভিন্ন পর্যায়ে আপ্যায়ন, সম্মানী দেওয়া ও অনেক সময় ব্যয় হয়। এতে সার্বিক ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে, অর্জনের চেয়ে খরচ বেশি হতে পারে।
- তথ্য ফাঁস (Leakage of information): পরামর্শমূলক নির্দেশনার প্রক্রিয়াগত কারণে প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। এভাবে কারও অসৎ উদ্দেশ্য বা অসতর্কতার কারণে প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রতিযোগীদের কাছে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানের অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
- বাস্তবায়নে বিলম্ব (Delay in implementation): পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়ার আগে কর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশপত্র প্রণয়ন করতে হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান, প্রয়োজনে সংশোধনী আনা প্রভৃতি কাজের জন্য যথেষ্ট সময় ব্যয় করতে হয়। এর ফলে নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতেই অনেক ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়।
সুতরাং বলা যায়, পরামর্শমূলক নির্দেশনা বাহ্যিকভাবে সহজ, সুন্দর ও কার্যকর বলে মনে হলেও এর সফল বাস্তবায়ন অনেক কঠিন। তাই এ ধরনের নির্দেশনা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহীকে অনেক বেশি কৌশলী হতে হয়।
Content added By
Read more