প্রশিক্ষণের গুরুত্ব (৫.১৯)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

17

Importance of Training

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীরা প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মরত কর্মী এবং কাজ সম্পাদনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারে। প্রশিক্ষণ কর্মীদের কাজের দক্ষতার উন্নয়ন করে ও কাজের প্রতি তাদের আগ্রহী করে তোলে। নিচে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হলো-

  • দক্ষতা বৃদ্ধি (Increasing efficiency): প্রশিক্ষণ হলো নিয়োজিত কর্মীদের কাজ, দায়-দায়িত্ব, ক্ষমতা, কাজ
    সম্পাদনের কলাকৌশল প্রভৃতি সম্পর্কে অবহিত করার প্রচেষ্টা। প্রশিক্ষণ কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ও তাদের দায়িত্ব পালনে নৈপুণ্য আনয়নে সহায়তা করে।
  • উৎসাহ বৃদ্ধি (Increasing inspiration): নিয়োগের পর এবং কর্মরত অবস্থায় ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে কর্মী বা নির্বাহীর জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহ বাড়ে। তাই প্রশিক্ষণ কর্মীদের উৎসাহের সাথে কাজ করিয়ে তাদের যোগ্য ও অভিজ্ঞ করে তোলে।
  • আচরণগত উন্নয়ন (Behavioral development): প্রশিক্ষণ কর্মীদের কাজের দক্ষতার উন্নয়ন, সংরক্ষণ বা কাজের প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন করে। এছাড়া কর্মীদের আচার-আচরণ পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিভিন্ন কৌশলগত প্রশিক্ষণের ফলে কখন, কার সাথে, কী ধরনের আচরণ করতে হবে, তা কর্মীরা বুঝতে পারে।
  • মনোবলের উন্নয়ন (Development of morale): প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের অদক্ষতা, অজ্ঞতা ও অযোগ্যতা দূর হয়। তারা কাজের খুঁটি-নাটি বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারে। ফলে কর্মীরা উচ্চ মনোবল ও আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়। প্রশিক্ষণ ও মনোবলের মধ্যে ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান।
  • সহজ তত্ত্বাবধান (Easy supervision): প্রশিক্ষিত কর্মী কাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত থাকে। তারা নিজেরাই স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে উৎসাহের সাথে কাজ করায় ভুলের মাত্রা অনেক কমে যায়। এছাড়া কর্মীরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নির্ভুলভাবে কাজ করে, ফলে প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান কাজও অনেক সহজ হয়।
  • প্রতিযোগিতা মোকাবিলা (Facing competition): যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির জটিল বিষয়, আধুনিক ব্যবস্থাপকীয় কলাকৌশল ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিয়ে প্রযুক্তির সুবিধা অর্জন করা যায়।
  • সহজ সমন্বয় (Easy coordination): প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা দায়িত্ব সচেতন, কাজের প্রতি একাগ্রতাসম্পন্ন ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাবের অধিকারী হয়ে থাকে। তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাসময়ে সম্পাদন করে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যক্তি, দল, বিভাগ ও শাখার কাজের মধ্যে সমন্বয় করা সহজ হয়।
  • ব্যয় ও দুর্ঘটনা হ্রাস (Minimize cost and accident): প্রশিক্ষিত কর্মীর সহায়তায় কাজ সম্পাদনের সঠিক পদ্ধতি এবং সম্পদ ও সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন খরচ কমানো যায়। উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
  • কর্মীর ব্যক্তিক উন্নয়ন (Personal development of employees): যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে কর্মীদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পরিচিতি লাভের পাশাপাশি তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, অনুপস্থিতি ও কর্মী আবর্তন মাত্রা কমানো, পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোসহ অনেক সুবিধা অর্জিত হয়।

তাই বলা যায়, কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই প্রশিক্ষণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য একটি বিষয়। নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। তাই সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রশিক্ষণ খুবই কার্যকর ও প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...