Characteristics of Motivation
প্রেষণা কর্মীদের যৌক্তিক আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। এটি কর্মীদের মনোবল এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতার সাথে সরাসরি জড়িত। এছাড়া ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার একটি মুখ্য কাজ হিসেবে এটি বিবেচিত। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় একটি অপরিহার্য কাজ হিসেবে এর নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ দেখা যায়-
- মানবসংশ্লিষ্ট বিষয় (Human related matter): ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজের মধ্যে প্রেষণা শুধু মানবীয়
উপাদানের সাথে জড়িত। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শ্রেণির নির্বাহী ও কর্মীদের নিয়ে ব্যবস্থাপনার প্রেষণামূলক কার্যক্রম চলতে থাকে। এক্ষেত্রে নির্বাহী ও কর্মীদের অভাব-অভিযোগ, আবেগ-অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দ, রুচি-অভিরুচি প্রভৃতি প্রেষণার মূল বিবেচ্য বিষয়। - মনস্তাত্ত্বিক বিষয় (Psychological matter): প্রেষণা কর্মীদের মনের সাথে সম্পর্কিত। এজন্য এটি মনোবিজ্ঞানের একটি অপরিহার্য বিষয়। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সব সময় কর্মীদের মন-মানসিকতা সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। কোনো ব্যক্তি নিজের মনোভাব প্রকাশ না করলে, তাকে সম্পূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব নয়। তাই প্রেষণার মাধ্যমে কর্মীদের কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা হয়।
- অবিরাম প্রক্রিয়া (Continuous process): প্রেষণা একটি ধারাবাহিক বা অবিরাম ব্যবস্থাপকীয় কাজ। কর্মীদের
কাজের ক্ষমতা পূর্ণমাত্রায় ব্যবহারের লক্ষ্যে তাদেরকে সর্বদা প্রেষণা দেওয়ার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, কর্মীদের চাহিদা বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সব সময়ই কোনো না কোনো প্রেষণামূলক কার্যক্রম চলমান রাখতে হয়। - লক্ষ্যকেন্দ্রিক (Goal oriented): কর্মীদের দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করানো হয়। অন্যদিকে
কর্মীরাও তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর জন্য কাজ করে। তাই, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যবস্থাপকগণ কর্মীদের প্রয়োজন বিবেচনা করে সেগুলো মেটাতে সচেষ্ট থাকে। এভাবে প্রেষণা সব সময় প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিক লক্ষ্যকে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে। - অভাবভিত্তিক (Wants based): ব্যক্তির মধ্যে অভাববোধ না থাকলে, প্রেষণার দরকার হতো না। কর্মীভেদে বিভিন্ন অভাব বিবেচনা করেই প্রেষণামূলক উপকরণ ব্যবহার করা হয়। যার অর্থের প্রয়োজন, তাকে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করতে হয়। আবার যার আত্মমর্যাদা ও সম্মান প্রয়োজন, তাকে অনার্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করতে হয়। এক্ষেত্রে কর্মীর যে বিষয়ের প্রয়োজন বা অভাব নেই এমন বিষয় দিয়ে উৎসাহিত করা যায় না।
- ইতিবাচক ও নেতিবাচক (Positive and negative): প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্র অনুযায়ী প্রেষণা ইতিবাচক বা নেতিবাচক যেকোনো ধরনের হতে পারে। কখনো কখনো কোনো ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করে প্রেষিত করতে হয়। আবার, কাউকে তিরস্কার ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে কাজ আদায় করতে হয়।
- অনুমাননির্ভর (Prediction based): ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পাদনে উপকরণ ও সম্পদের মধ্যে মানবসম্পদ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল উপাদান বলে বিবেচিত। মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, গুণাবলি, আচরণ, যোগ্যতা, কাজের প্রতি আগ্রহ ও একাগ্রতা প্রভৃতি সহজে ও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তাই, কর্মীদের প্রেষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে অনেকটা অনুমানের ভিত্তিতে কাজ করতে হয়।
সুতরাং, প্রেষণা প্রাতিষ্ঠানিক কাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে কর্মীদের কর্মশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে থাকে। কর্মীদের মানসিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করে প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। আর এই মানসিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করার জন্য কর্মীদের বিভিন্নমুখী চাহিদা পূরণ করতে হয়।
Read more