Relationship between Motivational Theory of Maslow and Herzberg
কর্মীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজ আদায়ের জন্য সঠিক উপায়ে প্রেষণা দেওয়া অপরিহার্য। তবে এটি অত্যন্ত জটিল কাজ। এজন্য গবেষণার মাধ্যমে অনেক তত্ত্ব ও উপায় উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব ও হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্ব অন্যতম।
এ দু'টি তত্ত্ব চাহিদাকেন্দ্রিক (Need Theory) হওয়ায় প্রকৃতি, প্রয়োগ এবং উপযোগিতার দিক দিয়ে দু'টোর মধ্যে মিল পাওয়া যায়। নিচে মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব ও হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্বের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক উপস্থাপন করা হলো-
- মাসলোর তত্ত্বে মানবজীবনের সামগ্রিক চাহিদাকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলোকে গুরুত্ব অনুসারে ধারাবাহিকভাবে নিচের দিক থেকে উপরের দিকে সাজানো হয়েছে। এ চাহিদাগুলো ধারাবাহিকভাবে পূরণে মানুষ আগ্রহী হয়ে থাকে।
অপরদিকে, হার্জবার্গের তত্ত্ব অনুযায়ী সন্তুষ্টি সৃষ্টিকারী ও অসন্তুষ্টিকারক এ দু'ধরনের পরিপূরক উপাদানকে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কাজের প্রতি মানুষের মনোভাবকে প্রভাবিত করে।
- মাসলোর তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত সব উপাদানই প্রেষণাকেন্দ্রিক। তবে হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্বের সব উপাদান
প্রেষণাকেন্দ্রিক নয়। এর কিছু উপাদান প্রেষণাকেন্দ্রিক হলেও অন্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণমূলক। - মাসলোর তত্ত্বে বিভাজিত প্রয়োজনগুলো সব স্তরের কর্মীর মধ্যে দেখা গেলেও হার্জবার্গের তত্ত্বের বিভাজিত উপাদানগুলো অপেক্ষাকৃত উচ্চ স্তরের কর্মীদের মধ্যে দেখা যায়।
- চাহিদা সোপান তত্ত্বে মানুষের মনোজাগতিক এবং বৈষয়িক চাহিদার প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে দ্বি-উপাদান তত্ত্বে, কর্মীদের মনোবলের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী কর্মকেন্দ্রিক ও কর্মবহির্ভূত বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- মাসলো তাঁর প্রেষণা তত্ত্বে কাজ বিস্তৃতকরণের (Job Enlargement) ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পক্ষান্তরে, হার্জবার্গ তাঁর তত্ত্বে কাজ বিস্তৃতকরণের পাশাপাশি কাজ সমৃদ্ধিকরণের (Job Enrichment) কথাও বলেছেন।
- মাসলোর তত্ত্বে অর্থকে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে দেখানো হলেও হার্জবার্গের তত্ত্বে একে সংরক্ষণমূলক বা গৌণ উপাদান হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী কর্মীদের পর্যায়ক্রমিকভাবে সৃষ্ট অভাব পূরণের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করা যায়। অপরদিকে দ্বি-উপাদান তত্ত্ব অনুযায়ী শুধু প্রণোদনামূলক উপাদান কর্মীদের সন্তুষ্ট করে। আবার, রক্ষণাবেক্ষণমূলক উপাদান কর্মীদের অতিরিক্ত উৎসাহ না দিলেও এগুলোর অনুপস্থিতি তাদের অসন্তুষ্ট করে।
- সব শ্রেণির কর্মীর ওপর মাসলোর তত্ত্বের প্রয়োগ করা গেলেও হার্জবার্গের তত্ত্ব শুধু উচ্চ স্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে মনে করা হয়।
- মাসলোর তত্ত্বের আওতা ব্যাপক ও বিস্তৃত হলেও হার্জবার্গের তত্ত্বের আওতা বেশ সীমিত।
নিচের চিত্রের সাহায্যে মাসলো ও হার্জবার্গের তত্ত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক উপস্থাপন করা হলো-

উপসংহারে বলা যায়, মাসলো এবং হার্জবার্গের প্রেষণা তত্ত্বের মধ্যে যতই সম্পর্ক বা পার্থক্য থাকুক না কেন, দু'টি তত্ত্বই প্রেষণার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাকেন্দ্রিক তত্ত্ব। মাসলোর তত্ত্বে যেকোনো স্তরের কর্মীদের অভাবকে প্রেষণার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে হার্জবার্গের তত্ত্বে বলা হয়, কর্মীদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সব প্রতিষ্ঠানই সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে থাকে। এগুলো প্রেষণার ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না। তাই অর্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক চাহিদাকেও হার্জবার্গ গৌণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তবে তত্ত্ব দু'টির উদ্ভাবনী ইতিহাস প্রমাণ করে, হার্জবার্গের তত্ত্বটি মাসলোর তত্ত্বের একটি পরিমার্জিত রূপ। অর্থাৎ, মাসলোর তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই হার্জবার্গের তত্ত্ব উদ্ভাবন হয়েছে।
Read more