মৌখিক যোগাযোগের অসুবিধা (৮.১১)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

12

Disadvantages of Oral Communication

মৌখিক যোগাযোগে বিভিন্ন সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও দেখা যায়। ফলে মৌখিক যোগাযোগের সহজ গতিধারা ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে বাধার তৈরি হয়। নিচে মৌখিক যোগাযোগের অসুবিধা বা ত্রুটিগুলো উল্লেখ করা হলো-

  • সংরক্ষণযোগ্য নয় (Not storable): মৌখিক যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা যায় না। প্রেরক ও. প্রাপক মৌখিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে তথ্য বিনিময় করেন, তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায় না। এতে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে যেকোনো পক্ষ তথ্যবিষয়ক কোনো কিছু অস্বীকার করলে কিছুই করার থাকে না।
  • সময়ের অপচয় (Wastage of time): বিশেষ করে দলগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপস্থিত লোকজন শুরুতেই বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনায় এতই মনোনিবেশ করেন যে, তারা মূল বিষয়কে অনেক সময় ভুলে যান। এতে যোগোযোগের জন্য প্রতিষ্ঠানের কাজের অনেক মূল্যবান সময় অপচয় হয়।
  • অতি কথন ও গুজব (Excessive talk and rumor): মৌখিক যোগাযোগে অনেক সময় বক্তা মূল বিষয়ের সাথে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলেন। এটি শ্রোতার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া এটি মুখে মুখে প্রচার হতে হতে গুজব আকারে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বলা হয় মৌখিক যোগাযোগ দ্রুত গুজব ছড়ায়।
  • প্রামাণ্য দলিল থাকে না (No authoritative documents): মৌখিক যোগাযোগের কোনো স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য রেকর্ড থাকে না। ফলে এ যোগাযোগের বিষয়কে আদালতে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
  • তথ্যের অপব্যাখ্যা (Mal-explanation of information): মৌখিক আলোচনার বিষয়বস্তু ও গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্বার্থের জন্য অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিতে পারে। এতে সঠিক তথ্য বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • স্মরণশক্তির সীমাবদ্ধতা (Limitations of memory): মৌখিক যোগাযোগের বাণী সব সময় সংরক্ষণ করা যায় না। যোগাযোগে জড়িত পক্ষগুলো কিছু সময় তা স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারে। কিন্তু মানুষের স্মরণশক্তির সীমাবদ্ধতা আছে। একটি পর্যায়ে তার স্মৃতিভ্রম হয়। ফলে পরবর্তীতে মৌখিক যোগাযোগের তেমন কোনো কার্যকারিতা থাকে না।
  • অস্বীকৃতিজনিত সমস্যা (Problems due to denial): অনেক সময় কিছু লোকজন নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে মৌখিক যোগাযোগের তথ্যকে অস্বীকার করে। সব সময় তথ্য সংরক্ষণ করা যায় না বিধায় এরূপ ক্ষেত্রে দোষীদের মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব হয় না। ফলে সঠিক তথ্য আড়ালেই থেকে যায়।
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা (Problems at taking decision): মৌখিক যোগাযোগে প্রায়ই সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে উপস্থিত লোকজন বা শ্রোতামণ্ডলী বক্তাকে এমন সব প্রশ্ন করে যেগুলোর জবাব দিতে গিয়ে সিদ্ধান্ত। নিতে দেরি হয়। ফলে নতুন করে সমস্যার তৈরি হয়।
  • অস্পষ্ট বক্তব্য (Inarticulate speech): বিশেষ করে একই সাথে অনেক লোকের উদ্দেশ্যে মৌখিকভাবে তথ্য
    পরিবেশনের সময় বক্তার বক্তব্য সবার কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায় না। এতে শ্রোতা বা গ্রাহক সঠিকভাবে তথ্য জানতে পারে না। ফলে যোগাযোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়ে পড়ে।
  • ব্যয়বহুল (Expensive): অনেক সময় মৌখিক যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়। দূরের শ্রোতা বা গ্রাহকদের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার জন্য প্রচুর খরচ করতে হয়।
  • গোপনীয়তা ফাঁস (Disclosure of secracy): মৌখিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বক্তার অজান্তেই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উপসংহারে বলা যায়, মৌখিক যোগাযোগের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উল্লিখিত অসুবিধাগুলো প্রতিকূল প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এসব অসুবিধা দূর করে সতর্কতার সাথে মৌখিক যোগাযোগ করা আবশ্যক।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...