Advantages of Oral Communication
আধুনিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও গতিশীল ব্যবসায় জগতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে মৌখিক যোগাযোগের বিকল্প নেই। এর উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ-
- তথ্যের বিকৃতি রোধ (Resist deformity of information): অনেক সময় মৌখিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্যের বিকৃতি হয়। কিন্তু এ বিকৃতি রোধের একটি সহজ উপায় হলো প্রত্যক্ষ মৌখিক যোগাযোগ বা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা। এতে সরাসরি আলোচনার ফলে ভুল-বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে না।
- ভুল-ত্রুটি মুক্ত (Free from error): এরূপ যোগাযোগে কোনো ভুল-ত্রুটি ধরা পড়লে সাথে সাথে তা সমাধান করা যায়। ফলে নির্ভুলভাবে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। এতে যোগাযোগের কার্যকারিতা বাড়ে।
- নিরক্ষর ব্যক্তিদের জন্য সুবিধা (Advantages for illiterate persons): মৌখিক যোগাযোগ এমন একটি পদ্ধতি, যা সব ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক। ফলে লেখাপড়া জানে না এমন লোকের সাথেও এ পদ্ধতিতে সহজে যোগাযোগ করা যায়।
- অনানুষ্ঠানিক ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক সৃষ্টি (Creation of informal and direct relation): মৌখিক যোগাযোগে তথ্যের প্রেরক ও প্রাপক পরস্পরের মন-মানসিকতা, ধ্যান-ধারণা, আচরণ প্রভৃতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে জানতে পারেন। ফলে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা যোগাযোগের উন্নয়নে সহায়ক।
- সময়ের অপচয় রোধ (To hinder wastage of time): মৌখিক যোগাযোগে আধুনিক কলা-কৌশল বা প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুত দূর-দূরান্তে তথ্য বিনিময় করা যায়। এতে মূল্যবান সময় অপচয় হয় না।
- ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা (Agreement in opinion): জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা করার প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ একটি নির্দিষ্ট স্থানে একত্র হয়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সহজে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য হ্রাস (Reducing red-tapism): লিখিত যোগাযোগে প্রায়ই তথ্য ফাইলবন্দি হয়ে থাকে। কিন্তু মৌখিক যোগাযোগে তথ্যের এরূপ ফাইলবন্দি হওয়া বা লালফিতার দৌরাত্ম্য দেখা যায় না।
- প্রণোদনা (Motivation): মৌখিক যোগাযোগ মাধ্যমে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা অধীনস্থ কর্মীদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন এবং তাদের কাজে উদ্যোগী হতে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করেন। এতে কর্মীর প্রণোদনা ও কর্মী সন্তুষ্টি বেড়ে থাকে।
- তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া (Immediate Response): মৌখিক যোগাযোগে বিশেষ করে সামনা-সামনি আলোচনায় গ্রাহকের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়। এতে যোগাযোগকারী তার যোগাযোগের সফলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
- বিরোধ নিষ্পত্তি (Settlement of dispute): সাংগঠনিক কোনো বিষয়ে কর্মীদের মধ্যে কর্মী ও কর্মকর্তার মধ্যে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি হলে মৌখিক যোগাযোগের মাধ্যমে তা সহজেই নিষ্পত্তি করা যায়।
- মিতব্যয়ী (Economy): মৌখিক যোগাযোগের জন্য কাগজ, কালি, কলম শ্রমনির্ভর যন্ত্রপাতি বাবদ প্রতিষ্ঠানকে কোনো খরচ করতে হয় না। এতে সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যয় কমে আসে।
তাই বলা যায়, যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য হলো তথ্য বা সংবাদ গ্রাহকের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। এ উদ্দেশ্যে মৌখিক যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
Content added By
Read more