সমন্বয়সাধনের গুরুত্ব (৯.৫)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - এইচএসসি | NCTB BOOK

12

Importance of Coordination

সমন্বয়সাধন হলো প্রাতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম একযোগে লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার একটি কৌশল বিশেষ। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে সুষ্ঠু সমন্বয় একান্ত জরুরি। নিচে সমন্বয়সাধনের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো-

  • ঐক্য ও ভারসাম্য সৃষ্টি (Creating unity and balance): প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজনীয়। আর ব্যক্তি ও বিভাগীয় পর্যায়ের কাজ এবং প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণের মধ্যে সুসংহতি, ঐক্য ও ভারসাম্য না থাকলে কাজে ছন্দপতন ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
  • দলীয় প্রচেষ্টা জোরদারকরণ (Strengthening group effort): ব্যক্তি ও দলগত প্রচেষ্টাকে জোরদার করা হলো
    সমন্বয়ের মূল কাজ। বিক্ষিপ্ত আকারে বা আলাদাভাবে কাজ না করে দলীয়ভাবে সরার প্রচেষ্টা সমন্বিত করতে হবে। এতে সার্বিক কাজ সম্পাদনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। কর্মীরা নিজ আগ্রহ বা ইচ্ছায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে মিলেমিশে কাজ করলে প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো উদ্দেশ্য অর্জন সহজ হয়।
  • কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি (Increasing the morale of employees): কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর জন্য সমন্বয়সাধন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে সর্বত্র শৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হলে কর্মীরা সর্বোচ্চ কার্য-সন্তুষ্টি অর্জন করে। এতে কর্মীদের মনোবল বেড়ে যায়।
  • অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি (Creating favourable working environment): সব কাজে সংহতি ও ভারসাম্য রক্ষা, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক সহযোগিতা সমন্বয়ের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এতে প্রতিষ্ঠানে অনুকূল কাজের পরিবেশ বজায় থাকে, কর্মীরা স্বচ্ছন্দ্যে কাজ করে ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
  • মতৈক্য সৃষ্টি (Creating unity of opinion): প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন মতাদর্শের লোক থাকে। তাই প্রতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়। সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের মধ্যে মতৈক্য তৈরি করা যায়। ফলে বিরোধ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত ভুলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে আত্মনিয়োগ করে।
  • ব্যবস্থাপকীয় কাজে যোগসূত্র স্থাপন (Bridging within managerial functions): ব্যবস্থাপকীয় সব কাজের সারবস্তু হলো সমন্বয়। ব্যবস্থাপনার অন্য সব কাজের মধ্যে সমন্বয়ের উপস্থিতি আছে। আর পরিকল্পনা তৈরি, সংগঠিতকরণ, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে সমন্বয়সাধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে সব কাজ একযোগে লক্ষ্য অভিমুখে পরিচালিত হতে থাকে।
  • দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (Increasing efficiency and productivity): প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যেকেই যার যার দায়িত্ব সময়মতো সঠিকভাবে করতে সচেষ্ট থাকে। এতে শ্রম, অর্থ, সময় অন্যান্য উপকরণের সঠিক ব্যবহার হয় এবং কর্মীদের কর্মক্ষমতা বাড়ে। ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাও বেড়ে যায়।
  • সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি (Creating cordial relationship): কখনো কখনো ব্যক্তিস্বার্থ প্রাতিষ্ঠানিক তথা বৃহত্তর স্বার্থের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। দুর্বল ব্যবস্থাপকীয় তদারকির কারণে কর্মীদের মধ্যে অলসতা, অযোগ্যতা, অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি দেখা দেয়। এতে কর্মীরা প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুগত থাকে না। এ অবস্থায় সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের প্রয়োজনকে একই ধারায় প্রবাহিত করা যায়।

সুতরাং বলা যায়, সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজকে একই ধারায় প্রবাহিত করে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের দিকে সবাইকে এগিয়ে নেওয়া যায়।

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...