Features/Characteristics of Coordination
প্রতিষ্ঠানের সব কাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তা সমানভাবে এগিয়ে নেওয়ার সমন্বিত কর্মকৌশল হলো সমন্বয়। সমন্বয়সাধনে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়-
- লক্ষ্যকেন্দ্রিক (Goal oriented): সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগ, উপবিভাগ ও কাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের কাজকে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকেই ধাবিত করার জন্য সমন্বয়সাধন করা হয়। তাই সমন্বয় সর্বদাই লক্ষ্যকেন্দ্রিক হয়ে থাকে।
- ভারসাম্য রক্ষা (Maintaining balance): প্রাতিষ্ঠানিক সব কাজ সমানভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের
বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগ-উপবিভাগের কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সমন্বয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এতে কাজের ছন্দপতন রোধ করা যায় এবং কাজ ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্নভাবে করা সম্ভব হয়। - ঐক্য (Unity): সমন্বয় প্রচেষ্টা ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এর সাহায্যে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কাজ এবং প্রত্যেক কর্মীর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সমগ্র অংশের সাথে সুসংহত করে ঐক্য তৈরি করা হয়।
- দলীয় প্রচেষ্টা (Group effort): সমন্বয়সাধনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো দলীয় বা সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করা। এতে ব্যক্তিক কাজে বিশেষ খেয়াল রাখতে হয় না। দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে জটিল কাজ অনেক সহজ হয়ে যায় এবং সর্বাধিক ফল অর্জিত হয়। দলীয় প্রচেষ্টাকে সুশৃঙ্খল করার বিভিন্ন কৌশল সমন্বয়সাধনের মধ্যে থাকে।
- সময়কেন্দ্রিক (Time oriented): প্রতিটি কাজ যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয় তা সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য সহজে এবং সময়মতো অর্জন করা সম্ভব হয়।
- একীভূতকারী (Unifier): সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ-উপবিভাগ ও ব্যক্তির প্রচেষ্টাকে একীভূত করা হয়। ফলে সহজেই প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন করা যায়।
- দিকনির্দেশনা প্রদান (Providing guideline): প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কাজগুলো নিজস্ব ধারায় চলতে থাকে। তবে কীভাবে করলে কাজটি সুসম্পন্ন হবে, সমন্বয় প্রক্রিয়া সেই দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। তাই, এটি একটি নির্দেশনামূলক কাজ, যা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
- যোগসূত্র স্থাপনকারী (Bridging): সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের একটি কাজের সাথে অন্য কাজের, এক ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির এবং এক বিভাগের কাজের সাথে অন্য বিভাগের কাজের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়।
- নিয়ন্ত্রণ সহযোগী (Assistance to control): সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র স্থাপন করলে বিচ্যুতির পরিমাণ কমে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য অনেকাংশেই অর্জিত হয়ে যায়। তাই দেখা যায়, সমন্বয়সাধন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কাজে সহায়তা করে থাকে।
- অবিরাম প্রক্রিয়া (Continuous process): প্রতিষ্ঠানের সব কাজে সমন্বয়সাধন পর্যায়ক্রমে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে কার্যকর থাকতে হয়। তাই সমন্বয়কে অবিরাম বা নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গতিশীলতা বৃদ্ধিকারী (Increasing dynamism): সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে কর্মীদের মাঝে সহযোগিতামূলক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে উদ্যম ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করে। এতে বিভিন্ন বিভাগ-উপবিভাগের কাজের মধ্যে গতি আসে।
উপসংহারে বলা যায়, ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে সব কাজকে সুসংহত করে ব্যক্তিক, দলীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনকে ত্বরান্বিত করে।
Content added By
Read more