hsc

পাঠ-৭ব্যবহারিক: বৃষ্টিমাপক যন্ত্র

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.1k

(Practical: Rain Gauge)

বৃষ্টিপাত (Rainfall): মেঘ অধিক শীতল হলে ভাসমান জলকণার কিছু অংশ বরফ কণায় পরিণত হয়। এরপর জলকণা বরফকণার চারদিকে জমে বরফকণার আকৃতি ও ভর বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বরফকণাগুলো পৃথিবীর দিকে নেমে আসে। এগুলো পৃথিবীর নিকটবর্তী উচ্চ বায়ুচাপে পৌছে জলবিন্দুতে পরিণত হয়ে বৃষ্টিরূপে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। এরূপ এক সাথে বহু জলকণার ভূপৃষ্ঠে পতনকে বৃষ্টিপাত বলে।

বৃষ্টিমাপক যন্ত্র (Rain Gauge): যে যন্ত্রের সাহায্যে বৃষ্টির পানি মাপা হয় তাকে বৃষ্টিমাপক যন্ত্র বলে। এ যন্ত্রের
সাহায্যে সহজেই বৃষ্টির পরিমাণ জানা যায়। বৃষ্টিমাপক যন্ত্রে সাধারণত ১২.৫ সেন্টিমিটার ব্যাসযুক্ত একটা বেলনাকার পাত্রের (Cylinder) মুখে একই ব্যাসযুক্ত একটি ফানেল বসানো থাকে। ফানেলটি পাত্রের ভিতরে এমনভাবে বসানো থাকে যে, বৃষ্টির পানি ফানেলের মধ্য দিয়ে এক বিন্দুও নষ্ট না হয়ে বেলনাকার পাত্রের ভেতরে রক্ষিত বোতলের মধ্যে গিয়ে সঞ্চিত হয়। নির্দিষ্ট সময় পরে বোতলটিতে যে পরিমাণ পানি সঞ্চিত হয় তা একটি দাগ কাটা কাঁচের পরিমাপক পাত্রে ঢেলে মাপা হয় এবং তা হতেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।

ফানেলের মুখের ক্ষেত্রফল যদি বৃষ্টিমাপক যন্ত্রের ক্ষেত্রফলের ৫ গুণ হয়, তা হলে কাচপাত্রে ১২.৫ সেন্টিমিটার পরিমাণ উঁচুতে পানি উঠলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে ১২.৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোনো কোনো বৃষ্টিমাপক যন্ত্রের বেলনাকার পাত্রের ও ফানেলের ব্যাস ২০.৩২ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। সাধারণত অধিকাংশ বৃষ্টিমাপক যন্ত্রের বেলনাকার পাত্র ও ফানেলের ব্যাস সমান হয়ে থাকে। এ জাতীয় যন্ত্রকে সাইমনের বৃষ্টিমাপক যন্ত্র (Symon's Rain Guage) বলা হয়।

বৃষ্টিমাপক যন্ত্রটি সাধারণত সমতল ভূমিতে ফাঁকা জায়গায় বসাতে হয়। কারণ বৃক্ষ বা কোনো বাড়ি থাকলে পাত্রে স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টির পানি জমতে পারে না। ফানেলের মুখে বৃষ্টির পানি যাতে অন্য কোনো উপায়ে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য ভূমি হতে ফানেলের মুখটি প্রায় ৩০ মিটার উঁচুতে স্থাপন করা হয়। ভূমিতে গর্ত করে পাকা গাঁথুনি করে যন্ত্রটি বসানো হয়ে থাকে।

বৃষ্টি মাপার প্রক্রিয়া (Process of measuring Rain): বৃষ্টি মাপার জন্য অতি সাবধানে ফানেলটি উঠিয়ে ভিতরের
বোতলটি বের করতে হয়। তারপর দাগ কাটা পরিমাপক পাত্রটি একটি বেসিনের (basin) ভেতর রেখে বোতলের পানি আস্তে আস্তে তার মধ্যে ঢালতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে এক বিন্দু পানিও যাতে নষ্ট না হয়। এছাড়া পরিমাপক পাত্রটি প্রথমেই পরিষ্কার করে নিতে হয়। কারণ অপরিষ্কার থাকলে তার গায়ে দুই এক বিন্দু পানি লেগে থাকতে পারে। পরিমাপক যন্ত্রে পানি ঢালার পর তা বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে খাড়াভাবে ধরে খাঁজ বরাবর রেখে পাঠ নিতে হয়।
সতকর্ততা: বৃষ্টি মাপায় যাতে ভুল না হয় সে জন্য একবার বৃষ্টি মাপার পর ঐ পানি ফেলে না দিয়ে যত্ন করে রেখে দিতে হয় এবং প্রয়োজন হলে তা পুনরায় মেপে ভুল সংশোধন করা যায়।

জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন-ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...