(Classification of Rural Hat)
ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি যে, গ্রামীণ হাট সাধারণত সপ্তাহের এক বা দুইদিন বসে। তবে গ্রামীণ মানুষের চাহিদা এবং পচনশীল পণ্যের সংরক্ষণের কথা বিবেচনা করে কোথাও কোথাও পণ্যের এই ক্রয়-বিক্রয় সপ্তাহের প্রতিদিন হয়। মূলত সপ্তাহে কতদিন পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হয় তার ওপর ভিত্তি করে গ্রামীণ হাটকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ক. সাপ্তাহিক হাট; ও খ. প্রাত্যহিক বাজার।
ক. সাপ্তাহিক হাট: যে সমস্ত গ্রামীণ-হাট সপ্তাহে মাত্র একদিন অথবা সর্বোচ্চ দুইদিন বসে তাকে সাপ্তাহিক হাট বলে। সাপ্তাহিক হাট সাধারণত দুপুর থেকে বসতে শুরু করে এবং অনেক রাত পর্যন্ত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় চলে। তবে দুপুর দুইটার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বাধিক লোকের সমাগম ঘটে। বাংলাদেশে সপ্তাহে দুইদিন বসে এমন হাটের সংখ্যা বেশি এবং এগুলো আকারে অনেক বড় হয়ে থাকে।
বৈশিষ্ট্য: সাপ্তাহিক হাটের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
i. সপ্তাহের নির্দিষ্ট এক বা দুই দিন বসে;
ii. স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, এমন স্থানে এ হাট গড়ে ওঠে-
iii. আকারে অনেক বড় হয়ে থাকে;
iv. পাইকারি ও খুচরা পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়;
v. অনেক দূর-দূরান্ত থেকে লোকের সমাগম হয়; এবং
vi. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সাথে এ হাট সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
খ. প্রাত্যহিক বাজার: কোনো গ্রামীণ রাস্তার পাশে অথবা বড় কোনো বৃক্ষের নিচে অথবা কোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে যখন সপ্তাহের প্রতিদিন সীমিত পরিসরে পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয় তখন তাকে প্রাত্যহিক বাজার বলে। অল্প সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি থাকে বলে এই ধরনের বাজার আকারে ছোট হয়। গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যই বাজারে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। এখানে বিক্রেতাদের কোনো নির্ধারিত বা স্থায়ী দোকান নাও থাকতে পারে।
বৈশিষ্ট্য: প্রাত্যহিক বাজারের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
i. গ্রামীণ রাস্তার পাশে গড়ে ওঠে;
ii.. গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার কথা মাথায় রেখে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়;
iii. প্রধানত পচনশীল পণ্যদ্রব্য (যেমন- মাছ, শাকসবজি প্রভৃতি) কেনাবেচা হয়;
iv. কোনো স্থায়ী দোকান ঘর থাকে না। এমনকি অনেক দোকানে কোনো ছাউনিও থাকে না;
v. সাধারণত সকালে শুরু হয় এবং দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়; এবং.
vi. মহাসড়কের পাশে যে সমস্ত বাজার অবস্থিত সেই সমস্ত বাজার যাত্রীদের চাহিদার কারণে অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে।
বসতি (Settlement) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই
Read more