hsc

পাঠ-১: বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.4k

(Transport and Communication System of Bangladesh)

বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র আয়তনের দেশ। এদেশের অধিকাংশ স্থান সমতল। অসংখ্য নদী জালের মতো এদেশকে জড়িয়ে আছে। এ কারণে স্বাধীনতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ আজ থেকে ৪০/৫০ বছর পূর্বেও জলপথই ছিল বাংলাদেশের অধিবাসীদের যাতায়াতের প্রধানতম মাধ্যম। কিন্তু পরবর্তীকালে এদেশের অন্যতম প্রধান নদী পদ্মার উজানে বাঁধ নির্মাণসহ অন্যান্য নদীতে নানাবিধ স্থাপনা স্থাপন করার ফলে এবং সময়মতো ড্রেজিং না করায় অধিকাংশ নদ-নদী আজ মৃতপ্রায়। অপরদিকে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন উন্নতমানের রাস্তা নির্মাণ ও যানবাহনের আধিক্যের কারণে সড়কপথ এদেশবাসীর কাছে যাতায়াতের প্রধানতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে সকল বিভাগীয় জেলা শহর তো বটেই, এমনকি প্রায় সকল উপজেলা সদরেও উত্তম সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে।

সড়ক পরিবহন বাংলাদেশে স্থলপথে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। সড়কপথ ছাড়াও স্থলপথে রেলপথ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। যদিও বাংলাদেশে রেল ব্যবস্থা তেমনভাবে বিকাশ লাভ করেনি। দ্রুত যাতায়াতের জন্য আকাশপথ খুব কার্যকর হলেও অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় বাংলাদেশে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে পরিবহনের এই মাধ্যম খুব বেশি ব্যবহৃত হয় না।

নিচে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন রকম পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করব-

১. স্থলপথ: বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থলপথের ভূমিকা সর্বাধিক। নতুন নতুন রাস্তা-ঘাট নির্মাণ এবং আরামদায়ক গাড়ি ব্যবহার মানুষকে যাতায়াতে স্থলপথ ব্যবহারে অধিক উৎসাহী করে তুলছে। বাংলাদেশে স্থলপথের পরিবহন ব্যবস্থা আবার ২ ধরনের যথা- সড়কপথ এবং রেলপথ।
১.১. সড়কপথ: স্থলপথের মধ্যে সড়কপথ আমাদের দেশের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সকল জেলার সকল উপজেলা পাকা সড়ক দ্বারা সংযুক্ত। এ দেশের যেকোনো অঞ্চল থেকে গড়ে ৫ কি.মি এর মধ্যে কোনো না কোনো রাস্তা পাওয়া যায়। তবে দুঃখের বিষয় এই যে, এ দেশের সড়কপথ পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেনি। অধিকাংশ সড়কপথ স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাদের দেশে ৩,৯০৬ কি.মি জাতীয় মহাসড়ক ৪,৪৮৩ কি.মি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৩,২০৭ কি.মি জেলা সড়কসহ সর্বমোট ২১,৫৯৬ কি.মি. সড়কপথ বিদ্যমান আছে। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে দেশের প্রায় সর্বত্র যাওয়া যায়।

১.২.রেলপথ: বাংলাদেশে স্থলপথে যাতায়াতের অন্যতম, গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো রেলপথ। সারা বিশ্বে রেল যাতায়াতের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও বাংলাদেশে রেলপথ তেমন বিকাশ লাভ করেনি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২৯৫৫.৫৩ কি.মি রেলপথ আছে। এদেশের রেলপথ আবার তিন শ্রেণির। ১ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট রেলপথ মিটারগেজ ও ১.৬ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট রেলপথ ব্রডগেজ নামে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে ডুয়েলগেজ রেলপথ। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪১০ কি.মি ডুয়েলগেজ রেলপথ আছে। পূর্বে যমুনা নদীর কারণে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার ফলে এখন সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। ২০১৬ সালে রেলওয়ের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ২০ বছর মেয়াদি একটি মাস্টার প্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে। ২,৩৩,৯৪৪.২১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি আধুনিক গণপরিবহন মাধ্যমে পরিণত হবে।

২. নদীপথ: বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের সর্বত্র অসংখ্য নদী জালের ন্যায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নদীপথে পণ্য যাত্রী পরিবহন সবচেয়ে সস্তা। বাংলাদেশে অসংখ্য খাল-বিল ও নদী মিলে প্রায় ৮,৪০০ কি.মি দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ আছে। এর মধ্যে প্রায় ৩,০০০ কি.মি জলপথ কেবলমাত্র বর্ষা মৌসুমে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলের নদীগুলো নৌ চলাচলের বেশি উপযোগী। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২১ টি লঞ্চঘাট ও ৪২ টি ফেরিঘাট আছে। এদেশের অসংখ্য বন্দরের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোয়ালন্দ, বরিশাল, খুলনা, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, আরিচা, আজমিরিগঞ্জ, মোহনগঞ্জ প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। এই সমস্ত জলপথে প্রতিনিয়ত অসংখ্য লঞ্চ, স্টিমার, সি-ট্রাক, কার্গো, ট্রলার, দেশীয় নৌকা প্রভৃতি যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে থাকে।

৩. বিমান পথ: দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত যাতায়াতের জন্য একমাত্র মাধ্যম হলো বিমান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার নাম 'বাংলাদেশ বিমান'। দেশে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের বিমান সার্ভিস চালু আছে। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো হলো: (১) তেঁজগাও বিমানবন্দর, ঢাকা (২) শাহ মাখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহী (৩) ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, পাবনা (৪) যশোর বিমানবন্দর (৫) সৈয়দপুর বিমানবন্দর, নীলফামারী (৬) কক্সবাজার বিমানবন্দর (৭) বরিশাল বিমানবন্দর।
অভ্যন্তরীণ সার্ভিসে বিমানে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর প্রভৃতি স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করা যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। (১) হযরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা, (২) ওসমানী বিমান বন্দর, সিলেট এবং (৩) হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম। এই সমস্ত বিমানবন্দরের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে থাকে। বর্তমানে আমাদের দেশে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিমানের পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি সংস্থার বিমানও চলাচল করে।

পরিবহন ও যোগাযোগ-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও
নিচের উদ্দীপকটি দেখ এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...