পাঠ-৬: রেলপথ

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.2k

(Railway)

বিশ্বব্যাপী যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে রেলপথ। তবে নানাবিধ কারণে (যেমন- দেশের সর্বত্র রেল' যোগাযোগ গড়ে ওঠে নি) বাংলাদেশে পরিবহন ব্যবস্থায় রেলপথ নির্ভরশীলতার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেনি। এদেশে রেলপথ খুব বেশি বিস্তৃত না হলেও এদেশে রেলের ইতিহাস যথেষ্ট প্রাচীন। ১৮৬২ সালে বৃটিশ আমলে 'ইস্টার্ণ বেঙ্গল রেলওয়ে'র ব্যবস্থাপনায় ৫৩.১১ কি.মি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি র্যেন্ত রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে এই দেশ রেল যুগে প্রবেশ করে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের প্রায় ২,৭০৬ কি.মি রেলপথ নিয়ে সাবেক 'পূর্ব পাকিস্তান' রেলওয়ে গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যা 'বাংলাদেশ রেলওয়ে' নামে বাংলাদেশের রেলপথ সংক্রান্ত সবকিছু দেখাশোনা ও নিয়ন্ত্রণ করছে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব ও সুলভ গণযোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মাণের প্রত্যয়ে রেল যোগাযোগকে নির্ভরতার প্রতীক বানাতে সরকার ৪ ডিসেম্বর, ২০১১ স্বতন্ত্র 'রেল মন্ত্রণালয়' সৃষ্টি করে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪৮৯টি রেলস্টেশন রয়েছে।

রেলপথের ধরন: রেলের দুইটি পাতের মধ্যবর্তী ব্যবধানের উপর ভিত্তি করে আমাদের দেশের রেলপথকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ব্রডগেজ, মিটারগেজ এবং ডুয়েলগেজ রেলপথ।

ক. ব্রডগেজ: রেলের দুটি পাতের মধ্যবর্তী ব্যবধান যদি ১.৬৮ (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) মিটার হয় তবে ঐ রেলপথকে ব্রডগেজ রেলপথ বলে। এই রেলপথের উপর চলাচলকারী রেলগাড়ি অনেক প্রশস্ত বলে চলাচল আরামদায়ক। যমুনা নদীর পশ্চিমাংশের জেলাগুলোতে অর্থাৎ বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে (রাজশাহী, পাবনা, যশোর, খুলনা) ব্রডগেজ রেলপথ চালু আছে। এদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৭৭ কি.মি ব্রডগেজ রেলপথ চালু আছে।
ব্রডগেজ রেলপথের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেলজংশন ও রেলস্টেশনের মধ্যে খুলনা, যশোর, দর্শনা, পোড়াদহ, ঈশ্বরদী, রাজশাহী, সান্তাহার, পার্বতীপুর, সৈয়দপুর প্রভৃতি প্রধান।

সারণি-৭.৩: বাংলাদেশের রেলপথের পরিমাণ

সালকিলোমিটার গমন পথইঞ্জিনগাড়ীর সংখ্যা
ব্রডগেজডুয়েলগেজমিটারগেজমোটডিজেলযাত্রীঅন্যান্য কোচওয়াগন
২০১৩-১৪৬৫৯৪১০১৮০৮২৮৭৭২৯৩১৪৭৬৩৩৯৭০১
২০১৪-১৫৬৫৯৪১০১৮০৮২৮৭৭২৮২১৪৮৪৩৩৯১৪৬
২০১৫-১৬৬৫৯৪১০১৮০৮২৮৭৭২৭৮১২১৮৩১৮৬৭৭
২০১৬-১৭৫৫৯৪১০১৮০৮২৮৭৭২৯৬১৩৮১৩১৮৮৯৭
২০১৭-১৮*৬৬৭৪৩৩১৮৪৬২৯৫৬২৭২১৫৭৭৫৩৮৬৮৯

সুত্র: বাংলাদেশ রেলওয়ে; (উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০১৯) * সাময়িক।

খ. মিটারগেজ: যে রেল লাইনের দুটি পাতের মধ্যবর্তী ব্যবধান থাকে ১ মিটার (১০০০ মি.মি.) সেই রেলপথকে মিটারগেজ রেলপথ বলে। যমুনা নদীর পূর্ব পাশের অর্থাৎ বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের (কুমিল্লা, সিলেট) জেলাগুলোতে মিটারগেজ রেলপথ বিদ্যমান। বাংলাদেশে মিটারগেজ রেলপথই সবচেয়ে বেশি এবং বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ১৮৩৮ কি.মি মিটারগেজ রেলপথ আছে।
মিটারগেজ রেলপথের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেলস্টেশন ও রেলজংশনের মধ্যে ঢাকার কমলাপুর, ভৈরব, ময়মনসিংহ, টঙ্গী, আখাউড়া, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম প্রভৃতি প্রধান।

গ. ডুয়েলগেজ: এটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি রেলপথ। পূর্বে যমুনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে পৃথক রেলপথ থাকায় সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের রেলগাড়ি চলাচল করত। এক রেলপথের গাড়ি অন্য রেলপথে চলাচলে অযোগ্য ছিল বিধায় দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল না। ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর প্রভৃতি বড় বড় শহরের সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল না। যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মিত হওয়ায় দেশের উভয় অঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগের প্রধান বাধা অপসারিত হয়। পরবর্তীতে দুই ধরনের রেলপথের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য ব্রড ও মিটারগেজ রেলপথে দুই পাতের সাথে তৃতীয় একটি পাত যোগ করে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে এই ধরনের রেলপথে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ উভয় ধরনের রেলগাড়ি চলাচল করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪৩৩ কি.মি ডুয়েলগেজ রেলপথ আছে এবং এই রেলপথ আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রেলপথসমূহ:

(ক) ঢাকা টঙ্গী ভৈরব কুমিল্লা আখাউড়া লাকসাম ফেনী চট্টগ্রাম

(খ) ঢাকা টঙ্গীজয়দেবপুর ময়মনসিংহ

(গ) ঢাকাটঙ্গী ভৈরবআখাউড়া মৌলভীবাজার সিলেট

(ঘ) ঢাকা টঙ্গী ভৈরব কিশোরগঞ্জ

(ঙ) ঢাকা টঙ্গীজয়দেবপুর নেত্রকোনা

(চ) ঢাকা টঙ্গী জয়দেবপুর সিরাজগঞ্জ

(ছ) ঢাকা টঙ্গী জয়দেবপুর সান্তাহার রংপুর লালমনিরহাট

(জ) ঢাকা টঙ্গী জয়দেবপুর সান্তাহার সৈয়দপুর দিনাজপুর

(ঝ) ঢাকা টঙ্গীজয়দেবপুর ঈশ্বরদী পোড়াদহ দর্শনা যশোর খুলনা

(ঞ) ঢাকা নারায়ণগঞ্জ

(ট) চট্টগ্রাম লাকসাম আখাউড়া সিলেট

(ঠ) খুলনা যশোর ঈশ্বরদী রাজশাহী

(ড) খুলনা যশোর ঈশ্বরদী পার্বতীপুর সৈয়দপুর

(ঢ) খুলনা দর্শনা পোড়াদহ কুষ্টিয়া রাজবাড়ী দৌলতদিয়া

(ণ) চট্টগ্রাম লাকসাম চাঁদপুর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য

ব্রডগেজমিটারগেজডুয়েলগেজ
১.১.১.
২.২.২.
৩.৩.

পরিবহন ও যোগাযোগ-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...