জলজ বায়োম (পাঠ-৮)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

22

(Aquatic Biome)

স্থলভাগের বাইরে অর্থাৎ পৃথিবীপৃষ্ঠের জলময় বিন্যাসের বায়োমগুলোকে একত্রে জলজ বায়োম বলে। পানিতে দ্রবীভূত উপাদানের (লবণ) ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে জলজ বায়োম প্রধানত দুই প্রকার। যথা- মিঠা ও লবণাক্ত পানির বায়োম। বিভিন্ন প্রকার জলজ বায়োমগুলো হলো-

হ্রদ ও পুকুরের বায়োম

এমন জলাশয়ের আয়তন কয়েক মিটার থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। এদের গভীরতায়ও ব্যাপক পার্থক্য আছে। অনেক পুকুর বর্ষাকালে শুকিয়ে যায়। হ্রদের গভীরতা ব্যাপক (বৈকাল হ্রদ ৪৭৪২ ফুট) এবং তা স্থায়ী জলাধার। যেহেতু অন্যান্য জলাশয় থেকে হ্রদ ও পুকুর বিচ্ছিন্ন তাই এদের জীববৈচিত্র্য সীমিত। গভীর পুকুর এবং হ্রদগুলোতে আনুভূমিক অঞ্চল থাকে। যেমন-

i. লিটোরাল অঞ্চল: এটা হ্রদের কিনারার উষ্ণ অঞ্চল। এখানে বিভিন্ন প্রকার শৈবাল, মূলাবদ্ধ ও ভাসমান উদ্ভিদ জন্মে। প্রাণীদের মধ্যে স্নেইল, ক্লামস, পতঙ্গ, ক্রিস্টাশিয়ান, মাছ এবং উভচর থাকে। পতঙ্গের মধ্যে ড্রাগন ফ্লাই এবং মিজেস প্রধান। এখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো ডাহুক, সাপ ও কচ্ছপের খাদ্য।
ii. লিমনেটিক অঞ্চল: হ্রদের উপরের মুক্ত অঞ্চলকে লিমনেটিক অঞ্চল বলে। এই অঞ্চল আলোকিত এবং এখানে প্রধানত ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জুওপ্লাঙ্কটন থাকে। এছাড়া বেশ কিছু ক্ষুদ্রাকার মাছ এখানে থাকে। প্লাঙ্কটনের কারণে এ অঞ্চলটি খাদ্য শৃংখলে (food chain) বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
iii. প্রোফাণ্ড অঞ্চল: হ্রদের নিচে ক্ষীণ আলোকিত অঞ্চলকে বোঝায়। এই অঞ্চলের পানি ঠান্ডা এবং বেশি ঘন। এখানকার প্রাণীগুলো পরভোজী প্রকৃতির। এরা মৃতদেহ ভক্ষণ করে।

হ্রদ ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা বিভিন্ন ঋতুতে কমবেশি হয়। গ্রীষ্মকালে পৃষ্ঠদেশে ২২° সে. অথচ তলদেশে ° সে. হতে পারে। আবার শীতকালে পৃষ্ঠদেশে .০° সে. (বরফ) হতে পারে। উপর ও তলদেশের মাঝে থার্মোক্লাইন নামে একটি স্তর আছে যেখানে তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তন হয়। কোনো কোনো হ্রদে বছরে এক বা একাধিক বার উপর ও নিচের পানির মিশ্রণ ঘটে।

মহাসাগর ও সাগরের বায়োম

মহাসাগর, সাগর, মোহনা মিলে পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভাগ স্থান দখল করে আছে। এজন্য এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বায়োম এবং ইকোসিস্টেম। সাগরের লবণাক্ততা প্রায় ৩৫ পিপিএম এবং pH মান সাধারণত ৪। গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে পৃষ্ঠতলে পানির তাপমাত্রা ২৭° সে. ও মেরু অঞ্চলে ৩° সে.। পৃষ্ঠতলের তুলনায় তলদেশে পানির চাপ সহস্র গুণ বেশি। তাই উপরের স্তরের অনেক জীবই নিচের স্তরে বাঁচে না। নিচের স্তরে (সাগরের তলদেশে) ভিন্নমাত্রার জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। মোট কথা সমুদ্রের পানিরাশিতে ব্যাপক জীববৈচিত্র্য বিদ্যমান।

জীবমণ্ডল - তাপস কুমার মজুমদার স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...