(Rainfall and Causes of Rainfall)
সূর্যের উত্তাপে সৃষ্ট জলীয়বাষ্প উপরের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এলে সহজেই তা সম্পৃক্ত হয়। পরে ঐ সম্পৃক্ত বায়ু অতি ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়ে বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে জমাট বেঁধে মেঘের আকারে আকাশে ভাসতে থাকে। বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা কোনো কারণে আরও হ্রাস পেলে ঐ মেঘ ঘনীভূত হয়ে পানিবিন্দুতে অথবা বরফকুচিতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে তা ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। এভাবে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ অনুকূল পরিবেশে ভাসমান মেঘ ঘনীভূত হয়ে পানির ফোঁটা আকারে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে পতিত হলে তাকে বৃষ্টিপাত বলে। এটি কখনো প্রবল আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি আকারে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত সংঘটনের জন্য মূলত তিনটি বিষয় কাজ করে থাকে।
যেমন- i. বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি;
ii. জলীয়বাষ্পের ঊর্ধ্বগমন এবং
iii. ঊর্ধ্বাকাশে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া। এর ফলে মেঘ থেকে জলকণা সৃষ্টির মাধ্যমে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
সাধারণত এ বৃষ্টিপাত সংঘটনকে দু'ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে-
১. শীতল বৃষ্টিপাতের উৎপত্তি (Formation of cold rain) : সুইডিস আবহাওয়াবিদ টর বারজেরন এবং ওয়াল্টার ফিন্ডেইসেন (Bergeron-Findeisen)-এর মতে, মধ্য ও উচ্চ অক্ষাংশের শীতল বৃষ্টিপাত প্রায় ১৫০০ mm এর অধিক গভীর মেঘ থেকে হয়ে থাকে। এ সময় তাপমাত্রার পরিমাণ থাকে থেকে ৮০° সে.। এ মেঘে প্রচুর পরিমাণে জলকণা ও বরফের কেলাস (Crystal) থাকে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় বরফের কেলাসগুলো জলকণাগুলোকে যুক্ত করে বড় আকার ধারণ করে নিচে পড়তে থাকে। তাপমাত্রা একটু বৃদ্ধি পেলে কেলাসগুলো জলকণায় পরিণত হয়ে অনুকূল অবস্থায় শীতল বৃষ্টিরূপে পতিত হয়।
২. উষ্ণ বৃষ্টিপাতের উৎপত্তি (Formation of warm rain) : উষ্ণমণ্ডলে ভূপৃষ্ঠের জলভাগ থেকে প্রচুর পরিমাণ জলীয়বাষ্প রায়ুমণ্ডলে উত্থিত হয়। এই জলীয়বাষ্প ঘনীভবন প্রক্রিয়ায় বায়ুতে ভাসমান জৈব ও অজৈব কণিকাকে আশ্রয় করে জলকণায় পরিণত হয়। পরে বড় আকারের এই জলকণাগুলো বাতাসে ভেসে থাকতে না পেরে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে বৃষ্টিরূপে নিচে পতিত হয়।
জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই
Read more