(Currents of the North Indian Ocean)
১. সোমালি স্রোত (Somali current): দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের যে শাখা সোমালিয়ার উপকূল দিয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয় তা সোমালি স্রোত নামে পরিচিত।
২. গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোত (Summer monsoon current): সোমালি স্রোতের একটি বর্ধিত অংশ গ্রীষ্মকালে
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর পূর্বাভিমুখী হয়ে প্রথমে আরব সাগর ও পরবর্তীতে ভারতের পশ্চিম উপকূল ও শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ পার্শ্ব দিয়ে বঙ্গোপসাগরের উত্তরদিকে অগ্রসর হয়। বাংলাদেশের উপকূলের নিকট স্থলভাগের বাধার কারণে দক্ষিণে আন্দামানের দিকে ধাবিত হয়ে স্রোতটি এক পর্যায়ে ইন্দোনেশিয়ায় সুমাত্রার পশ্চিম পার্শ্বে নিরক্ষীয় স্রোতের সাথে মিলিত হয়।
৩. শীতকালীন মৌসুমি স্রোত (Winter monsoon current): প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের একটি
শাখা মালয় উপদ্বীপ (মালয়েশিয়া) ও ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে আন্দামান সাগরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে স্রোতটি বঙ্গোপসাগরে আসলে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু (ঐ এলাকায় যা শীতকালীন মৌসুমি বায়ু হিসাবে পরিচিত) দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোতের বিপরীত পথ বরাবর আরব সাগর ঘুরে সোমালিয়ার দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত অগ্রসর হয়। স্রোতটি শীতকালীন মৌসুমি স্রোত অথবা ভারত মহাসাগরীয় উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত হিসাবে পরিচিত। প্রকৃতপক্ষে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতই গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিপরীতমুখী গতিপ্রাপ্ত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষাকালের সূচনা করে।
৪. ভারত মহাসাগরীয় নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত (Equatorial counter currents of indian ocean): শীতকালীন মৌসুমি স্রোত সোমালিয়ার দক্ষিণ উপকূল দিয়ে পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে নিরক্ষরেখা বরাবর সোজা পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। সুমাত্রা দ্বীপের নিকট এটি বেঁকে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের সাথে মিলিত হয়। স্রোতটি ভারত মহাসাগরীয় নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত হিসাবে পরিচিত।

সুমদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা-প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর স্যার এর লেখা বই
Read more