(Factors of Tea Production)
চা পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়। চা মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ। স্বাভাবিকভাবে এ গাছ ৯ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাতা ও কুঁড়ি সংগ্রহের সুবিধার্থে চা গাছ ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার উঁচু থেকে ছেঁটে দেওয়া হয়। অতঃপর পাতা ও কুঁড়ি শুকিয়ে গুঁড়ো করে উষ্ণ পানি, সামান্য দুধ ও চিনির সাহায্যে পরিবেশন করা হয়। চা পানে শরীর ও মন সতেজ হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Camellia sinensis 1
অনুকূল নিয়ামক: চা বাগান তৈরির ৫ বছর পর থেকে নিয়মিতভাবে পাতা সংগ্রহ করা যায়। এভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর পাতা সংগ্রহ করা হয়। চা চাষ অর্থাৎ চা বাগান তৈরির উপযোগী নিয়ামকসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো
ক. প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহ:
১. জলবায়ু: উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ ও অধিক আর্দ্র জলবায়ু চা চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। চা গাছের বৃদ্ধিকালীন সময়ে তাপমাত্রা ২০° সে. অপেক্ষা বেশি হওয়া আবশ্যক। চা গাছ স্বল্প তাপমাত্রা সহ্য করতে পারলেও তীব্র শীত চা গাছের ক্ষতি সাধন করে।
২. বৃষ্টিপাত: নিরক্ষীয় এবং আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ু চা চাষের জন্য বেশি উপযোগী। যেসব এলাকায় বছরে ১২৫ থেকে ৬২৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এবং শুষ্ক ঋতু ক্ষণস্থায়ী হয়, সেখানে চা গাছের পাতা ও কুঁড়ি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৩. ভূপ্রকৃতি: সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬০০ থেকে ১২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পার্বত্য ঢালু অঞ্চলে চা বাগান গড়ে তোলা হয়। এরূপ অঞ্চল অপেক্ষাকৃত শীতল। সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হলেও চা গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকে না। চা বাগান তৈরির জন্য এ ধরনের পরিবেশ একান্ত প্রয়োজন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা চা গাছের পাতার গুণগত মানকে প্রভাবিত করে। যেমন- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২০০ মিটার এবং তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থিত বাগান থেকে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের চা পাতা সংগ্রহ করা হয়।
৪. মৃত্তিকা: নাইট্রোজেনযুক্ত কিছুটা অম্লধর্মী মৃত্তিকা চা গাছ জন্মানোর পক্ষে বিশেষ উপযোগী। লৌহ মিশ্রিত এবং আগ্নেয় ভস্মযুক্ত মৃত্তিকাতেও চা গাছ জন্মাতে পারে।
খ. আর্থ-সামাজিক নিয়ামকসমূহ:
১. সুলভ শ্রমের যোগান: চা বাগান তৈরি, চারা রোপণ, গাছের পরিচর্যা, নির্দিষ্ট সময় অন্তর পাতা ও কুঁড়ি সংগ্রহ প্রভৃতি কাজ কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করে। এসব কাজ যান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন করা সহজ নয়। কাজেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা বাগান গড়ে তোলার জন্য সুলভ শ্রমের যোগান থাকা আবশ্যক।
২. মৃত্তিকা ক্ষয়রোধ ও ছায়া সৃষ্টি: প্রখর সূর্য কিরণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চা গাছের পাতা ও কুঁড়ি রক্ষা এবং সজীব রাখার জন্য চা বাগানে ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়। এই বৃক্ষগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, বাগানের মৃত্তিকার ক্ষয়রোধ সম্ভব হয়।
কৃষি
৩. চারা তৈরি: চা বাগানের জন্য বিশেষ যত্ন সহকারে চারা তৈরি করা হয়। এ জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশল দক্ষতা সহকারে কাজে লাগানো হয়। বাগানের বিকাশ সময়মতো ভালো জাতের চা গাছের চারা প্রাপ্তির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।
৪. সার ও কীটনাশকের যোগান: চা বাগানের মৃত্তিকায় নাইট্রেট এবং অন্যান্য উপাদানের ঘাটতি পূরণে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষার জন্য কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। এসবের যোগান চা বাগানের স্বাভাবিক বিকাশকে প্রভাবিত করে থাকে।
৫. প্রক্রিয়াজাতকরণ: চা বাগান থেকে যথাসময়ে পাতা ও কুঁড়ি সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এ কাজে প্রচুর দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হয়।
৬. পরিবহন ও যোগাযোগ সুবিধা: চা বাগান থেকে পাতা সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাজারে প্রেরণ করা হয়। উন্নত সড়ক ও রেল পরিবহন এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এই প্রেরণ কার্যক্রমকে অনেক সহজ করে।
৭. পুঁজি: বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা বাগান গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট পুঁজি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।
৮. রপ্তানি সুবিধা: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ একটি অঞ্চলে চা বাগান সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
কৃষি (Agriculture)-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই
Read more