hsc

পাঠ-৩: দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.3k

(Current of the South Atlantic Ocean)

১. কুমেরু স্রোত (Antarctic current): প্রত্যয়ন বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে শীতল কুমেরু স্রোত সৃষ্টি হয়ে উত্তর-পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে স্রোতটির একটি শাখা ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে ও অপরটি আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়।

২. বেঙ্গুয়ালো স্রোত (Benguela current): কুমেরু স্রোতের যে শাখা আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে বেঙ্গুয়ালার
নিকট দিয়ে উত্তরে অগ্রসর হয় তা বেঙ্গুয়েলা স্রোত নামে পরিচিত। এই শীতল স্রোত ক্রমে উষ্ণ হয়ে পৃথিবীর আবর্তন ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর প্রভাবে পশ্চিমে বেঁকে যায়।

৩. দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত (South Equatorial current): বেঙ্গুয়েলা স্রোত যখন নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিয়ে সোজা পশ্চিমে অগ্রসর হয় তখন তা দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত নামে অভিহিত হয়। এই স্রোত দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলে ব্রাজিলের সেন্টরক অন্তরীপে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। একটি ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করে এবং অপরটি দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল দিয়ে প্রবাহিত হয়।

৪. ব্রাজিল স্রোত (Brazil current): দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের যে শাখা দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা উপকূল দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয় তা ব্রাজিল স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোত দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পৃথিবীর আবর্তনগতি ও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে আবার শীতল কুমেরু স্রোতের সাথে মিলিত হয়।

৫. ফকল্যান্ড স্রোত (Falkland current): দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে প্রধান স্রোতচক্রের চারটি স্রোত ছাড়াও কুমেরু স্রোতের একটি ক্ষুদ্র শাখা ফকল্যান্ড দ্বীপের নিকট দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ব্রাজিল স্রোতের সাথে মিলিত হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি ফকল্যান্ড স্রোত নামে পরিচিত।

উপরের আলোচনায় দেখা যায়, নিম্ন অক্ষাংশে শীতল পরিবেশে সৃষ্ট কুমেরু স্রোত চক্রাকারে ঘুরে পূর্বের স্থানে আসছে এবং এর নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে পশ্চিমা বায়ু, স্থলভাগের বাধা, পৃথিবীর আবর্তন ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু। তবে নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণতাজনিত পানিস্বল্পতা (ঘনত্বে ও পরিমাণে) মেরু অঞ্চলের উদ্বৃত্ত পানিকে আকৃষ্ট করছে। শীতল কুমেরু স্রোতটি মূলত এন্টার্কটিক অঞ্চল থেকে প্রশান্ত, আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগর এই তিন মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং প্রত্যেক মহাসাগরেই একটি করে উত্তরমুখী শাখা সৃষ্টি করে স্রোতচক্র সৃষ্টির কারণ হিসেবে কাজ করে। তাই শুধু নিরক্ষরেখার দক্ষিণ নয়, উত্তরাংশের স্রোতচক্র সৃষ্টিতেও এর অবদান অনস্বীকার্য।

সুমদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা-প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...