hsc

মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা ও স্ফীতি (পাঠ-৭)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

16

(Mid Oceanic Ridge and Rise)

মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা পৃথিবীর সকল মহাসাগরের তলদেশেই রয়েছে এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় শতকরা প্রায় ২৩ ভাগ এর অন্তর্ভুক্ত। এর কিছু অংশ সমুদ্রের মধ্যস্থল দিয়ে চলেছে যেমন, অসমতল মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা ও মধ্য ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরা। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্ফীতি (east pacific rise) দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সন্নিকটে অবস্থিত। এটি ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের নিকট উত্তর আমেরিকাকে অতিক্রম করে ক্যালিফোর্নিয়া অরিজিন সীমানায় পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে। কিছু আগ্নেয় দ্বীপ (যেমন, আইসল্যান্ড) মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরার অংশবিশেষ l

জেনে রাখো:
সক্রিয় অগ্ন্যুৎপাতের (active eruption) আগ্নেয়জাত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে শৈলশিরা অঞ্চলে দ্বীপ গঠন করে। যেমন- দক্ষিণ আটলান্টিকের অ্যাসেনসিয়ন দ্বীপ।

সমুদ্রের মধ্যে বহু স্বল্প উচ্চতর পাহাড় রয়েছে যেগুলো সমুদ্র তলদেশ থেকে ১০০০ মিটারেরও কম উঁচু। এখানে তলানি সঞ্চয়ের পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ার দরুন সমুদ্র তলদেশের বন্ধুরতা সম্পূর্ণভাবে ঢেকে যায় না।

বন্ধুর ও উচ্চ ভূমিরূপসম্পন্ন মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা গভীর সমুদ্রের তলদেশের ১ থেকে ৩ কি.মি.. (০.৬-১.৯ মাইল) পর্যন্ত উঁচুতে অবস্থিত। এটি সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ কি.মি. (৯০০ ১২০০ মাইল) পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত এবং কেন্দ্রে খাঁজযুক্ত গ্রস্ত উপত্যকা যা ২৫ থেকে ৫০ কি.মি. (১৫-৩০ মাইল) চওড়া ও ১ থেকে ২ কি.মি. (০.৬-১.২ মাইল) গভীর। এটি অসমতল পর্বত দ্বারা বেষ্টিত যার সবচেয়ে অগভীর চূড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ কি.মি. (১.২ মাইল) গভীরতার মধ্যে অবস্থান করে। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্ফীতি অনেক কম বন্ধুর। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় খাতের পূর্ব প্রান্তের নিকটে অবস্থিত। এটি মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা থেকে স্বতন্ত্র এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মিলিত আয়তনের সমান কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম উঁচু। এ স্ফীতি অঞ্চল পার্শ্ববর্তী সমুদ্র তলদেশ থেকে প্রায় ২ থেকে ৪ কি.মি. (১.২-২.৪ মাইল) উচ্চে অবস্থিত।

ভারত মহাসাগরে উচ্চ ভূপ্রকৃতির মধ্য ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরা লোহিত সাগরের মধ্য বরাবর এশিয়াকে আফ্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। দক্ষিণে মধ্য ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরার শাখা সক্রিয় মধ্যসাগরীয় শৈলশিরা ও স্ফীতির সাথে যুক্ত হয়ে এন্টার্কটিকাকে পরিবেষ্টিত করেছে। মাদাগাস্কারের নিকট শৈলশিরার একটি নিচু অংশের অবস্থানের ফলে আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে গভীর স্তরের পানির স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে।

ভগ্ন এলাকা (Fracture zone): সমুদ্র তলদেশ শত শত ভগ্ন এলাকা দ্বারা কর্তিত। এ অঞ্চলগুলো লম্বা ও সরু প্রায়
১০ থেকে ১০০ কি.মি. (৬ থেকে ৬০ মাইল) এবং অসমতল। ভূমিকম্পপ্রবণ এ অঞ্চলগুলো অনেক উঁচু-নিচু শৈলশিরায় গঠিত। কিছু শৈলশিরা প্রায় ৪,০০০ কি.মি. (২৪০০ মাইল) দীর্ঘ। ভগ্ন এলাকা মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরার কিছু অংশকে স্থানান্তরিত বা কর্তিত (curtail) করে থাকে।

ভগ্ন এলাকা মহাদেশের অভ্যন্তর পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে থাকে। পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ভগ্ন এলাকা হচ্ছে রোমানচে ভগ্ন এলাকা, যা নিরক্ষরেখার নিকট মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা থেকে ৯৫০ কি.মি. (৬০০ মাইল) স্থানচ্যুত হয়েছে। এটি বৃহৎ চ্যুতি গ্রুপের একটি অংশ। সম্পূর্ণ অঞ্চল প্রায় ১০০ কি.মি. (৬০ মাইল) প্রশস্ত গভীর উপত্যকা সমন্বয়ে গঠিত ও শৈলশিরার দ্বারা বিচ্ছিন্ন।

রোমানচে ভগ্ন এলাকা আটলান্টিক মহাসাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল যার গভীরতা প্রায় ৭,৯৬০ মিটার (২৬,১০০ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছে। মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার মধ্যে যে নিচু স্থান রয়েছে সেগুলো পশ্চিম আটলান্টিকের তলদেশের সাথে প্রায় বিচ্ছিন্ন পূর্ব আটলান্টিকের গভীর খাতের পানির প্রবাহ ঘটানোর গুরুত্বপূর্ণ প্রবাহ পথ।
ভগ্ন এলাকা হলো সিঁড়ির মতো পর্যায়ক্রমে উঁচু বন্ধুর ভূপ্রকৃতি ও সামুদ্রিক পর্বত বলয় এবং এগুলো প্রশান্ত মহাসাগরে বেশ কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। বহু চ্যুতির দ্বারা কর্তিত হয়ে সমুদ্রের তলদেশে ভগ্ন এলাকার সৃষ্টি হয়েছে।

বারিমণ্ডল - ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...