(Representation of Relief Features with the help of Contour Lines)
সমুদ্র সমতল থেকে সমান উচ্চতাবিশিষ্ট পাশাপাশি অবস্থিত বিভিন্ন স্থান সংযোজক কাল্পনিক রেখাকে সমোন্নতি রেখা বলে। সমতল কাগজের উপর অঙ্কিত মানচিত্রে ভূ-পৃষ্ঠের বন্ধুরতা দেখবার জন্য সমোন্নতি রেখা ব্যবহার করা হয়। সমোন্নতি রেখা সংবলিত মানচিত্র থেকে ভূমির বন্ধুরতা প্রদর্শনের জন্য বন্ধুর ভূমির পার্শ্বচিত্র বা পরিলেখ অঙ্কন করতে হয়।
সমোন্নতি রেখা থেকে পার্শ্বচিত্র বা পরিলেখ অঙ্কন পদ্ধতি: যে কাগজে সমোন্নতি রেখার চিত্র অংকন করা হয়েছে তার
নীচের দিকে সমব্যবধানে 'কখ'-এর সমান প্রয়োজনানুযায়ী কতিপয় সরলরেখা অঙ্কন করে এদের উচ্চতা (১০০, ২০০ ফুট প্রভৃতি) পার্শ্বে লিখতে হবে। অতঃপর 'কখ' রেখাকে সমোন্নতি রেখাগুলো যে বিন্দুতে ছেদ করেছে সেই বিন্দুগুলো থেকে সমকোণে নীচের দিকে রেখা বর্ধিত করে উচ্চতানুসারে বিভিন্ন রেখায় মিলিত করতে হবে। এখন উলম্ব ব্যবধানের স্কেল অনুযায়ী প্রত্যেক লম্ব থেকে সেই সব স্থানের সমোন্নতির পরিমাণ কেটে নিয়ে ঐ লম্বগুলোর শীর্ষবিন্দুগুলো যোগ করে যে বক্ররেখাটি পাওয়া যাবে এটিই ঐ স্থানের প্রস্থচ্ছেদ।
প্রস্থচ্ছেদ অঙ্কন করার সময় স্কেলের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। অনুভূমিক পরিমাণ মানচিত্রের স্কেল অনুযায়ী হবে এবং উলম্ব স্কেলও ঐ মাপে হবে। অবশ্য উলম্ব স্কেলকে প্রয়োজনবোধে সামঞ্জস্য রেখে ছোট বড় করা যায়।

(ক) চিত্রের 'কখ' রেখার সমান করে (খ) চিত্রে 'কখ' রেখা টানা হলো এবং এটি সমোচ্চতা রেখাসমূহ ও নদীকে যেসব বিন্দুতে ছেদ করেছে তাও নিচের চিত্রের 'কখ' রেখায় সংস্থাপন করা হলো।
ভূমিস্থ ছেদ বিন্দুগুলো হতে সেগুলোর উচ্চতায় অনুভূমিক রেখা পর্যন্ত লম্ব টানা হলো। এসব উলম্ব রেখা সেগুলোর উচ্চতাবোধক অনুভূমিক রেখাসমূহকে যেসব বিন্দুতে ছেদ করে সেগুলোকে একটি রেখা দ্বারা যুক্ত করলে পরিলেখ পাওয়া যায়।
পৃথিবীর গঠন - প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর এর লেখা বই
Read more