hsc

বাংলাদেশের নদীব্যবস্থায় সৃষ্ট ভূমিরূপ (পাঠ-১৮)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

15

(River Made Landforms in Bangladesh)

বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদী দ্বারা যেসব ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

১। ক্ষয়জাত ভূমিরূপ: বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যেও নিম্নগতি দেখা যায়। এ পর্যায়ে ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ কম হয়ে থাকে। তথাপি এখানে কিছু ক্ষয়জাত ভূমিরূপ দেখা যায়। যেমন-
ক) নদীসোপান : বাংলাদেশের অনেক নদীতে নদীসোপান ভূমিরূপ দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে। যেমন- ধলেশ্বরী, বানার, বংশী প্রভৃতি নদীতে এ ভূমিরূপ দেখা যায়।
খ) জলপ্রপাত: বাংলাদেশের বান্দরবান শহরের নিকটে শৈলপ্রপাত নামক স্থানে এবং মৌলভীবাজার জেলার মাধবকুন্ড এলাকায় জলপ্রপাত লক্ষ করা যায়।
গ) নদীছেদন: নদী যখন বাঁক সৃষ্টি করে প্রবাহিত হয় তখন নদী চলার পথে নরম শিলা কেটে প্রবাহিত হয়। ফলে অনেক সময় নদী বাঁকা পথ পরিহার করে সোজা পথে প্রবাহিত হয়। নদীর এ অবস্থাকে নদীছেদন বলে। বাংলাদেশের পদ্মা, যমুনা প্রভৃতি নদীতে এ ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।

২। সঞ্চয়জাতের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ: বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো ব্যাপকভাবে সঞ্চয়কার্যের ফলে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। যেমন-
ক) পাদদেশীয় পলল সমভূমি: বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার নদীসমূহ দ্বারা এ ধরনের ভূমিরূপ লক্ষ করা যায়।
খ) প্লাবন সমভূমি: বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী দ্বারা সঞ্চয়কাজের ফলে প্লাবন সমভূমি লক্ষ করা যায়। নদী যখন শেষ পর্যায়ে উপনীত হয় তখন এর বহন ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে বর্ষাকালে দুপাড় উপচে পানি প্রবাহিত হয়ে পলি সঞ্চিত হয়ে প্লাবন সমভূমির সৃষ্টি করে।
গ) নদীর বাঁক : বাংলাদেশের পদ্মা, যমুনা প্রভৃতি নদীতে এ ধরনের ভূমিরূপ লক্ষ করা যায়।
ঘ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ : বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ক্ষেত্রে এ ধরনের ভূমিরূপ লক্ষ করা যায়। এছাড়া বাংলাদেশের নদীব্যবস্থায় সৃষ্ট ভূমিরূপের মধ্যে প্রাকৃতিক বাঁধ, পশ্চাৎ জলাভূমি, বদ্বীপ প্রভৃতি অন্যতম।

নদী শাসন (River Training)

নদীর উপর মানুষ তার প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থাপনা সৃষ্টি করে। এভাবে নদীর উপর বাঁধ বা সেতু নির্মাণ করে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে নদী প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করা হলে একে নদীশাসন বলে। বাংলাদেশে নদীশাসন বলতে যেসব বাঁধ দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে তিস্তা বাঁধ। এই বাঁধ কৃষিকাজের সুফলের জন্য তৈরি করা হলেও এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার কারণে নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বিঘ্নিত হচ্ছে। তেমনি গঙ্গার উপর ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে যে নদীশাসন করছে তাতে বাংলাদেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বর্ষাকালে বাংলাদেশের পানির প্রয়োজন না হলেও ভারত থেকে নদী শাসিত এই ফারাক্কা বাঁধ বন্যার সৃষ্টি করে।
নদীশাসনের লক্ষ্য-

i. নদীর তরলদেশ ও তীরকে ক্ষয় বা ভাঙন থেকে রক্ষা করা।
ii. নদী প্রবাহকে নির্দিষ্ট খাতে ও দিকে রাখা।
iii. আশেপাশের ভূমি বা জমিকে বন্যামুক্ত রাখা।
iv. হাইড্রোলিক কাঠামো (স্রোতের গতি পানির পরিমাণ) ইত্যাদি ঠিক রাখা।
নদীশাসন কাজের যেসব ধরণ সাধারণত লক্ষ করা যায় সেগুলো হলো-
i. বাঁধ তৈরি, ii. নদী তীর রক্ষা, iii. গ্রোয়েন (groynes) নির্মাণ, vi. নদী খনন, v. তলদেশ রক্ষা।

ভূমিরূপ পরিবর্তন. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...